আন্তর্জাতিক নিরাপত্তারক্ষী শক্তি যবেই আফগানিস্তান থেকে ফিরুক না কেন, তার আগে মাদক দ্রব্য পাচার ও সন্ত্রাসবাদ নিকাশ করার কর্তব্য সম্পন্ন করতে হবে ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে রিপোর্ট দাখিল করতে হবে. এই মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরোভ কাবুলে আয়োজিত উচ্চস্তরের সম্মেলনে.

সম্মেলনে বক্তব্য রেখে লাভরোভ আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলে, যেখানে ভূমিকম্পে ১৭০ জন মারা গেছে, সে ব্যাপারে সমবেদনা জ্ঞাপন করেছেন. লাভরোভ উল্লেখ করেছেন, যে রাশিয়া বন্ধুদেশ আফগানিস্তানকে এই দুর্গতির কারণে যে কোনোরকম সাহায্য দিতে প্রস্তুত.

আফগানিস্তানকে সাহায্য যোগানো, তার পুণরুজ্জীবন ঘটতে সহায়তা করা, স্থিতিশীল শান্তিপূর্ণ উন্নয়নের কর্তব্য তথাকথিত ‘ইস্তাম্বুল প্রসেসে’র প্রধান কর্তব্য. তুরস্কে গত নভেম্বর মাসে আয়োজিত সম্মেলনে এই ঘোষণা করা হয়েছিল. ঐ প্রসেসে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিল ১৫টি দেশ, যাদের মধ্যে ছিল রাশিয়া, ভারত, ইরান, চীন, কাজাখস্তান.

আফগানিস্তানের পুণরুজ্জীবনের প্রাথমিক কর্তব্য প্রসঙ্গে লাভরোভ বলেছেন – যে রাশিয়া এই অভিমুখে ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করেছে. আমরা আগ্রহশীল যে কোনো দেশের সাথে একসঙ্গে আফগানিস্তানে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত করতে প্রস্তুত. যেমন, সালাং সুড়ঙ্গের, সার কারখানা, মাজারি-শরীফে তাপবিদ্যুত কেন্দ্রের পুণর্নির্মাণ, নতুন জলবিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপণ. অন্যান্য দাতারা কবে সাহায্য করবে, তার অপেক্ষা না করেই আমরা ‘কাসা-১০০০’ নামক প্রকল্পের পেছনে ৫০ কোটি ডলার ব্যয় করতে প্রস্তুত, যা এশিয়ার মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলে বিদ্যুত সরবরাহ করবে, আরও ‘তাপি’ নামক গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ করতেও তৈরি. আমরা এই সব প্রকল্পে অন্যান্য দেশের সদর্থক প্রতিক্রিয়ার প্রত্যাশা করি. আফগানি শরিকদের সাথে একসঙ্গে আমরা কাবুলের গৃহনির্মাণ কারখানার আধুনিকীকরন শুরু করতে চলেছি.

আফগানিস্তানে অন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা হল নিরাপত্তা রক্ষা ও মাদক দ্রব্য পাচারের সাথে সংগ্রাম. এ ক্ষেত্রেও রাশিয়া সক্রিয় অংশ নিচ্ছে. আমাদের দেশে আফগানি অসামরিক ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের তৈরি করার কর্মসূচী সম্প্রসারিত করা হচ্ছে. তবে ন্যাটো জোটের আশু প্রত্যাবর্তনের দরুন ঐ দেশে ও গোটা এলাকাতেই ঝুঁকি বাড়ছে, বলে সের্গেই লাভরোভ মন্তব্য করেছেন. আমাদের দৃঢ়বিশ্বাস, যে আন্তর্জাতিক ফৌজ যখনই আফগানিস্তান ছাড়ুক না কেন, তারা মাদক দ্রব্য ও সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কর্মকান্ড তীব্রতর করতে বাধ্য এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের সামনে চূড়ান্ত রিপোর্ট দিতে বাধ্য. বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে যেখানে চরসের চাষ করা হয় এবং হেরোইন বানানোর ল্যাবোরেটরি আছে.

সের্গেই লাভরোভ আরও একবার বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন মাদক দ্রব্য পাচারের বিরূদ্ধে সংগ্রাম সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্থার আওতায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ. ঐ সংস্থার সদস্য রাশিয়া ও আরও ৬টি সি.আই.এস রাষ্ট্র. তবে লাভরোভ উল্লেখ করেছেন, যে আন্তর্জাতিক ফৌজের তরফ থেকে সম্মিলিত নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংস্থার প্রস্তাবাবলী গ্রাহ্য না করা, আফগানিস্তানে জাতিসংঘ নির্দ্ধারিত লক্ষ্যসাধন দুরূহ করে তুলছে.