ব্রিকস দেশ গুলির নেতারা ঘোষণা করেছেন যে, ভারত, চিন, ব্রাজিল, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঞ্চয়ে আরও সাত হাজার পাঁচশো কোটি ডলার দিতে তৈরী. এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত “বড় কুড়িটি” অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের শীর্ষ সম্মেলনে. আশা করা হয়েছে যে, এই বৈঠকের পরিনাম হিসাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যা ইউরো এলাকার সঙ্কট থেকে বের হতে সাহায্য করবে ও বিশ্বের অর্থনৈতিক ব্যবস্থায় ভারসাম্য আনবে.

ব্রিকস দেশ গুলি নিজেদের সঙ্কট প্রতিরোধে আর্থিক বিনিয়োগের প্যাকেজ সম্বন্ধে ঘোষণা করেছেন বিশ্বের নেতৃস্থানীয় অর্থনীতি গুলির নেতৃত্বের বৈঠকের প্রাক্কালে. এর আগে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের প্রধান ক্রিস্টিন লাগার্ড ঘোষণা করেছিলেন যে, বাড়তি অর্থ তহবিলের প্রয়োজন, যাতে সাফল্যের সাথে ইউরো এলাকার অর্থনৈতিক সঙ্কটের মোকাবিলা করা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে ঋণের ভারে জর্জরিত.

ব্রিকসের দেশ গুলির নেতাদের বৈঠকের পরে স্পষ্ট হয়েছে যে, সবচেয়ে বেশী ইউরো এলাকার সঙ্কটের নিবৃত্তির জন্য অর্থ দিতে তৈরী আছে চিন – চার হাজার তিনশ কোটি ডলার. রাশিয়া, ভারত ও ব্রাজিল আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সঙ্কট বিরোধী তহবিলে দেবে এক হাজার কোটি ডলার করে, আর দক্ষিণ আফ্রিকা দুশো কোটি ডলার. এটা সেই সিদ্ধান্ত সূচক ভূমিকার কথাই উল্লেখ করেছে, যা “পাঁচটি” দেশ বিশ্বের অর্থনৈতিক প্রক্রিয়াতে বর্তমানে নিতে পারে, - এই কথা “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের ভাইস ডিরেক্টর সের্গেই লুজিয়ানিন উল্লেখ করে বলেছেন:

“ব্রিকস দেশ গুলির নিজেদের অর্থ জোগানের বৃদ্ধি বিষয়ে সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সহমতে আসার অর্থ হল এই প্রকল্পের জি- ২০ গোষ্ঠীর ভিতরে ও আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে গোষ্ঠীর রাজনৈতিক ভূমিকার বৃদ্ধি, আর তারই সঙ্গে সারা বিশ্বেও. জি- ২০ ফোরাম ও এগিয়ে আসা সঙ্কটের ঘটনা খুবই ভাল সুযোগ করে দিয়েছে ব্রিকস প্রকল্পের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ভূমিকা দেখিয়ে দেওয়ার”.

কিন্তু এই ব্রিকস দেশ গুলির জন্য ঘোষিত ব্যবস্থা – কোন রকমের দাতার ভূমিকা নেওয়া নয়, - এই কথা উল্লেখ করেছেন প্রফেসর লুজিয়ানিন. তারা ইউরোপের অর্থনীতিকে শুধু নিজেরাই উদ্ধার করতে তৈরী নয়, আর তার উপরে কিভাবে এই অর্থ খরচ করা হবে, তার থেকেও নিজেদের আলাদা করে রাখতে চায় না.

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের কোটা সময় মতো সংশোধন করা হলে তবেই এই অর্থ পাঠানো হবে, যা তহবিলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার বিষয়ে উন্নতিশীল দেশ গুলির প্রভাবকে বৃদ্ধি করবে. তাছাড়া, ব্রিকস গোষ্ঠীর ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, বাড়তি তহবিলের ব্যবহার তখনই করা যাবে, যখন বর্তমানে থাকা অর্থ অনেকটাই কমে যাবে.

রাশিয়ার ব্যাঙ্ক গুলির সংগঠনের সভাপতি গারেগিন তোসুনিয়ান মনে করেন যে, এই শর্ত খুবই যুক্তি সঙ্গত. এই ভাবেই আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাজ করে এসেছে, যাদের জন্য এই ধরনের অর্থ দান- এটা নিজেদের রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধির একটি উপায়, তাই তিনি বলেছেন:

“তারা প্রয়োজনীয় অর্থ দিয়েই নিজেদের প্রভাব খাটিয়ে এই সব অনুদানের একশ গুণ বেশী তুলে নিয়ে থাকে. তাই তারা সমস্ত বিশ্বকেই নির্দেশ দিয়ে থাকে, কি করে কাকে ব্যবহার করতে হবে ও এই ভাবেই নিজেদের মুদ্রাকে মজবুত করে থাকে, যা একমাত্র প্রভাব ছাড়া অন্য কিছু দিয়েই সমর্থিত নয়. সুতরাং এখানে প্রশ্নই মর্যাদার, দেশের প্রতিচ্ছবির ও বিশ্বের প্রক্রিয়া গুলিতে অংশ নেওয়ার”.

সেই সব দেশ যারা ব্রিকসের মধ্যে রয়েছে, তারা আপাততঃ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের রাজনীতিতে প্রভাবের বিষয়ে পাল্লা দিয়ে উঠতে পারছে না. তা স্বত্ত্বেও, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলকে বাড়তি অর্থ যোগানের সিদ্ধান্ত কে কখনোই কোন স্রেফ প্রযুক্তিগত সিদ্ধান্ত বলা যেতে পারে না. এটা বেশী করেই রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, যা এই বছরের বসন্ত কালে নয়া দিল্লীতে ব্রিকস গোষ্ঠীর শীর্ষবৈঠকের সময়ে ঘোষণা করা হয়েছিল. তখন ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চিন ও দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বের অর্থনীতির মূল বিষয় গুলি নিয়ে নিজেদের মত ব্যক্ত করেছিল. আর তার মধ্যে প্রধান ছিল- বিশ্বের একমাত্র বিনিময় মুদ্রা হিসাবে ডলারের একচেটিয়া আধিপত্য কি বজায় থাকা উচিত? আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের সংশোধন, যা করতে ব্রিকস দেশ গুলি আহ্বান করেছে, তা বিশ্বে একটা ন্যায় সঙ্গত আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক শৃঙ্খলা তৈরীর জন্য আহ্বান, যেখানে একটি মেরু হতে পারে না, যা কোন রকমের প্রতিযোগিতার ঊর্ধ্বে.