রাশিয়া আহ্বাণ জানাচ্ছে সিরিয়ার ব্যাপারে জরুরী আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করার জন্য. মস্কোয় ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোশিয়ার জিবারির সাথে বৈঠকের সময় মুল আলোচ্য বিষয় ছিল – সিরিয়ার পরিস্থিতি.

সিরিয়ার পরিস্থিতি ঘটনাচক্রে লাভরোভ ও জিবারির মুল আলোচ্য বিষয় হয়নি. সিরিয়া ইরাকের নিকটতম প্রতিবেশী, যার সাথে তার সুদীর্ঘকালীন রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক. সিরিয়ায় হাজার হাজার ইরাকি বসবাস করে. সুতরাং ইরাক পুরোমাত্রায় সিরিয়ায় পরিস্থিতির প্রভাব উপলব্ধি করে. এর আগে ইরাকের উপ-রাষ্ট্রপতি হুদের আল-হুজাই ঘোষণা করেছিলেন, যে বাগদাদের আশংকা, যে সিরিয়ায় বাশার আসাদের শাসন ব্যবস্থার পতন হলে সেখানে আফগান তালিবদের মতো শাসনব্যবস্থা জারী হবে. সেক্ষেত্রে সিরিয়ার সাথে সাথে তার প্রতিবেশী দেশগুলির নিরাপত্তাও বিঘ্নিত হবে. সের্গেই লাভরোভের দৃঢ়বিশ্বাস, যে বর্তমানে আরব রাষ্ট্রলীগের সভাপতিত্বকারী ইরাক সিরিয়ার সমস্যার শান্তিপূর্ণ মীমাংসায় বড় অবদান রাখতে পারে.

আমরা সিরিয়ার বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করার পরিপ্রেক্ষিত নিয়ে আলোচনা করলাম. আমাদের মতে ইরাক সহ সব আগ্রহশীল বিদেশী দেশকে সম্মিলিত করা দরকার, যাতে সিরিয়ায় সংঘর্ষরত সবপক্ষের উপর চাপ সৃষ্টি করা যায়. সে রকম চাপ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্য একটাই – যাতে সমস্তপক্ষ হিংসা থেকে বিরত হয়.

এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জাতিসংঘের দূত কোফি আন্ননের পরিকল্পনা অনুযায়ী সিরিয়ায় অস্ত্র বর্জন করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করার কথা জাতিসংঘের প্রতিনিধিদের. জাতিসংঘের জেনারেল অ্যাসেম্বলিতে গত সপ্তাহে বেসরকারী বৈঠকে নিউ-ইয়র্কে রাশিয়া সিরিয়া প্রসঙ্গে সম্মেলনের আয়োজন করার প্রস্তাব দিয়েছে. সের্গেই লাভরোভ উল্লেখ করছেন, যে ঐ সম্মেলন সিরিয়ার ব্যাপারে আগ্রহী সব দেশকে সংহত করতে পারে.

যেহেতু পরিস্থিতি জটিল, তাই সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে এই সম্মেলনের কর্মসূচীর সমন্বয় সাধন করা সহজ হবে না, কিন্তু আমরা পণ করেছি. রাশিয়ার জন্য গুরূত্বপূর্ণ দুটি বিষয়. প্রথমতঃ, কারা ঐ সম্মেলনে যোগ দেবে. যোগদানকারীদের মধ্যে থাকতে হবে নিরাপত্তা পরিষদের সব স্থায়ী সদস্য দেশদের এবং সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোকে – তুরস্ক, ইরাক, জর্ডান, লেবানন, সেইসাথেই ঐ এলাকার মুখ্য খেলুড়ে সৌদী আরব, কাতার, ইরান ও আরব রাষ্ট্রলীগ ও ইউরো সংঘকে. দ্বিতীয় শর্ত হচ্ছে – যে বিদেশীরা সিরিয়ায় সরকারের সাথে বিরোধীদের আপোষ করার পন্থা নিয়ে আলোচনা করবে

ইরাকের পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুশী পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য সমর্থন করেছেন. তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন, যে যদি সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলিকে সম্মেলনে ডাকা না হয়, তাহলে ইরাক তার বিরূদ্ধে.

“ আমরা সিরিয়ার নাগরিকদের উচ্চতর মানের জীবনযাপনের আকাঙ্খা ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের ইচ্ছা উপলব্ধি করি. কিন্তু সব পরিবর্তন হওয়া উচিত সিরিয়াবাসীদের স্বার্থে, তাদের ক্ষতি করে নয়. রাশিয়া যেমন আন্তর্জাতিক স্তরে, তেমনই ঐ অঞ্চলে গুরূত্বপূর্ণ রাষ্ট্র, সুতরাং যে কোনো উদ্যোগ রাশিয়ার সাথে আগে আলোচনা করা উচিত. এই প্রসঙ্গে বলতে চাই, যে সম্মেলনের আয়োজন করার জন্য রাশিয়ার উদ্যোগ আমরা পুরোমাত্রায় সমর্থন করি ও আশা রাখি, যে কোফি আন্ননের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমরা নিজস্ব অবদান রাখতে সমর্থ হবো”.

বৈঠকের পরে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন – “আমাদের আশা, যে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ায় বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের অনুমতি দেবে না এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা পরিষদকে পাশ কাটিয়ে সিরিয়ায় সামরিক অনুপ্রবেশ করবে না”.