গত সপ্তাহে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ সংক্ষিপ্ত সফরে ইরান ও আফগানিস্তান গিয়েছিলেন. তেহরানে ইরানি কর্তৃপক্ষের সাথে অনুষ্ঠিত বৈঠকে দুটি আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে আলোচনা করেছেন. মস্কোতে আসন্ন ছয় জাতি বৈঠক আয়োজনের প্রস্তুতি ও সিরিয়া সংক্রান্ত একটি আন্তর্জাতিক সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণ. উল্লেখ্য, মস্কো এ সম্মেলন আয়োজনের প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. আঞ্চলিক সম্মেলনের অংশ হিসেবে সেরগেই ল্যাভরোভ আফগানিস্তান সফর করেছেন. যেখানে মূল বিষয়বস্তু ছিল আফগানিস্তানকে পুনর্গঠন করা.

ইরানে সেরগেই ল্যাভরোভের সফর সূচির পূর্ব থেকে কোন পরিকল্পনা করা ছিল না, তাই খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এ সফরের সবকিছু চুড়ান্ত করতে হয়েছে. ১ জুলাই থেকে ইরানি তেলের বিরুদ্ধে ইউরোপীয় ইউনিয়নের(ইইউ)নিষেধাজ্ঞা কার্যকরী হবে. উল্লেখ্য, ১৯৭৯ সাল থেকে ইরানের ওপর একাধিকবার পশ্চিমারা নিষেধাজ্ঞা জারি করে আসছে. ইরান একে ‘অর্থনৈতিক জিহাদ' বলেই উত্তর দিয়েছে.

যাই হোক আগামী ১৮ ও ১৯ জুন মস্কোতে ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে ছয় জাতির বৈঠক শুরু হতে যাচ্ছে. বেইজিংয়ে সদ্য সমাপ্ত হওয়া সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সম্মেলনে ইরান জানিয়েছিল, তারা মস্কোর বৈঠকের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে. এদিকে ইরান ও ইইউ উভয় পক্ষই মস্কোর বৈঠককে কেন্দ্র করে বিবৃতি দিয়েছে. ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যদি মস্কোর বৈঠক কোন ফলাফল ছাড়াই শেষ হয় তাহলে ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগের মাত্রা বাড়িয়ে তোলা হবে. সেই প্রেক্ষিতে ইরানে অনেকটা জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সেরগেই ল্যাভরোভের সফর শেষ হয়. বুধবার ইরানি সহকর্মীর সাথে বৈঠকের পর ল্যাভরোভ মস্কোর সাক্ষাতে সব অংশগ্রহণকারীদের ইতিবাচক মনোভাব পোশন করার আহবান জানিয়েছেন.

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আলি আকবার সালেহি একই সাথে উল্লেখ করেছেন, মস্কোতে তিনিও উন্নয়নের অপেক্ষা করছেন. ‘কি প্রস্তাব নিয়ে রাশিয়া যাবেন’?. সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সালেহি সুনির্দিষ্ট উত্তর না দিয়ে সামগ্রিক বিষয় উল্লেখ করেন. তবে সিরিয়ার সংকট সমাধানে রাশিয়ার উদ্দ্যোগ যে সম্মেলন আয়োজনের প্রচেষ্টা চলছে তা নিয়েই মন্ত্রীরা বিস্তারিত আলোচনা করেছেন. ল্যাভরোভ উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত এ সম্মেলনে অবশ্যই প্রকাশ পাবে, বিদেশী রাষ্ট্রগুলো সিরিয়ার সংকট সমাধানে কতটা আগ্রহী. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, ‘আমাদের সম্মেলনের মূল ধারণা হচ্ছে, সবাই যেন সত্য প্রকাশ করে. হ্যাঁ, আমরা কফি আনানের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়ন করবো. এর জন্য প্রয়োজন হচ্ছে, প্রতিটি বিদেশী রাষ্ট্রকে সিরিয়ার সংকটে জড়ানো যে কোন পক্ষের ওপর নিজেদের প্রভাব রাখতে হবে ও সিরীয়দের সংঘাত পরিহারে চাপ প্রয়োগ করতে হবে এবং এ বিষয়টি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রেজুলেশন তাই চাচ্ছে. সত্য হলেও, অনেকেই ইতিমধ্যে বলতে শুরু করেছেন, কফি আনানের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হচ্ছে না’.

ল্যাভরোভের সর্বশেষ কথা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি লক্ষ্য করে বলা হয়েছে. কফি আনানের পরিকল্পনাকে এক প্রকার অকার্যকর বলে বিবৃতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারী ক্লিনটন. রাশিয়া সিরিয়াকে সামরিক হেলিকপ্টার সরবরাহ করছে এমন কথা উল্লেখ করে হিলারী যে বক্তব্য দিয়েছেন তা পুরোটাই ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছেন সেরগেই ল্যাভরোভ. তিনি বলেন, মস্কো কোথাও এমন কোন বস্তু পাঠায় না যা নিরীহ জনগনের সাথে যুদ্ধ করার কাজে ব্যবহার করা হয়. যুক্তরাষ্ট্র হল এ ধরনের দেশ যারা কিনা পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলোতে অস্ত্রের সরবরাহ করে থাকে.

তেহরানে সেরগেই ল্যাভরোভ ও আলি আকবার সালেহি যৌথ সংবাদ সম্মেলনে সিরিয়া প্রসঙ্গে অনেকটা একই বিবৃতি দিয়েছেন. মস্কো জোর দিচ্ছে মূলত সিরিয়া সম্মেলনে ইরানের অংশগ্রহণকে. যেহেতু ইরান হল আঞ্চলিক শীর্ষ দেশগুলোর একটি এবং ইরানকে ছাড়া আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা সম্ভব না. যদিও ওয়াশিংটন এর বিরোধীতা করছে.

এর পরের দিন সেরগেই ল্যাভরোভ কাবুলে কাটান এবং সেখানে তিনি আফগানিস্তান সংক্রান্ত আঞ্চলিক সম্মেলনে অংশগ্রহণ করেন. কাবুল সম্মেলনে যে প্রধান বিষয়গুলি নিয়ে আলোচনা করা হয় তার মধ্যে ছিলঃ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ ও আফগানিস্তান পুনর্গঠন ও সেখানে শান্তিপূর্ণ জীবন প্রতিষ্ঠা করা. সম্মেলনে ৭টি গ্রুপ তৈরী করা হয় যারা বিশ্বাস স্থাপন সম্মুখীকরণ, বিভিন্ন পর্যায় প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রক্ষা, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অভিযান ও মাদক পাচার রোধ সংক্রান্ত দিকগুলো লক্ষ্য রাখবে. এসব গ্রুপগুলো সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, যৌথ নিরাপত্তা চুক্তি সংস্থাসহ অন্যান্য ব্যবস্থাপনার সাথে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কার্যক্রম পরিচালিত করবে.