রাশিয়া, চিন ও মধ্য এশিয়ার দেশ গুলি (কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্তান) পাহাড়ী জায়গায় সম্মিলিত ভাবে সামরিক অপারেশনের কৌশল তৈরী করেছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার "শান্তি মিশন – ২০১২" নামের প্রশিক্ষণ (৮ থেকে ১৪ই জুন) তাজিকিস্তানে শেষ হয়েছে. এর সক্রিয় কাজ কর্মের সময়ে যোগ দিয়েছে দুই হাজারেরও বেশী সামরিক কর্মী ও ৫০০ টি যুদ্ধের গাড়ী.

রাশিয়া থেকে এই প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছে সাঁজোয়া গাড়ী ও কামান বাহী বিভাগ তাজিকিস্তানের রুশ সামরিক ঘাঁটির থেকে, আর তারই সঙ্গে কিরগিজিয়ায় "কান্ত" বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধ বিমান. এই মহড়া নেতৃত্ব জানিয়েছে যে, সামগ্রিক নিরাপত্তার বিষয়ে বিপদের সময়ে সম্মিলিত ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সামরিক বাহিনীর প্রতিক্রিয়া করার ক্ষমতা দেখা গিয়েছে. এই প্রসঙ্গে এই বছরে এমনি কোন কারণ ছাড়াই তাজিকিস্তানকে এই সন্ত্রাস বিরোধী প্রশিক্ষণের জন্য বাছাই করা হয় নি, যা আফগানিস্তানের সঙ্গে সীমান্তবর্তী দেশ. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বাণিজ্য সভার কার্যকরী সম্পাদকের সহায়ক দেনিস ত্যুরিন বলেছেন:

“আফগানিস্তান থেকে ন্যাটো জোটের সেনা বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে. বহু পর্যবেক্ষকের মতেই, এই দেশে শান্তি রক্ষার জন্য প্রধান ভূমিকা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার উপরে ন্যস্ত হতে পারে. এতেই, আসলে, অনেকটাই ব্যাখ্যা করা সম্ভব কেন এই বছরেই আফগানিস্তানকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে. আফগানিস্তানের দিকে পরিস্থিতি অনেক খানি আজকের দিনের বাস্তব প্রশ্ন গুলির পিছনে কারণ হয়ে রয়েছে, যা এই মহড়ার সময়ে সমাধানের চেষ্টা করা হয়েছে.প্রসঙ্গতঃ, এখানে মহড়ার সময়ে কৌশল, অনেকখানি প্রতিফলিত করেছে আফগানিস্তান থেকে সশস্ত্র সন্ত্রাসবাদীদের তাজিকিস্তান হয়ে ঢুকে পড়ার ক্ষেত্রে কি করা হবে, তার ব্যাখ্যা”.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল, - সম্মিলিত ভাবে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার মোকাবিলা করা. এই দিকে সহযোগিতা অনেকটাই প্রসারিত হয়েছে, সদ্য শেষ হওয়া বেজিং শীর্ষ সম্মেলনে এই ধরনের বিপদের সঙ্গে মোকাবিলা করা নিয়ে নতুন করে স্ট্র্যাটেজি গ্রহণ করার পরে, এই কথা বলে রাশিয়ার গণ মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিন সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা বিভাগের ডিরেক্টর আলেক্সেই মাসলভ যোগ করেছেন:

“সমস্ত সীমান্তবর্তী দেশের জন্যই সন্ত্রাস বাদের প্রশ্ন উদ্বেগের কারণ হয়েছে, তা যেমন চিন, রাশিয়ার জন্য, তেমনই কিরগিজিয়া, কাজাখস্থান তাজিকিস্তানের জন্য. এই এলাকা দিয়ে আফগানিস্তান থেকে মাদক পাচার করা হচ্ছে, সেখানে নানা ধরনের বিচ্ছিন্নতাবাদী লোকরা গা ঢাকা দিয়ে রয়েছে, যারা এই এলাকার পরিস্থিতিকে খুবই উল্লেখ যোগ্য ভাবে ভারসাম্য হীন করে দিতে পারে”.

আলেক্সেই মাসলভ বিশেষ করে "শান্তি মিশন – ২০১২" এর ভূ- রাজনৈতিক গুরুত্ব সম্বন্ধে উল্লেখ করে বলেছেন:

“ন্যাটো জোটের দেশ গুলির প্রায়ই সম্মিলিত ভাবে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে. এক্ষেত্রে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, যা ন্যাটোর সঙ্গে তুলনায় আলাদা ও সামরিক সংস্থা নয়, তাদেরও বাধ্য হতে হয়েছে সম্মিলিত ভাবে সম্ভাব্য বিপদের বিরুদ্ধে কিভাবে লড়াই করবে তা দেখানোর. এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, যা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাকে খুবই শক্তিশালী আঞ্চলিক সংস্থায় পরিণত করছে”.

সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির প্রশিক্ষণ, সামরিক বাহিনী গুলির মধ্যে সহযোগিতার বৃদ্ধি করেছে. জেনারেলরা তৈরী আছেন নতুন সম্মিলিত কাজকর্মের জন্য, যাতে মধ্য এশিয়াতে মজবুত শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় থাকে. তার মধ্যে আফগানিস্তান, ভারত, পাকিস্তান, ইরান ও মঙ্গোলিয়ার মতো এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ গুলির অংশগ্রহণের মাধ্যমে.