পোল্যান্ডে বিশৃঙ্খলা, যা ইউরোপীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশীপে ফুটবল অনুরাগীরা তাদের ব্যবহার দিয়ে করেছে, তা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন ও পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টুস্কের টেলিফোনে কথাবার্তার মুল বিষয় হয়েছিল. ১২ই জুন রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যে খেলার শুরু হওয়ার আগে ওয়ারশ শহরের পুলিশের পক্ষে দুই দেশের দলের ফ্যানদের মধ্যে প্রসারিত লড়াই বন্ধ করা সম্ভব হয় নি. প্রসঙ্গতঃ মারামারি শুরু করার উদ্যোগ নিয়েছিল এই চ্যাম্পিয়নশীপের উদ্যোক্তা দেশের লোকরাই. এই প্রসঙ্গে ভ্লাদিমির পুতিন রাশিয়ার ফ্যানদের নিয়ে পরিস্থিতি সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ও বিশেষ করে বলেছেন যে, এই ধরনের “খেলার আয়োজকদের উচিত্ ফ্যানদের নিরাপত্তার খেয়াল রাখা”.

কিন্তু রাশিয়ার ফ্যানদের ঘিরে উত্তেজনা বেড়েই চলেছে. জানা গিয়েছে যে, ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনের পক্ষ পরবর্তী চ্যাম্পিয়নশীপে রাশিয়ার জাতীয় দলের থেকে ছয় পয়েন্ট কমিয়ে দিতে পারে, ৮ই জুন চেখ দলের বিরুদ্ধে রাশিয়া দলের খেলার সময়ে ফ্যানদের অনুপযুক্ত আচরণের জন্য, যখন ফ্যানদের পক্ষ থেকে মাঠে আতস বাজী ছোঁড়া হয়েছিল. একই সঙ্গে ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনের শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাশিয়ার ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনকে ১২০ হাজার ইউরো জরিমানা করার. এই সিদ্ধান্ত লিখিত অবস্থায় পাওয়ার পরে রাশিয়ার ফুটবল অ্যাশোসিয়েশন তিন দিনের মধ্যে এর বিরুদ্ধে অ্যাপীল করতে পারে.

ফ্যানদের আচরণের জন্য শাস্তি দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু এবারে তা খুবই কঠোর, এই কথা উল্লেখ করে ফুটবল বিশেষজ্ঞ আন্দ্রেই মালসোলভ বলেছেন:

“এখন রাশিয়ার ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনের উকিলরা এই বিষয়ে কাজ করছেন ও তা বিশ্লেষণ করে দেখছেন. যেমন, ইউরোপীয় ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনের একটি অভিযোগ হল যে, ফ্যানদের পক্ষ থেকে স্তালিনগ্রাদ লেখা পতাকা টাঙানো হয়েছিল ও তারই সঙ্গে রাশিয়ার জার শাসনের সময়ের কালো- হলুদ- সাদা তেরঙ্গা পতাকা টাঙানো হয়েছিল, যার অর্থ এই সংস্থার প্রতিনিধিরা করেছেন চরমপন্থী প্রতীক হিসাবে. কিন্তু যদি সাম্রাজ্যের পতাকা নিয়ে তাও কিছু নিয়ে বলা যেতে পারে, তবে স্তালিনগ্রাদ এটা যে কোন সোভিয়েত দেশ থেকে আসা লোকের জন্যই পবিত্র জায়গা. আর রঙ মশাল নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল আমাদের দেশের ফ্যানদের এই গুলি মাঠে ছোঁড়া বন্ধ করতে হবে. আর ভ্রত্স্লাভ শহরে মাঠের পরিচারকদের সঙ্গে হাতাহাতি, যার কথা ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থার দলিলে উল্লেখ করা হয়েছে, তা বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন হবে খুঁটিয়ে দেখার ও বোঝার যে, এর কারণ কি ছিল. কারণ সেখানে সেই পোল্যান্ডের পরিচারকরাই খুব বিরক্তির উদ্রেক কারী ব্যবহার করেছিল, যারা স্থানীয় ফুটবল ক্লাবের আবার নিজেরাই ফ্যান”.

এরই মধ্যে রাশিয়ার ফুটবল অ্যাশোসিয়েশনের সভাপতি সের্গেই ফুরসেঙ্কো ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার পক্ষ থেকে উএফা সংস্থার সিদ্ধান্ত নিয়ে অ্যাপীল করা হবে, যারা ইউরো – ২০১৬ সালের কোয়ালিফায়ার রাউন্ডে রাশিয়ার ফুটবল দলকে ছয় পয়েন্ট শর্ত সাপেক্ষ ভাবে কেটে নিতে চেয়েছে ও তিনি আশা করেছেন খুবই কঠোর সিদ্ধান্তকে নরম করা হবে.

কিন্তু রাশিয়ার পক্ষ থেকে ওয়ারশ শহরের ঘটনা নিয়ে সেই আবারও কোন রকমের আইন সঙ্গত ব্যাখ্যা পাওয়া সম্ভব হয় নি. সেই খেলার দিনে রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যে খেলার আগে, পোল্যান্ডের পুলিশ, শহরের প্রশাসন ও উএফা সংস্থার প্রতিনিধিরা সমস্ত দায়িত্বশালী লোকরাই হিংসার প্রয়োগ করতে দিয়েছিলেন, কোন গুণ্ডাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং সাধারন ফ্যানদের বিরুদ্ধে, যারা এই ধরনের ঘটনা পরম্পরার জন্য তৈরী ছিলেন না.

আপাততঃ উএফা ওয়ারশ শহরের ঘটনা নিয়ে আরও একটি ঘোষণা করেই রাশিয়ার ফুটবল সংস্থার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলা রক্ষার নতুন পরিষদ গঠন করেছে, সেখানে এবারেও বিশ্লেষণ করার চেষ্টা হয়েছে মাঠে ফ্যানদের পক্ষ থেকে রঙ মশাল ছোঁড়া ও তাদের মতে অশালীন পতাকা দেখানোর জন্য শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে.