আদাব, প্রিয় শ্রোতারা!

শুভ অপরাহ্ন!

রেডিও রাশিয়ার স্টুডিও থেকে আপনাদের স্বাগত জানাচ্ছে ভাষ্যকার কৌশিক দাস. শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ – ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’. আমাদের আজকের অনুষ্ঠাণে আপনারা শুনবেন ---

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটে ইসলাম তত্ত্ব বিভাগে ১৫তম স্নাতকদের ডিগ্রি দেওয়া হল.

চেচনিয়ার মুখ্য প্রশাসক নিখোঁজ হয়ে যাওয়া লোকেদের মায়েদের হজযাত্রা করার জন্য আর্থিক সাহায্য দেবে.

রুশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের হাফিজদের প্রস্তুত করার কেন্দ্র সরকারীভাবে বিশ্ব ইসলামী লীগের কোরান পড়ার জন্য হাফিজদের তৈরি করার বিষয়ে রাশিয়ার ভূখন্ডে প্রতিনিধিত্ব পেয়েছে.

অতএব এবার শুনুন আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’.

মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউট এই নিয়ে ১৫ বছর তাদের ইসলামী তত্ত্বের ডিগ্রি দিল স্নাতকদের. ঐ ফ্যাকাল্টি গঠণ করা হয়েছিল ১৯৯৪ সালে. এই সময়ের মধ্যে বিভিন্ন ধর্মের, বিভিন্ন জাতির, পেশার ও বয়সের ২ হাজারেরও বেশি লোক স্নাতকোত্তর ডিগ্রি পেয়েছে ঐ ফ্যাকাল্টি থেকে.

ইসলাম তত্ত্ব বিভাগে পড়ান অগ্রগণ্য রুশী বিশেষজ্ঞরা ইসলাম, আরব ভাষার পন্ডিতরা, যাদের মধ্যে আছেন অ্যাকাডেমিক কুদেলিন, রুশী বিজ্ঞান অ্যাকাডেমির অধ্যাপক ফ্রালোভ, এশিয়া ও আফ্রিকার দেশগুলির ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মেইয়ের, রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সহ-সভাপতি ফরিদ আসাদুল্লিন ও অনেক উচ্চমানের বিশেষজ্ঞ.

ফ্যাকাল্টির কর্মকান্ড সম্পর্কে বলছেন ভাষাতত্ত্বে পি.এইচ.ডি করা অধ্যাপক, আরবী ভাষার শিক্ষক ভিক্তর পাক.

বৈজ্ঞানিক কাজে ফ্যাকাল্টিতে ছাত্রদেরও ডাকা হয়, যারা ছাত্রদের জন্য আয়োজিত সম্মেলনে তাদের বক্তব্য পেশ করে.

এখানে উল্লেখ করতে চাই, যে ঐ ফ্যাকাল্টিতে পড়াশোনা করানো হয় বিনামূল্যে ও সেখানে ইচ্ছুক য়ে কেউ অধ্যয়ন করতে পারে. এ বছর ডিগ্রি পেয়েছে ২৮ জন.

এবার রুশী মুসলিম সম্প্রদায়ের খবর জানাই, শুনুন ঘটনাবলী.

অধ্যক্ষ রফিক মুহামেতশিনের নেতৃত্বে রুশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদল সৌদী আরবে অনুষ্ঠিত হওয়া ইসলামী দুনিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলির কার্যকরী কমিটির ১৭ তম অধিবেশনে অংশ নিয়েছে. স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, যে কমিটির সদস্য বিশ্বব্যাপী ২৫০টি উচ্চশিক্ষাকেন্দ্র, আর কাজানে অবস্থিত রুশী ইসলামী ইনস্টিটিউট ২০১১ সাল থেকে ঐ কমিটির কার্যনির্বাহী বিভাগের সদস্য. ওখানে বৈঠকের আওতায় ইসলামী শিক্ষার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে. তার মধ্যে ছিল ইন্টারএ্যাকটিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের পত্তণ করার প্রশ্নও, যার জন্য রুশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের যোগদান সহকারে কার্যকরী কমিটি গঠণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে.

উত্তর ককেশাসের ইঙ্গুশেতিয়া প্রজাতন্ত্রে, যেখানে মোটামুটি ৫ লক্ষ মানুষ বসবাস করে, যাদের অধিকাংশই মুসলমান, সেখানে আনুষ্ঠাণিকভাবে নতুন মসজিদ খোলা হয়েছে. ঐ মসজিদে একইসময়ে ১০০০ ধর্মবিশ্বাসী প্রার্থনা করতে পারে. মসজিদের ভেতরের ডেকরেশন তুর্কী স্থপতিদের তত্ত্বাবধানে বানানো হয়েছে. মসজিদটির উদ্বোধন প্রজাতন্ত্রের ২০ বছর পূর্তি উপলক্ষে উত্সর্গীকৃত ছিল. ৪ঠা জুন ঐ উত্সব পালিত হয়েছে.

চেচনিয়ার মুখ্য প্রশাসক রামজান কাদিরভ নিখোঁজ ব্যক্তিদের মায়েদের হজযাত্রা করার জন্য সাহায্য দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন. পবিত্রভূমিতে হজযাত্রা করার অনুরোধ জানানো হয়েছিল কাদিরভের সাথে সাক্ষাত্কারে. তিনি সকলকে সাহায্য করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, যাদের সন্তান ও আত্মীয়রা ৯০-এর দশকে সন্ত্রাসবাদ প্রতিরোধী অভিযানের সময় নিখোঁজ হয়েছে.

বাশকোরতাস্তানের রাজধানী উফায় কোরান পাঠের বার্ষিক প্রজাতান্ত্রিক প্রতিযোগিতা হয়ে গেল. মরিয়ম সুলতানভার নামাঙ্কিত ইসলামী কলেজ ও বাশকোরতাস্তানের মুসলিমদের আধ্যাত্মিক পরিচালন কমিটি ঐ প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল. প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতেঃ ৭ বছর বয়স পর্যন্ত বয়সের সেরা কোরানজ্ঞাত, ৭ থেকে ১২ বছর বয়সী সেরা কোরান পাঠক, ১২ থেকে ১৬ বছর বয়সীদের মধ্যে সেরা কোরান পাঠক. প্রায় ৬০ জন উক্ত প্রতিযোগিতায় যোগদান করেছিল. বিজয়ীদের দামী দামী সব পুরস্কার দেওয়া হয়েছে – ল্যাপটপ কম্পিউটার, বাইসাইকেল, মোবাইল ফোন, ডিজিটাল ক্যামেরা ইত্যাদি.

রেডিও রাশিয়ার বেতারতরঙ্গে ‘ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা’ নামক অনুষ্ঠাণ শুনছেন আপনারা.

কাজান শহরে হাফিজদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র রাশিয়ার ভূখন্ডে সরকারীভাবে কোরানের হাফিজদের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ সংস্থার প্রতিনিধি হয়েছে. ‘রেডিও রাশিয়া’কে প্রদত্ত সাক্ষাত্কারে এই সম্পর্কে বলেছেন ইব্রাহিম সাবিরভ, যিনি ঐ কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠা হওয়ার সময় থেকে গত ১০ বছর কেন্দ্রটি পরিচালনা করছেন.

 

আন্তর্জাতিক কোরানের হাফিজ সংস্থার মর্যাদা পাওয়ার পরে আমরা ঐ সংস্থার সাথে ভাবী কর্মসূচীর পরিকল্পনা করেছি. সাবিরভ বলছেন, কোরান মুখস্ত করার ও হাফিজদের প্রশিক্ষণ দেওয়ার ঐতিহ্য সোভিয়েত জমানায় ক্ষুন্ন হয়েছিল. এখন আমাদের কেন্দ্রে অধ্যয়ন করে রাশিয়া ও অন্যান্য সি.আই.এস. দেশের ৪৫ জন শিক্ষার্থী. ২০০৭ সালে আমরা মহিলা বিভাগ খুলেছি. আন্তর্জাতিক কোরানের হাফিজ সংস্থার সাথে চুক্তি অনুসারে এই প্রথম ইন্টারনেটের মাধ্যমে মেয়েদের কোরান শিক্ষার প্রোগ্রাম খোলা হয়েছে. এবং এই বছরে রাশিয়ার ইতিহাসে সর্বপ্রথম আমরা ২ জন মেয়েকে কোরান পাঠের হাফিজের ডিগ্রি প্রদান করবো, তারা তাতারস্তানের বাসিন্দা, যাদের বয়স ২০ বছরের সামান্য বেশি. এখন আমরা শিশুদের কোরান শিক্ষা দেওয়ার কর্মসূচী নিচ্ছি, যাদের বয়স এখনো স্কুলশিক্ষার বয়সে পৌঁছায়নি.

কাজানের হাফিজদের প্রশিক্ষণ কেন্দ্র প্রতিবছর কোরান পাঠের আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে. সর্বশেষ, অষ্টম প্রতিযোগিতা, যা গত বসন্তকালে হয়েছে, সেখানে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক কোরানের হাফিজ সংস্থার সাধারন সম্পাদক ডক্টর আবদুল্লা ইবন আলি বসফার. তিনি মাঝেমধ্যেই রাশিয়ায় আসেন.

আমি রাশিয়ায় আসছি সোভিয়েত ইউনিয়ন বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর থেকেই, মানে ২০ বছর ধরে. আমি মস্কোর ঐতিহাসিক মসজিদে একাধিকবার প্রার্থনা করেছি, অন্য অনেক মসজিদেও গেছি. আমার মনে আছে সেই সময়ের কথা, যখন এই দেশে খুব কম মসজিদের অস্তিত্ব ছিল, যখন মুসলিম সংস্থাগুলি ছিল একান্তই দুর্বল. আজ আমরা বিশাল অগ্রগতি লক্ষ্য করছি. তার মানে দেশের শাসক কর্তৃপক্ষ মুসলমানদের অবাধ স্বাধীনতা দিয়েছে. এটা মুসলিম দুনিয়ার সাথে রাশিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রেও সদর্থক প্রভাব ফেলে. আমার মতে আজকের দিনে ঐ সম্পর্ক চমত্কার. যেমন সৌদী আরবের সাথে পারস্পরিক সম্পর্ক মৈত্রীর, বোঝাপড়ার. সৌদী আরবে বিশাল শ্রদ্ধা করা হয় রাশিয়াকে. আশা করি, ভবিষ্যতে সম্পর্কের আরও উন্নতি ঘটতে থাকবে.

এখানে উল্লেখ করতে চাই, যে আন্তর্জাতিক কোরানের হাফিজ সংস্থার সাধারন সম্পাদক আবদুল্লা ইবন আলি বসফার রুশী ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানীয় ডক্টর.

প্রিয় বন্ধুরা, ইসলাম ও মুসলমান ভাইয়েরা নামক অনুষ্ঠাণ এখানেই শেষ করছি. এই অনুষ্ঠাণ সংকলন করেছেন ওলগা সিওমিনা—গ্রন্থনায় কৌশিক দাস.

আপনাদের শান্তি কামনা করি, আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন!