পেন্টাগন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসকে জানিয়েছে আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর জন্য রাশিয়ার কোম্পানী রসআবারনএক্সপোর্টের কাছ থেকে বাড়তি ১২টি মি- ১৭ হেলিকপ্টার কেনার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে. এই বিষয়ে বুধবারে সাংবাদিকদের জানিয়েছে বারাক ওবামা প্রশাসনের প্রতিনিধি.

একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনেটে চেষ্টা করা হচ্ছে আফগানিস্তানের জন্য রাশিয়ার হেলিকপ্টার কেনা বন্ধ করে দেওয়া, যুক্তি দেওয়া হচ্ছে সিরিয়ার প্রশাসনকে রাশিয়ার পক্ষ থেকে সরবরাহ বন্ধ না করাকে. বেশ কিছু সেনেট সদস্য প্রস্তাব করেছেন আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর জন্য অন্যত্র থেকে হেলিকপ্টার কেনার জন্য – আমেরিকার হেলিকপ্টার. এটা তাহলে কি – অসত্ প্রতিযোগিতা অথবা মস্কোকে চাপ দেওয়া, কারণ সিরিয়া সম্বন্ধে তারা নীতিগত ভালে অবস্থান নিয়েছে বলে?

আফগানিস্তানের সেনা বাহিনীর জন্য মি- ১৭ ধরনের হেলিকপ্টার সরবরাহের জন্য রাশিয়া ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আন্তর্রাষ্ট্রীয় চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল গত বছরের মে মাসে. রাশিয়া থেকেই হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে জোর দিয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নেতৃত্ব. এই ধরনের সিদ্ধান্ত ব্যাখ্যা করা হয়েছিল হেলিকপ্টার গুলির ভরসা যোগ্যতা ও তারই সঙ্গে এটাও যে, আফগানিস্তানের লোকরা রাশিয়ার যন্ত্রের সঙ্গে ভাল রকমের ভাবেই পরিচিত ও সেই গুলির ব্যবহারের সময়ে সমস্যা হবে না.

এখানে উল্লেখ যোগ্য যে, এই চুক্তির ভবিষ্যত, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও আফগানিস্তানের সামরিক সহযোগিতার পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যে করা হয়েছে, তা একেবারে শুরু থেকেই সহজ ছিল না. চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার আগে থেকেই এক দল সেনেট সদস্য প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন প্যানেত্তার কাছে আবেদন করেছিলেন রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তির বিষয় নিয়ে আবার করে ভেবে দেখার জন্য, কারণ রাশিয়ার সঙ্গে সিরিয়ার সামরিক সহযোগিতার চুক্তি রয়েছে. আর এই এখন পরিস্থিতি আবার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে. পার্লামেন্ট সদস্যরা আবারও প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর কাছে মস্কোর সঙ্গে চুক্তি নষ্ট করে ফেলার জন্য প্রস্তাব করেছেন, কারণ, তাঁদের মতে, পেন্টাগনের কেনা বেচা করার সঙ্গীদের মধ্যে তাদের থাকা উচিত্ হবে না, যারা দামাস্কাসের প্রশাসনকে সমর্থন করে.

আমরা দেখতেই পাচ্ছি রাশিয়ার উপরে নতুন করে প্রভাব বিস্তার করার চেষ্টা চলছে, যারা সিরিয়ার বিরোধের সিদ্ধান্ত করতে চায় শান্তিপূর্ণ ভাবে, এই রকম মনে করে বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই ফ্রোলভ বলেছেন:

“এখানে একটা রাজনৈতিক প্রসঙ্গ আছে. আমরা সকলেই এখন দেখতে পাচ্ছি সিরিয়াকে ঘিরে রাজনৈতিক লড়াই চলছে. রাশিয়া এখানে একটা নীতিগত অবস্থান নিয়েছে. আমরা এখানে এই অবস্থানের কারণ নিয়ে আলোচনা করতে বসবো না, কিন্তু এটা স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে দৃঢ় ভাবে নিজেদের পথে চলা না হলে, বোধহয়, সিরিয়া সংক্রান্ত প্রশ্ন লিবিয়ার মতো করেই সমাধান করা হত. তাই এখন চেষ্টা করা হচ্ছে রাশিয়ার অবস্থানকে কিছু একটা করে নরম করার”.

সিরিয়াতে রাশিয়ার অস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি কিছু দিন আগে পররাষ্ট্র সচিব হিলারি ক্লিন্টন তুলেছিলেন. এরই মধ্যে সিরিয়াতে রাশিয়া শুধু সেই অস্ত্রই সরবরাহ করছে, যা দেশের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করার কাজে লাগতে পারে, এটা রকেট আঘাত করার ব্যবস্থা, যুদ্ধ বিমান, জাহাজের জন্য ব্যবস্থা, এই গুলি দিয়ে কোন ভাবেই নিজেদের দেশের জনতার বিরুদ্ধে লড়াই করা যেতে পারে না. অল্প কিছু আগেই তেহরানে রাশিয়ার পররাষ্ট্র প্রধান সের্গেই লাভরভ আরও একবার এই বিষয় মনে করিয়ে দিয়েছে. তিনি উল্লেখ করেছেন যে, রাশিয়া সিরিয়াতে এমন অস্ত্র সরবরাহ করে না, যা মিছিলের উপরে ব্যবহার করা যেতে পারে, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকেই এই এলাকায় এই ধরনের বিশেষ ধরনের অস্ত্র দেওয়া হচ্ছে. সেই বিষয়, যা নিয়ে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা দপ্তরের প্রধান যা বলেছেন, - তা আরও একটা দুর্বল জায়গা সেই সব লোকদের জন্যই, যারা রাশিয়ার সঙ্গে হেলিকপ্টার কেনার চুক্তি ভঙ্গ করতে চাইছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র নিজেরাই বিশ্বের সমরাস্ত্রের বাজারের অর্ধের নিয়ন্ত্রণ করে. কিন্তু বোধহয় সবচেয়ে মুখ্য হল, পেন্টাগন নিজেই আফগানিস্তানে রাশিয়ার হেলিকপ্টার সরবরাহে আগ্রহী. তা বন্ধ হয়ে গেলে আমেরিকার প্রশাসনের শক্তি প্রয়োগ বিফল হবে, যার লক্ষ্য ছিল আফগানিস্তানের লোকরা নিজেরাই যেন ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী অপসরণের পরে নিজেদের নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারে.