উত্তর ওসেতিয়া, যে প্রজাতন্ত্র রাশিয়ান ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত, সেখানে টেনিস অ্যাকাডেমি খোলা হয়েছে. এটা এ দেশে প্রথম, যেখানে খেলোয়াড়রা বছরের মধ্যে ৮ মাস আউটডোরে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে – এপ্রিল থেকে শুরু করে নভেম্বর পর্যন্ত. রাশিয়ায় টেনিসের উদ্ভব হয় সেন্ট-পিটার্সবার্গে উনবিংশ শতাব্দীতে. দেশে তখন থেকে শুরু হল টুর্ণামেন্ট ও বিভিন্ন টেনিস ক্লাবের পত্তন. ১৯১২ সালে রুশী টেনিসিস্টরা প্রথম অলিম্পিকে অংশ নেয়.

     ক্রমশঃ টেনিস রাশিয়ায় অনেকের জন্যই আকর্ষনীয় হতে শুরু করে. আন্তর্জাতিক স্তরে ২০০০ সাল থেকে শুরু করে ২০০৯ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার টেনিস খেলোয়াড়দের বোধহয় সবচেয়ে সফল পর্ব. ঐ সময়ে তারা অলিম্পিকের স্বর্ণপদক জিতেছে দু-দুবার, সমস্ত গ্রান্ডস্লাম জিতেছে, যেমন পুরুষরা, তেমনই মহিলারা.

     উত্তর ওসেতিয়ায় টেনিসের বিকাশ ঘটছে, যেমন রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে. টেনিস অ্যাকাডেমি সেখানে খোলা স্থামীয় অধিবাসীদের জন্যে নতুন পরিপ্রেক্ষিত সৃষ্টি করবে. সবচেয়ে বড় সুবিধা হবে, যে এখানে প্রায় সারাবছর টেনিস খেলা যাবে. উত্তর ওসেতিয়া ককেশাসের পর্ব্বতস্থানে অবস্থিত. ওখানে শীতকালে তেমন ঠান্ডা পড়েনা, আর গ্রীস্মকাল সুদীর্ঘ. এটা রাশিয়ার অধিকাংশ অঞ্চলের থেকেই বড় ফারাক, যেখানে সুদীর্ঘ ও শীতল শীতকাল. অ্যাকাডেমির আয়তন হবে ২ হেক্টরের কাছাকাছি. ওখানে ৭টা ক্লে কোর্ট, তিনটে কভার্ড কোর্ট, আর ২টো কোর্ট ৫ থেকে ১০ বছর বয়সী বাচ্চাদের জন্য. অ্যাকাডেমিতে একসাথে ৭২ জন অনুশীলন করতে পারবে. খুব শীঘ্রই সেখানে বাচ্চাদের নার্সারী, কাফে ও ৬ মিটার দৈর্ঘ্যের সুইমিং পুল খোলা হবে.

   তাছাড়াও দেড় হাজার দর্শক সমৃদ্ধ ৩টি ইনডোর কোর্ট, ২টি প্রশিক্ষণ হল, স্কুল ও ছাত্রাবাস নির্মাণ করারও পরিকল্পনা আছে. তবে ইতিমধ্যেই অ্যাকাডেমি বিভিন্ন স্তরের প্রতিযোগিতার আয়োজন করতে প্রস্তুত. এই মুহুর্তে প্রথম শিক্ষার্থীদের নেওয়া হয়েছে. এটা শিশুরা ১৭ বছর বয়স পর্যন্ত. প্রখ্যাত রাশিয়ান টেনিসিস্ট মারাত সাফিন উল্লেখ করেছেন, যে ঐ অ্যাকাডেমিতে টেনিস অনুশীলন করার জন্য সমস্ত সুবিধা আছে.