ব্রিটেনে অলিম্পিকের আগুন নিয়ে দৌড় চলছে, যা দেশের ১০০০ টি শহর ও জনপদ দিয়ে করা হচ্ছে. এডিনবরা শহরের রাস্তা ও তার কাছের শহরতলি দিয়ে অলিম্পিকের মশাল বয়ে নিয়ে গিয়েছেন রাশিয়ার খেলোয়াড়রা, সাংবাদিকরা, ব্যাবসাদারেরা, যাদের মধ্যে ছিলেন আইস স্কেট ড্যান্সিংয়ে অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন তাতিয়ানা নাভকা ও বিখ্যাত ব্লগ লিখিয়ে ইভগেনি কাজলভ. নিজেদের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁরা গল্প করেছেন “রেডিও রাশিয়ার” কাছে.

স্কটল্যান্ড অলিম্পিক আগুনকে স্বাগত জানিয়েছে এবারে একেবারেই গরম কালের উপযুক্ত নয় এমন ঠাণ্ডা আবহাওয়া আর তার সঙ্গে আবার বৃষ্টি নিয়ে. কিন্তু হঠাত্ করেই যখন মশাল বাহকেরা তার রাজধানীর কাছে পৌঁছেছিল – এডিনবরা তে, তখনই সমস্ত মেঘ সরে গিয়েছিল. পুরনো সব রাস্তা দিয়ে সূর্যের আলোয় আলোকিত হয়ে দৌড়ের সময়ে খুবই ভাল লেগেছিল, কারণ এই রাস্তার দুই পাশে প্রায় সমস্ত শহরের লোকরাই সারি দিয়ে দাঁড়িয়ে স্বাগত জানাচ্ছিল. এই কথা বলে তাতিয়ানা নাভকা আরও যোগ করেছেন যে, “এটা ছিল আমার জীবনের একটা একেবারেই অবিশ্বাস্য ঘটনা – অলিম্পিকের আগুন নিয়ে মশাল বওয়া, সারা বিশ্বের থেকে ভালবাসা ও সমর্থনের অনুভূতি টের পাওয়া. এটা – বিশাল মর্যাদা, আর আমি শুধুই খুশী হয়েছি, যে আমাকে এর জন্য বাছা হয়েছে” – খেলোয়াড় এই মেয়ে আরও যোগ করেছেন:

“শহরের জন্য এটা ছিল একটা বিরাট বড় অনুষ্ঠান. আর সমস্ত লোকই, মশাল বাহকের পোষাকে মানুষকে দেখে, যার গায়ে লেখা ছিল লন্ডন – ২০১২, আনন্দে হেঁসে উঠেছিল. আর প্রত্যেকেই আমাদের ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিল, আর ফোটো তুলে রাখতে চেয়েছিল, যেন কোন একটা পবিত্র জিনিসের সংস্পর্শে এসেছে. আমাকে এই দৌড়ের পরে এই মশালটা উপহার দেওয়া হয়েছিল, যাতে এক সময়ে আগুন জ্বলেছিল. আর এখন সেটা আমার ফ্ল্যাটে আছে একটা দারুণ প্রতীক হয়ে”.

একই রকমের প্রতীক এখন রাশিয়ার ব্লগ লেখক ইভগেনি কাজলভ বাড়ীতে নিয়ে এসেছেন, তিনিও স্কটল্যান্ডে অলিম্পিকের মশাল রিলে দৌড়ে অংশ নিয়েছেন. তবে এটা সত্যি যে, তার জন্য এই মশাল হয়েছে তার নিজের জন্মদিনে সেরা উপহার, যা এই রিলে দৌড়ের আগে ইভগেনি পালন করেছিল. “আমি খুবই খুশী যে, স্কটল্যান্ডের রাস্তায় মশাল বহন করে দৌড়তে পেরেছি, আর সেই অনুভূতি, যা আমাকে সেই মুহূর্ত গুলিতে পরিপূর্ণ করেছিল, তা অন্য কিছুর সঙ্গেই তুলনার যোগ্য নয়”, - এই কথা বলে ইভগেনি যোগ করেছেন:

“যখন বাসে করে যাওয়া হচ্ছিল, তখন আমাদের মহাকাশচারী অথবা সুপার স্টারের মতো করেই লোকে স্বাগত জানিয়েছে. সমস্ত দর্শক হাত ও পতাকা নেড়েছিল, আমাদের সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল, বাস ছুঁয়ে দেখতে চেয়েছিল, যখন আমাদের নামান হয়েছিল দৌড়ের জন্য. সমস্ত অনুভূতি ছিল খুবই ইতিবাচক. আর যখন নিজের দৌড়ের সময়ের আগে পাঁচ- ছয় মিনিট অপেক্ষা করছিলাম, তখন সমস্ত বাসিন্দারা আমার কাছে দৌড়ে এসে মশাল সমেত ফোটো তুলেছিল”.

তাতিয়ানা নাভকা ও ইভগেনি কাজলভ ছাড়া অলিম্পিকের মশাল নিয়ে গ্রেট ব্রিটেনের শহর গুলিতে রিলে দৌড়ে অংশ নিয়েছিলেন রাশিয়ার পক্ষ থেকে আরও কয়েকজন. তাদের মধ্যে ২০১০ সালের ভ্যান্কুভার অলিম্পিকের ব্রোঞ্জ মেডেল জয়ী ও ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া আইস স্কেট বহু বিষয়ে এক সাথে প্রতিযোগিতা করা ইভান স্কোবরেভ, ভ্যান্কুভার অলিম্পিকের রুপো জয়ী স্নো বোর্ড খেলোয়াড় ইকাতেরিনা ইলিউখিনা আর তিন বারের অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া সিনক্রনিক সাঁতারের মারিয়া কিসেলেভা. তারা সকলেই এই খেলার উত্সবে অংশ নিতে পারা নিয়ে নিজেদের ভুলে না যাওয়ার মতো অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন.

সব মিলিয়ে অলিম্পিকের আগুন বয়ে নিয়ে যাওয়ার দৌড়ে গ্রেট ব্রিটেনে যোগ দিচ্ছেন আট হাজার লোক. আর তিরিশতম অলিম্পিক গেমসের খেলা শুরুর দিনে আগুন জ্বালানো মশাল টেমস নদী বেয়ে লন্ডনের অলিম্পিক ষ্টেডিয়াম অবধি নিয়ে আসা হতে চলেছে.