আমেরিকার মিডিয়া কনসার্ন “ওয়াল্ট ডিসনি” ঠিক করেছে ফাস্ট ফুডের বিজ্ঞাপন বন্ধ করার. ২০১৫ সাল থেকেই তাদের টেলিভিশন ও রেডিও চ্যানেলে, আর তারই সঙ্গে ইন্টারনেটের ওয়েবসাইটে চিপস্, হ্যামবার্গার আর কোকা-কোলা জাতীয় পানীয়ের কোনও বিজ্ঞাপন থাকবে না. কোম্পানী থেকে এই পদক্ষেপের কারণ হিসাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে খাওয়া দাওয়া নিয়ে নতুন মানের প্রচার করার জন্য, যেহেতু বাচ্চাদের মোটা হয়ে যাওয়ার সমস্যা আমেরিকা ও অন্যান্য দেশে এখন জাতীয় বিপর্যয়ের পর্যায়ে এসে দাঁড়িয়েছে.

গত ৩০ বছরে শুধু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই বেশী ওজনের বাচ্চার বেড়ে সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিন গুণ. প্রতি ষষ্ঠ অল্প বয়সী আমেরিকা বাসী মোটা হওয়ার জন্য কষ্ট পাচ্ছে, যার ফলে তাদের এক সারি এই উপসর্গ জড়িত রোগ হচ্ছে. সুস্থ শরীর নিয়ে বেঁচে থাকার আহ্বান, খেলাধূলা করা ও ঠিক মত খাওয়া নিয়ে যা বলা হচ্ছে, তা দিয়ে কাজ হচ্ছে না. তাই “ওয়াল্ট ডিসনি” কোম্পানী ঠিক করেছে অন্য পথে চলার. ডিসনি কার্টুনের চরিত্ররা আর সকালে কর্ন ফ্লেক্স খিদে নিয়ে গপগপ করে খাবে না, যেহেতু সেগুলি খুবই মিস্টি, আর তাদের প্লেটে এই জিনিসের পরিমান হবে খুবই কম – যাতে প্রতিবারে খাওয়ার সময়ে ৬০০ কিলো ক্যালরির বেশী না হয়. কিন্তু মূল কথা হল, কনসার্ন যত গুলি মিডিয়া ব্যবহার করে, তার কোনটাতেই কোনও ফাস্ট ফুডের বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে না. শিশু মনস্তত্ব বিদ স্ভেতলানা ক্লিউবায়েভা মনে করেন যে, এর ফলে ইতিবাচক ফলাফল পেতে খুব একটা দেরী হবে না, তিনি বলেছেন:

“কিশোর বয়সী ও বাচ্চাদের উপরে বিজ্ঞাপনের প্রভাব খুবই বেশী. বাচ্চারা একেবারেই আক্ষরিক অর্থে তথ্য গ্রহণ করে থাকে, আর স্কুলে পড়ার বয়স যাদের হয় নি, তারা এমনিতেই বাস্তব ও অবাস্তবের মধ্যে তফাত করতে পারে খুব অল্প. তাই বিজ্ঞাপন কম করে দেওয়ার জন্য অবশ্যই এই ধরনের খাদ্য কম খাওয়া হবে আর তার ফলে স্বাস্থ্য নিয়ে সমস্যা কমই হবে”.

এই ধারণার সঙ্গে অবশ্য ফাস্ট ফুড উত্পাদক ও টেলিভিশনের কর্মীরা একমত হন নি. কারণ এই প্রশ্ন খুবই বড় অঙ্কের অর্থের সঙ্গে জড়িত – যা চিপস্, কোলা জাতীয় পানীয় ইত্যাদি নিয়ে বিজ্ঞাপনের জন্য দেওয়া হয়ে থাকে, যার লক্ষ্য ১২ বছরের নীচের বাচ্চারা, এর পরিমান বছরে ১০০ কোটি ডলার. আর এটাও ঠিক যে, অনেক রাজনীতিবিদই এই ক্ষেত্রে নাক গলাতে তাড়াহুড়ো করছেন না. অংশতঃ, স্কটল্যান্ডে এখনই রাত নটা অবধি টিভিতে অস্বাস্থ্যকর খাবারের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, যখন বাচ্চারা টিভি দেখতে পারে. কিন্তু সমস্ত গ্রেট ব্রিটেনে এখনও এই উদ্যোগ প্রসার করা সম্ভব হয় নি. একটা মত রয়েছে যে, ফাস্ট ফুড বিজ্ঞাপন বন্ধ না করে তার বদলে উপযুক্ত বদলি জিনিসের বিজ্ঞাপন দেওয়ার. এই কথা উল্লেখ করে মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের হায়ার স্কুল এফ টেলিভিশনের প্রফেসর আন্দ্রেই নোভিকভ- লানস্কি বলেছেন:

“অনেক সময়েই হয় যে, কোন একটা ভাল জিনিসের বিজ্ঞাপন খুব কম আগ্রহ জাগায়. তা কেন যেন কম বয়সীদের জন্য অপছন্দের আর বর্ণহীন মনে হয়. যদি সাধারন দুধকে একই রকমের রঙীণ ও চমত্কার করে বোতল বন্দী করা যেত, যেমন সেই সব ভীষণ বাজে পানীয়ের মতোই, তবে এটা খুবই সাফল্য এনে দিতে পারত”.

তাছাড়া সমস্যা শুধু বিজ্ঞাপনের নয়, বরং এই সব জিনিস প্রসারিত ভাবে পাওয়া যাচ্ছে বলেও. সুপার মার্কেটের ক্যাশিয়ারের ডেস্কের সামনে প্রচুর পরিমানে চকোলেটের বার পড়ে থাকে, আর ফাস্ট ফুডের দোকান তো এখন প্রত্যেক বাঁকেই একটা করে গজিয়েছে. এমনকি ২০১২ সালের লন্ডন অলিম্পিকের সময়েও ম্যাক ডোনাল্ডস রেস্তোরাঁ এক সবচেয়ে বড় স্পনসর হয়েছে. এখানে শুধু বাচ্চারাই মজে যায় না, এমনকি বোধশক্তি সম্পন্ন বড়রাও মজে যায়.

প্রসঙ্গতঃ, বড়দের অডিটোরিয়ামে সংবাদ মাধ্যমে এখন চেষ্টা করা হচ্ছে স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকারক জিনিসের বিজ্ঞাপনের নষ্ট করে দেওয়ার মতো প্রভাবকে বাধা দেওয়ার. যেমন, ইউক্রেনে যে কোন রকমের তামাক জাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে. রাশিয়াতে অ্যালকোহল ও সিগারেটের বিজ্ঞাপন শুধু ছাপা প্রকাশনাতেই দেখা যায়, আর রাশিয়ার আইন প্রণেতারা এখন বিচার করে দেখছেন কি করে জৈব ভাবে সক্রিয় খাবারের সাপ্লিমেন্টের বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যায়.