ষোড়শ আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক সম্মেলন এই বৃহস্পতিবারে রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে শুরু হতে চলেছে. এই সম্মেলনের অর্থাত্ “রাশিয়ার দাভোস” বলে আরও যাকে বলা হয়ে থাকে, তার অনুষ্ঠান সূচী এবারে অনেক বেশী করেই সংপৃক্ত. দেড় হাজারেরও বেশী অতিথি ও অংশগ্রহণকারী আসছেন এখানে – তাঁদের মধ্যে বিশ্বের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিত্বেরা, অর্থনৈতিক ও ব্যবসা সংক্রান্ত উচ্চপদস্থ কর্মীরা অংশ নেবেন বহু বাস্তব বিষয়ে বিশ্বমানের আলোচনার টেবিলে. তাদের মধ্যে রয়েছে – “ভরসা যোগ্য ভবিষ্যতের সৃষ্টি”, “রাশিয়ার কর্ম ক্ষমতা”, আর “উদ্ভাবনী কর্মের নেতৃত্বে” নামের আলোচনা সভা গুলি.

পিটার্সবার্গের ফোরাম আজ একটি প্রধান জায়গা হয়েছে বিভিন্ন দেশের রাজনৈতিক প্রশাসন ও ব্যবসার মধ্যে কথোপকথনের জন্যে, তার অনুষ্ঠানের তারিখ অনেক অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক উচ্চ পর্যায়ের লোকের কাজের ক্যালেণ্ডারে আগে থেকেই জায়গা করে নেয়. এবারের ফোরাম হবে “সফল নেতৃত্ব” নামের স্লোগান দিয়ে, যা বিশ্বের অর্থনীতির জন্য সবচেয়ে ঠিক স্লোগান হতে পারে এই মুহূর্তে. আর এই সফল নেতৃত্বই হবে এর পরিকল্পনা মূলক বৈঠকের অংশ, যেখানে বক্তৃতা দেবেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. নিজেদের অংশগ্রহণের কথা এই ফোরামে নিশ্চিত করেছেন অন্যান্য দেশের নেতারাও: পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারি ও ফিনল্যান্ডের রাষ্ট্রপতি সাউলি নিইনিস্ত, আরও প্রায় ২০ টি দেশ থেকে এখানে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীসভার সদস্যরা এখানে হাজির থাকবেন.

রাশিয়ার পক্ষ থেকে বেশ কয়েকটি আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে নিজেদের দেশকে বিষয় করে: রাশিয়া- ইউরোপীয় সঙ্ঘ ব্যবসা নিয়ে আলোচনা, রাশিয়া- ভারত, রাশিয়া- আরব বিশ্ব ইত্যাদি. এই সম্মেলনের মধ্যেই রাশিয়ার সরাসরি বিনিয়োগ তহবিল তাদের প্রথম কাজের ফলাফল জানাবে. সঙ্কট কালীণ রাশিয়ার অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য বিনিয়োগের দিকটি নিয়ে আলোচনা আজ সবচেয়ে বাস্তব বলে মনে করে “আলটেরা ক্যাপিটাল” নামক সংস্থার কার্যকরী সহকর্মী ভিয়াচেস্লাভ পিভোভারভ বলেছেন:

“এখানে কাজ রয়েছে অনেকটাই বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়ন করার – যে বিষয়ে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন. বিশ্ব ব্যাঙ্কের রেটিং অনুযায়ী প্রথম কুড়িটি দেশের মধ্যে থাকা. তারই সঙ্গে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ধরনের ব্যবসার উন্নতির জন্য উদ্যোগ নেওয়া ও তা দিয়ে আন্তর্জাতিক ব্যবসাকে গতিশীল করা এবং ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে যাতায়াতের জন্য রাশিয়া দিয়ে ট্রানজিটের সুবিধাকে লক্ষ্যণীয় করা”.

সফল নেতৃত্ব নামের বিষয় আলোচনা করে উন্নতিশীল দেশ গুলির ভূমিকা নিয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক ভাবে ব্রিকস দেশগুলির ক্ষেত্রে. আজকেই আঞ্চলিক ভাবে নেতৃস্থানীয় জায়গায় দাঁড়িয়ে এই দেশ গুলি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবে ভবিষ্যতে বিশ্বের নেতৃত্বের ভূমিকা নিতে সক্ষম, এই কথা উল্লেখ করেছেন রাশিয়ার “ভেতেবে ক্যাপিটাল” ব্যাঙ্কের বাঁধা আয়ের উপযুক্ত আর্থিক ব্যবস্থা সম্পর্কিত পরিকল্পনা নির্মাণ দপ্তরের প্রধান নিকোলাই পদগুজভ, তিনি বলেছেন:

“খুবই স্বাভাবিক যে, সেই সমস্ত দেশ গুলি যেমন, ব্রাজিল, রাশিয়া, চিন, ভারত, - এরা নতুন ধরনের অর্থনৈতিক কেন্দ্র. আর তাদের ভূমিকা, কোন সন্দেহ নেই যে, প্রতি বছরের সাথেই আরও বেশী করে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে. বিশ্বের অর্থনীতিতে রয়েছে খুবই গুরুতর ধরনের ভারসাম্যের অভাব, যা উন্নত দেশ গুলিতে খুবই বেশী করে ভোগ করা ও উন্নতিশীল দেশ গুলিতে প্রয়োজনের চেয়ে কম জিনিস থাকার জন্য. এই ধরনের ভারসাম্য হীনতার সমাধান শেষ অবধি উন্নতিশীল দেশগুলির ভূমিকাকে বাড়তে সাহায্য করবে ও ঐতিহ্য অনুযায়ী উন্নত বাজার গুলির ভূমিকা বিশ্বের অর্থনীতিতে কমে যাবে”.

পিটার্সবার্গের অর্থনৈতিক ফোরামের কাঠামোর মধ্যে পরিকল্পনা করা হয়েছে দশটিরও বেশী চুক্তি ও সমঝোতা পত্র বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বাক্ষর করার, তার মধ্যে জ্বালানী সংক্রান্ত, ব্যাঙ্ক ব্যবস্থা সংক্রান্ত ও উচ্চ প্রযুক্তির ক্ষেত্রে. এর আগে সেন্ট পিটার্সবার্গের রাজ্যপাল গিওর্গি পলতাভচেঙ্কো ঘোষণা করেছেন যে, সমস্ত চুক্তির সম্মিলিত মূল্য আগের বছরে স্বাক্ষরিত চুক্তি মূল্যের চেয়ে বেশী হবে ও তা হবে প্রায় দশ হাজার কোটি রুবল, মানে তিনশ তিরিশ কোটি ডলারের সমান.