আজকের দিনের দুনিয়ায় একেবারেই সমস্ত কিছু ভাল নয়. বিশ্বের অর্থনীতির ব্যবস্থা স্থিতিশীল নয়, সশস্ত্র বিরোধ চলছে, রাষ্ট্র গুলির মধ্যে রাজনৈতিক মত পার্থক্য পার হওয়া থেকে অনেক দূরে. এখনকার সবচেয়ে বেদনা দায়ক প্রশ্ন গুলির উত্তর খুঁজতে বিশ্বের বড় কুড়িটি দেশের নেতারা ১৮- ১৯শে জুন মেক্সিকোর লস- কাবোস জি ২০ শীর্ষবৈঠকে কাজ করবেন.

এটা জি ২০ কাঠামোর মধ্যে সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে সপ্তম বৈঠক. এর আগের শীর্ষ বৈঠক হয়েছিল গত বছরের নভেম্বর মাসে কান শহরে. তা করা হয়েছিল ব্যাঙ্ক গুলির উপরে নিয়ন্ত্রণ বাড়ানো ও নতুন সঙ্কটের ঢেউ এড়ানোর জন্য ব্যবস্থা নিয়ে. তার পর থেকে বিশ্বের অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে কোন রকমের ব্যাপক পরিবর্তন দেখতে পাওয়া যায় নি, আর তাই এই বারের আলোচনার রাউন্ডে আবার অর্থনৈতিক সমস্যা গুলিই রয়েছে. জি ২০ দেশের নেতারা ঠিক করেছেন বিশ্ব অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করে দেখতে, আন্তর্জাতিক বিনিময় মুদ্রা ও বিনিয়োগ ব্যবস্থা সম্বন্ধে আলোচনা করতে, আর তারই সঙ্গে খাদ্য নিরাপত্তা ও পরিবেশ সংরক্ষণ নিয়ে আলোচনা করতে.

বোঝাই যাচ্ছে যে, বেশী করে তাঁরা মনোযোগ দেবেন গ্রীসে নির্বাচনের পটভূমিতে ইউরো অঞ্চলে জটিল অবস্থা ও ইউরো এলাকার নেতিবাচক বৃদ্ধির হার নিয়ে. দেশের প্রধানরা তাঁদের মতামত বিনিময় করবেন সিরিয়া সঙ্কট ও ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা সম্বন্ধে, এই সব আলোচনার শেষে সম্মিলিত ভাবে নেওয়া হবে এক ঘোষণা. ক্রেমলিন থেকে জানানো হয়েছে যে, রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন খুবই বিশদ ভাবে রাশিয়ার অবস্থান এই সমস্ত প্রশ্নের প্রত্যেকটি তেই ব্যাখ্যা করবেন. আর সেই গুলির সংখ্যা – যথেষ্টের বেশী, এই কথা মনে করে “ফিন মার্কেট” নামক সংস্থার প্রথম সারির বিশ্লেষক আন্দ্রেই লুসনিকভ বলেছেন:

“বিশ্ব সঙ্কট – এটা প্রধান বিষয়. ইউরোপের সমস্যা ছাড়াও, যা এখনকার সময়ে মূল হয়ে দাঁড়িয়েছে, আরও বহু সংখ্যক অন্যান্য বিষয় রয়েছে. এটা যেমন আবহাওয়ার পরিবর্তন, দরিদ্রতম দেশ গুলি সমস্যা, পরিস্থিতি, যা ওপেক সংস্থার দেশ গুলি আলোচনা করছে, আর সঠিক করে বলতে হলে – বিশ্বে জ্বালানী সংক্রান্ত ভারসাম্য. হতে পারে যে, এবারে নতুন করে বৈপ্লবিক কোন ধারণা যেমন প্রধান অগ্রগতির শক্তি হিসাবে অর্থনৈতিক বৃদ্ধিকে ব্যবহারের উপায়ের পরিবর্তে অন্য কোনও এগিয়ে যাওয়ার শক্তি কে খুঁজে বার করা হবে. কারণ অর্থনৈতিক বৃদ্ধি যে, স্থিতিশীল হবে, তার উপরে আশা করার উপায় নেই”.

রাশিয়ার জন্য বর্তমানের শীর্ষবৈঠক বিশেষ অর্থবহ – ১লা ডিসেম্বর থেকে রাশিয়া জি ২০ গোষ্ঠীর সভাপতিত্বের দায়িত্ব নেবে. প্রাথমিক ভাবে এখন ঠিক করা হয়েছে যে, পরবর্তী জি ২০ দেশের নেতাদের শীর্ষবৈঠক হবে ২০১৩ সালে সেন্ট পিটার্সবার্গে সেপ্টেম্বর মাসে. তার আলোচ্য বিষয়ের তালিকা এই মেক্সিকো বৈঠকের পরে শেষ অবধি ঠিক করা হবে, যা এমনিতেই এক সংজ্ঞাবহ ঘটনা হতে চলেছে, এই কথা উল্লেখ করে স্ট্র্যাটেজিক পরিকল্পনা ও পূর্বাভাস ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর আলেকজান্ডার গুসেভ বলেছেন:

“এর প্রতি সারা বিশ্বের সমাজের মনোযোগ নিবদ্ধ হয়ে থাকবে. আমরা এখন বিশ্বের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সঙ্কটের যথেষ্ট গুরুতর পরিনাম টের পাচ্ছি. এবারে আলোচনায় সরাসরি ভাবে সেই সমস্ত সমস্যা নিয়ে হবে, যা একেবারেই মানব সভ্যতার বিকাশের প্রশ্ন নিয়ে জড়িত. আর এই ক্ষেত্রে রাশিয়ার ভূমিকা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ হওয়া দরকার. গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হবে উত্তর আফ্রিকা ও নিকট প্রাচ্যের দেশ গুলিতে অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির সামগ্রিক রূপ. এটা সেই বিষয়ের সঙ্গেই জড়িত, কারণ কার্বন যৌগের রসদের দাম কমছে, আর এই এলাকার দেশ গুলি এই কাঁচামালের মূল রপ্তানী কারক”.

রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন লস- কাবোস শহরে অনেকগুলি দ্বিপাক্ষিক ও প্রসারিত সাক্ষাত্কারে যোগ দেবেন. এখানে তিনি তাঁর ব্রিকস গোষ্ঠির নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, তার সঙ্গে গ্রেট ব্রিটেন, জাপান, ভারত, তুরস্ক, ব্রাজিল ও অন্যান্য দেশ গুলির নেতারাও আছেন. আশা করা হয়েছে যে, ব্যক্তিগত যোগাযোগের ক্ষেত্রে মূল জায়গা নেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার সঙ্গে আলোচনা. আলোচনার জন্য প্রশ্ন কিছু কম জমা হয় নি, সেখানে ইউরোপীয় রকেট বিরোধী ব্যবস্থা ইউরোপ্রো থেকে সিরিয়ার সঙ্কট অবধি অনেক বিষয়ই রয়েছে.