“রেডিও রাশিয়ার” ডিজিট্যাল অডিও ব্রডকাস্টিং (ড্যাব) অনুষ্ঠান, যে তরঙ্গে এবার থেকে আমাদের শোনা যাবে, তার একটা উপস্থাপনা লন্ডনে ১২ই জুন রাশিয়ার দূতাবাসে করা হয়েছে. “লন্ডন থেকে “রেডিও রাশিয়া”” নামে এই অনুষ্ঠান এখন থেকে শোনা যাবে.

 ২০১২ সালের ২৬শে মার্চ থেকে এই অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু হয়েছে. আপাততঃ স্থানীয় সময় বিকেল চারটা থেকে সাতটা পর্যন্ত এই অনুষ্ঠান সরাসরি লন্ডন থেকে প্রচার করা হচ্ছে, বাকী সময়ে অনুষ্ঠান করা হয়ে থাকে মস্কো থেকেই.

 “বিশ্বে প্রতিযোগিতার মাত্রা খুবই বেড়ে গিয়েছে, বহু রকমের দৃষ্টিকোণ উপস্থাপনা করা হচ্ছে, তাই “রেডিও রাশিয়া” শ্রোতাদের জন্য খুবই সুবিধাজনক হবে”, - এই কথা বলেছেন গ্রেট ব্রিটেনে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার ইয়াকভেঙ্কো. – “শুধু রাজনীতি নিয়েই অনুষ্ঠান করা হয় না, বরং তাতে থাকে সংস্কৃতি নিয়ে, খেলাধূলা নিয়ে, ধারণার বিনিময় নিয়েও. আমি উল্লেখ করতে চাইব যে, ব্রিটেনের জনগন বিভিন্ন রকমের দৃষ্টিকোণ সম্বন্ধে জানতে আগ্রহী. ঠিক এই কারণেই, আমার মতে, “রেডিও রাশিয়ার” বেঁচে থাকা খুবই ভাল, আর আমরা খুশী যে, এবারে এই রেডিও তৈরী হয়েছে”.

 ওয়াশিংটন, কিয়েভ, ইস্তাম্বুল ও রিও ডি জেনেইরোর পরে “রেডিও রাশিয়া” এখন গ্রেট ব্রিটেনের রাজধানীতে অনুষ্ঠান তৈরী করছে. রেডিও কোম্পানী সারা বিশ্বকেই রাশিয়া ও রাশিয়াতে জীবন নিয়ে বলতে চায়, আর তারই সঙ্গে বিশ্বের ঘটনাবলী নিয়ে মস্কোর চিন্তাধারা ব্যাখ্যা করতে চায়. রেডিও স্টেশন খুবই সক্রিয় ভাবে বিদেশে নিজেদের দেশের লোকদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে. একটি প্রাথমিক কাজই হল – রুশ ভাষা ও সংস্কৃতির জনপ্রিয়তা বাড়ানো, আর স্বাভাবিক ভাবেই – দেশের প্রতিকৃতির ইতিবাচক দিকটি মজবুত করা.

 তিন ঘন্টা সময়ের এক টক শো সরাসরি প্রচারে আয়োজন করে ব্রিটেনের শ্রোতাদের কাছে বিশ্বের, রাশিয়ার ও গ্রেট ব্রিটেনের চিত্র সম্পর্কে একটা ধারণা দেওয়া হয়ে থাকে, তাতে রাশিয়ার পক্ষ থেকে কেমন করে দেখা হয়েছে, সেটার উল্লেখ করে. প্রতি মাসে এই টক শো অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে থাকেন প্রায় ২০০ রুশ ও ব্রিটেনের বিশেষজ্ঞ, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিকরা. বহু রকমের আর অনেক সময়ে একেবারে পরস্পরের বিপরীত মেরুতে থাকা বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিকোণ থেকেই জন্ম নেয় সবচেয়ে বাস্তবোচিত ধারণা, যে কোনও বর্তমানের ঘটনা নিয়ে. এই অনুষ্ঠান তৈরী ও প্রচারের জন্য কাজ করছেন ১৮ জন কর্মী.

 “রেডিও রাশিয়ার” নতুন কাঠামোতে সম্প্রচার সম্বন্ধে লোককে জানান দেওয়ার জন্যই লন্ডনে রাশিয়ার রাষ্ট্র দূতাবাসে ১২ই জুন রাশিয়া দিবস উপলক্ষে এই উপস্থাপনার আয়োজন করা হয়েছিল. সমস্ত নিমন্ত্রিত অতিথিরা রেডিও রাশিয়ার উপস্থাপনা উপলক্ষে স্যুভেনির পেয়েছেন.

 রেডিও কোম্পানী “রেডিও রাশিয়া” আজ বিশ্বের ১৬০টি দেশে ৪৪টি ভাষায় ক্ষুদ্র ও মাঝারি তরঙ্গে, এফ এম তরঙ্গে, কৃত্রিম উপগ্রহ থেকে প্রচারিত তরঙ্গে ও মোবাইল টেলিফোনে প্রতিদিন ১৭৯ ঘন্টা ধরে অনুষ্ঠান প্রচার করছে. পাঁচটি দেশে “রেডিও রাশিয়ার” অনুষ্ঠান স্থানীয় বেতার তরঙ্গে প্রচারিত হয়. এই গুলি হল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটনে ১৩৯০ এ এম, নিউইয়র্কে- ১৪৩০ এ এম), ব্রাজিলে(রিও ডি জেনেইরো- ১০৯০ এ এম, সাও পাওলো – ১৫৭০ এ এম), তুরস্কে – দেশের ১৫টি শহরে সারা দিন রাত ধরে (আঙ্কারায় ১০৭ এফ এম, ইস্তাম্বুলে ১০৬, ৪ এফ এম, ইজমির শহরে – ৯০, ৩ এফ এম), ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ শহরে ১০৬ এফ এম, আর ভারতে চারটি শহরে ১০৪ এফ এম তরঙ্গে চারটি শহরে মোট ১২০ মিনিট দিনে রাতে নানা সময়ে শোনানো হয়ে থাকে.

 “রেডিও রাশিয়ার” ইন্টারনেট পাতা ৩৭টি ভাষায় দেখতে পাওয়া যায়. সাইটে সব মিলিয়ে ৫০০ টিরও বেশী বিভাগ রয়েছে. এই সাইট ব্যবহার করে থাকেন বিশ্বের ১৪০টি দেশের লোকরা. সাইটে একই সঙ্গে অন লাইন অবস্থায় রেডিও প্রচার শুনতে পাওয়া যায়, বাংলা ভাষার অনুষ্ঠান রোজ করা হয় আধ ঘন্টা ধরে, এছাড়া থাকে অডিও, ভিডিও ও মাল্টিমীডিয়া রূপে বহু তথ্য.