চিনের “সিনহুয়া” সংস্থা সরকারি ভাবে জানিয়েছে যে, ১৬ই জুন চিন থেকে পাইলট পরিচালিত মহাকাশযান “শেন্চঝৌ- ৯” তিন জন মহাকাশচারী কে নিয়ে মহাকাশে রওয়ানা হবে. এই বারে প্রথম চিনের মহাকাশচারীদের মধ্যে থাকছেন মহিলা.

সংবাদ সংস্থা এর মধ্যেই জানিয়েছে যে, চিনের প্রথম মহিলা মহাকাশচারিনীর নাম ল্যু ইয়ান, তাঁর বয়স ৩৪, তিনি একজন মেজর ও বোঝাই যাচ্ছে যে, তিনি চিনের কমিউনিস্ট পার্টির সদস্যা. তাঁর মোট বিমান চালনার অভিজ্ঞতা ১১ বছরের.

চিনের বিমানবাহিনীতে কাজ করার সময়ে ল্যু ইয়ান বেশ কিছু ধরনের বিমান চালনা করেছেন ও সব মিলিয়ে আকাশে ছিলেন ১৬০০ ঘন্টা. তিনি নিজেরই এক সহকর্মীকে বিয়ে করেছেন ও তাঁদের একটি ছেলে রয়েছে. জানানো হয়েছে যে, আগামী অভিযানের সময়ে ল্যু ইয়ান শুধু প্রথম মহিলা মহাকাশচারিনী হবেন না, তিনিই প্রথম মহিলা, যিনি উন্মুক্ত মহাকাশে যান ছেড়ে বের হবেন. তাঁর অবশ্য বীরত্ব দেখানোর কোনও দরকারই নেই, কারণ এক বিমান বাহিনীতে কাজের সময়ে তিনি একটি যুদ্ধ বিমানকে মাটিতে নামিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছিলেন ১৮টি পায়রার আঘাতে বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ও হাওয়া ঢোকার জায়গা দিয়ে দুটি পায়রা ঢুকে যাওয়ার ফলে বিমানের ডানদিকের এঞ্জিনের টারবাইন সম্পূর্ণ ভাবেই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার পরেও. অল্প বয়সী এই মহিলা একেবারেই নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলা এই বিমানকে জমিতে নামিয়ে এনেছিলেন.

মহাকাশে অস্বাভাবিক পরিস্থিতি তৈরী হতে পারেই, কিন্তু তা তো মনে হয় না যে, এত নাটকীয় হবে. চিন পরিকল্পনা করে খুবই নিখুঁত ভাবে পাইলট চালিত মহাকাশ বিচরণের প্রযুক্তি আয়ত্বে আনার চেষ্টা করছে, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে বলেছেন স্ট্র্যাটেজি ও প্রযুক্তি বিশ্লেষণ কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ভাসিলি কাশিন. এই বারের উড়ানে প্রধান কাশিনের মতে চিন কক্ষপথে থাকা মডিউলের সঙ্গে পাইলট চালিত যানের জোড়া লাগানো. তিনি বলেছেন:

“কক্ষপথে থাকা মডিউল “তিয়ানগুন – ১” এর সঙ্গে জোড়া লাগানো হবে. বর্তমানে চিনের কাছে এত বড় রকেট পরিবাহক নেই, যা একটি সম্পূর্ণ মানের কক্ষপথে থাকার মত স্টেশন নিয়ে যেতে পারে, তাই তারা ব্যবহার করেছে এই ধরনের মডিউল ভবিষ্যতের স্টেশনের ব্যবস্থা পরীক্ষা করার জন্য. পুরুষ ও মহিলাদের মহাকাশের কক্ষপথে থাকার ব্যবস্থার পার্থক্য রয়েছে, আর চিনের প্রয়োজন পড়েছে সেই ধরনের ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখা, যা মহিলাদের জন্যই ব্যবহার করা হয়, যাঁরা মহাকাশে কাজ করতে যান, তাঁদের জন্য. তাই এই বারের মহাকাশচারীদের মধ্যে রয়েছেন মহিলা মহাকাশচারী”.

ভাসিলি কাশিনের মূল্যায়নে, এর পরবর্তী উন্নতির অধ্যায় বেজিংয়ের পক্ষ থেকে ২০২০ সালের পরে করা হবে, ততদিনে চিনের কাছে শক্তিশালী পরিবাহক রকেট থাকবে, যা তাদের সম্পূর্ণ মানের মহাকাশ স্টেশন তৈরী করার সুযোগ করে দেবে. এখন প্রধানতঃ মহাকাশে যান জোড়া লাগানোর প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে. আশা করা হয়েছে যে, “শেন্চঝৌ- ৯” মহাকাশে ১৫-২০ দিন থাকবে, যে সময়ে মধ্যে মহাকাশচারীরা “তিয়ানগুন- ১” মডিউলে পরীক্ষা নিরীক্ষা করবেন,.