অর্থনৈতিক ভাবে শক্তিশালী বা “বড় কুড়িটি” দেশের সম্মেলন কোনও নতুন করে আরও একটি উচ্চ কোটির লোকদের ক্লাবে পরিণত হওয়া উচিত্ নয়, যারা খুবই স্বার্থপর ভাবে শুধু নিজেদের সদস্যদের কথাই ভাববে. সম্মিলিত ভাবে কাজ করার অর্থ হল – বিশ্বের অর্থনীতির স্থিতিশীল বিকাশের জন্য ন্যায় সঙ্গত নিয়মাবলী তৈরী করা. এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন একটি প্রবন্ধে, যা সোমবারে মেক্সিকোর এক সামনের সারির সংবাদপত্র “এল ইউনিভার্সাল” প্রকাশ করেছে. ১৮- ১৯শে জুন মেক্সিকোর লস- কাবোস শহরে বড় কুড়ি দেশের শীর্ষবৈঠক হতে চলেছে.

চার বছর আগে এক অভূতপূর্ব সঙ্কট, যা বিশ্বের অর্থনীতিকে টলিয়ে দিয়েছিল, তা দাবী করেছিল বিশ্বের নেতৃস্থানীয় রাষ্ট্র গুলির কাছ থেকে একেবারেই নতুন ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার. ইতিহাসে প্রথমবার সেই সমস্ত রাষ্ট্রের নেতৃত্ব, যারা বিশ্বের সামগ্রিক আভ্যন্তরীণ বার্ষিক উত্পাদনের শতকরা নব্বই ভাগ করে থাকে, তাঁরা দেখিয়েছিলেন সত্যিকারের ইচ্ছা ও অর্থনৈতিক রাজনীতিতে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগে কাজ করার ক্ষমতা. এই দিয়েই জি- ২০ এক বিশ্বমানের সম্মেলনে পরিণত হয়েছে, যেখানে অর্থনীতির সমস্যা ও বিনিয়োগের সমস্যা নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে, এই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. সঙ্কটের জটিল সময়ে এই “কুড়িটি” দেশের সিদ্ধান্তের ফলেই সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ গুলিকে সাহায্য করার ব্যবস্থা বাস্তবায়নের সম্ভাবনা হয়েছিল.

একই সঙ্গে সঙ্কটের পরিনাম এখনও দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. বেশীর ভাগ বিশ্বের দেশেই সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে, তাদের একটি বুদ্ধি সঙ্গত ভারসাম্য বের করতে হবে আয় একত্রিত করা, খুবই কঠোর বাজেট বরাদ্দের বিষয়ে নিয়মানুবর্তী হওয়া ও একই সঙ্গে কর্ম সংস্থান, অর্থনীতির বিকাশ এবং সামাজিক প্রশ্নাবলীর সমাধানের জন্য.

ব্যাঙ্ক গুলির সমস্যা সেই ধ্বসে পড়া বাজারই দেখিয়েছে যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক কাঠামো এখনও রয়েছে ভাল করে তৈরী না হওয়া অবস্থায়, এই মন্তব্য করছেন ভ্লাদিমির পুতিন বাস্তব দেখে. তারা এখনও পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পায় নি, সত্যিকারের জমা ও মূল্যবান সম্পদের সঙ্গে যোগ সাধন করতে পারে নি. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি প্রস্তাব করেছেন শেয়ারের কাগজের উপরে নতুন করে সুদের শেয়ার তৈরী করে কেনা বেচা নিয়ে নিয়ন্ত্রণ কঠোর করতে. সকলের স্বার্থের জন্যই নতুন ধরনের সঞ্চয় ও বিনিময় মুদ্রার বন্দোবস্ত করতে.

আলাদা করে ও খুবই বাস্তব বলে ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেছেন জি- ২০ দেশ গুলির পক্ষ থেকে দায়িত্ব সহকারে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ইনস্টিটিউট গুলির সংশোধন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালন করার প্রশ্ন কে, তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্ব ব্যাঙ্কও রয়েছে.

এই সমস্ত বিষয়ই জি- ২০ সম্মেলনের শীর্ষবৈঠকে আলোচিত হবে মেক্সিকোতে. এই গুলিই রাশিয়ার পক্ষ থেকে এই গোষ্ঠীতে সভাপতিত্বের সময়ে আগামী বছরে প্রাথমিক ভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে, তারই সঙ্গে গুরুত্ব পাবে বিশ্বের জ্বালানী নিরাপত্তার প্রশ্ন গুলিও.

রাশিয়ার সম্বন্ধে বলতে গিয়ে ভ্লাদিমির পুতিন উল্লেখ করেছেন যে, তাঁর দেশ বিগত বছর গুলিতে নিজেদের বাজেট – বিনিয়োগ ব্যবস্থাকে মজবুত করতে সক্ষম হয়েছে. দেশের অর্থনৈতিক বিকাশের হার – ৪, ৩ শতাংশ – যা ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি গুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশী. রাশিয়ার স্বর্ণ ও বিদেশী মুদ্রার সঞ্চয় এখন বিশ্বে তৃতীয় স্থানে রয়েছে. রাষ্ট্রের ঋণ – “বড় আট”, “বড় কুড়ি” ও ব্রিকস গোষ্ঠীর অর্থনৈতিক ভাবে উন্নত দেশের মধ্যে সবচেয়ে কম. একই সঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন স্বীকার করেছেন যে, দেশের আয়ের অনেকটাই খনিজ তেল ও গ্যাসের বাজারে ভাল অবস্থার সঙ্গে জড়িত. আর স্থিতিশীল বিকাশের জন্যে প্রয়োজন রাশিয়ার অর্থনীতির কাঁচামালের উপরে ভরসা কম করা.