মিশরে দ্বিতীয় দফায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দুই দিনব্যাপী ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে আজ শনিবার. নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে দুই দিনব্যাপী. দ্বিতীয় দফার নির্বাচনের জন্য বিস্ময়কর প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়. নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঠিক দুই দিন আগে মিশরের দ্য সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্ট দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষকে বিলুপ্ত ঘোষণা করেছেন.

নিম্ন কক্ষের নির্বাচনকে অকার্যকর করার কারণ হচ্ছে যে সব এলাকায় একজন প্রার্থী নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন, ওই সব এলাকায় রাজনৈতিক পার্টির প্রতিনিধিরাও যেন অংশ নেওয়ার সুযোগ পায়. যেন পার্লামেন্টে ৩য় আসনে সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ প্রার্থী আসে. যদিও মুসলিম ব্রাদারহুডের দাবীর মুখে ১ জন প্রার্থী রয়েছেন এমন এলাকাগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়. চুড়ান্ত হিসেবে দেখা যাচ্ছে, ১৬৬ জন একক সদস্যের মধ্যে ২৫ জন হচ্ছেন সতন্ত্র সাংসদ. বাকী সবাই হচ্ছেন সালাফিত অথবা মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রতিনিধি. তাই মিসরের দ্য সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্টের এ রায় মূলত ব্রাদারহুডের জন্যই একটা ধাক্কার সৃষ্টি করেছে.

সুপ্রিম কোর্টের ২য় যে সিদ্ধান্ত ব্রাদারহুডের জন্য আরও একটি হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়াল তা হচ্ছে রাজনৈতিক অধিকার সংক্রান্ত আইন অনুমোদন এবং একই সঙ্গে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে মোবারকের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ শফিকের মনোনয়নের বৈধতা দেওয়া. রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ২য় দফার ভোটগ্রহণে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি. এদিকে মিশরের সরকার পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মিলিটারি সুপ্রিম কাউন্সিল নিজস্ব সংবিধান গঠনের জন্য একটি কমিশন গঠন করার ঘোষণা দিয়েছে.

বস্তুত, দ্য সুপ্রিম কনস্টিটিউশনাল কোর্ট রাজনৈতিক পরিপেক্ষিতেই এ ধরণের সিদ্ধান্ত হয়েছেন. ব্রাদারহুড ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছে যে, সরকার নির্বাচনে কারচুপি করবে. মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি এক প্রতিশ্রুত বানীতে বলেছেন, যদি তাই ঘটে তাহলে পুরো দেশে আবারও বিপ্লবী আন্দোলন শুরু হবে. অন্যদিকে মিশরে বিপ্লবী আন্দোলনে জড়িত থাকা এ পার্টি রাজনৈতিক বিচ্ছিন্নতা সংক্রান্ত আবেদনের আইনেও অসন্তুষ্ট মনোভাব পোশন করেছে. তাঁদের ভাষায়, সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসনে মুবারক যাকে দেশের সর্বশেষ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ করেছিলেন সেই আহমেদ শফিক হচ্ছেন একনায়কতন্ত্রের প্রতিক এবং তিনি কোনভাবেই দেশের রাষ্ট্রপতি হতে পারেন না, যার জন্য মিশরে বিপ্লব ঘটেছিল.

সম্প্রতি মিশরে সংবিধান সংশোধনের জন্য নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল নির্বাচিত সংসদকে ভেঙ্গে দেওয়ায় মিশরীয়দের আবারও সব প্রক্রিয়া শূণ্য থেকে শুরু করতে হবে. এমনটি বলেছেন আরব রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আলএয়া আল-হালইয়াভানি. তাঁর ভাষায়, আগামীতে কি ঘটবে তাও পরিষ্কার. পার্লামেন্ট বিলুপ্ত হবে এবং ভবিষ্যত রাষ্ট্রপতি নতুন করে পার্লামেন্ট নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবেন. তিনি বলছেন, ‘সংবিধানের ঘোষণায় মিলিটারি সুপ্রিম কাউন্সিল হয়ত কিছু পরিবর্তন নিয়ে আসবে যারা বর্তমানে দেশের সাধারণ আইন পরিবর্তন সংক্রান্ত কাজে নিয়োজিত আছে . নতুন যে পার্লামেন্ট গঠন করা হবে তাঁরাই এর ধারাবাহিকতার বিষয়টি নির্ধারণ করবে. হয়ত বা অন্য দিকেও ঘটনা গড়াতে পারে. প্রথমত অপেক্ষা করা হচ্ছে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতির জন্য এবং তারপরই নতুন পার্লামেন্ট গঠনের বিষয়টি নিয়ে কাজ শুরু করবেন’.

ইতিমধ্যে নির্বাচনের ফলাফল কি হবে তার ধারণা করা না গেলেও মিশরের রাজনৈতিক নির্বাচনের উত্তাপ অবশ্য কমছে না. অনেক কিছুই ভেবে রাখা হয়েছে. নির্বাচনে যদি আহমেদ শফিক বিজয়ী হয় তাহলে মুসলিম ব্রাদারহুড মিশরে ২য় বিপ্লব গড়ে তুলবে. অন্যদিকে যদি ব্রাদারহুডের প্রার্থী মোহাম্মদ মুরসি জয় হন তাহলে নিজেদের দলের সর্বোচ্চ সুবিধার্থে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন. তবে একটি ঐক্যমতে পৌঁছানোর কথাও এড়িয়ে যাওয়া যাচ্ছে না. আহমেদ শফিক রাষ্ট্রপতি হলে প্রধানমন্ত্রী হবেন ব্রাদারহুডের প্রতিনিধি, অর্থাত তা হবে বড় মাপের কোয়ালিশন সরকার. তাই যদি হয় তাহলে ব্রাদারহুড পার্লামেন্টে নিজেদের দাবী-দাওয়া তুলে ধরে তা কার্যকরী করার সংযোগ পাবে এবং ফলশ্রুতিতে মিশর নতুন করে বিপ্লবের পথ থেকে সরে আসবে. তবে নির্বাচিত যে কোন প্রার্থীকেই মিশরের আর্মির আগ্রহের কথাও চিন্তা করতে হবে যেহেতু তাঁরাই মিশরের শক্তিশালী রাজনৈতিক খেলোয়াড় হিসেবে অধিষ্ঠিত আছে. আর্মিরা তাদের কাজে চলে গেলেও তাঁরা যে রাষ্ট্রে নিজেদের ভূমিকা শিথিল করবে তার সম্ভাবনা কম.