রাশিয়ার সমাজে প্রতিবাদ প্রদর্শনের আগ্রহ কমছে. কারণ হল যে, যে সমস্ত সমাবেশের বিষয় তথাকথিত ব্যবস্থার বাইরের প্রতিবাদী নেতারা বলছেন, তাতে আর কোনও দম নেই. এই ধরনের মন্তব্য ১২ই জুনের আরও একটি তথাকথিত “লক্ষাধিক লোকের মিছিলের” পরে মূল্যায়ন হিসাবে প্রকাশিত হয়েছে. তার আয়োজকরা পরবর্তী সমাবেশ আপাততঃ অক্টোবর মাস অবধি মুলতবি রেখেছেন.

 প্রতিবাদী মিছিলের লোকসংখ্যা নিয়ে তথ্য সাধারণত আলাদাই হয়ে থাকে. মস্কো শহরের এই প্রতিবাদ প্রদর্শনে মিছিল – যা পুশকিন স্কোয়ার থেকে শুরু হয়ে একাডেমিক সাখারোভ প্রসপেক্ট অবধি করা হয়েছে ও পরে সেখানে মিটিং করা হয়েছে – তাতে শৃঙ্খলা রক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী জড়ো করতে পারা গিয়েছিল ১৮ থেকে ২২ হাজার মানুষকে. যদিও আয়োজকরা নিজেরা ঘোষণা করেছেন প্রথমে পঞ্চাশ হাজার, আর পরে একেবারে ১ লক্ষ অংশগ্রহণকারীর মিছিল বলে. সেন্ট পিটার্সবার্গে “লক্ষ লোকের মিছিলে” হাজার দুয়েক লোক বেরিয়ে ছিলেন. আর সাইবেরিয়ার ওমস্ক শহরে – মাত্র চল্লিশ জন.

 প্রতিবাদের ঢেউ যথেষ্ট নির্দিষ্ট করেই মস্কো বাধা দিয়ে রেখেছে, এই কথা বলেছেন “রাজনীতি” নামের তহবিলের সভাপতি ও রাশিয়ার লোকসভার সদস্য ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ, তিনি বলেছেন:

 “সেই সমস্ত প্রতিবাদ প্রদর্শন, যা রাশিয়ার অন্যান্য শহরে হয়েছে, তা প্রথমতঃ রাজধানীর চেয়ে অনেকটাই কম, আর দ্বিতীয়তঃ হল যে, আগের আঞ্চলিক মিছিল গুলির চেয়েও অনেক কম. তাই বলা যেতে পারে যে, সব মিলিয়ে প্রতিবাদের ঢেউ স্তিমিত হয়েছে, যদিও তা কখনোই খুব একটা উঁচু ছিল না”.

 জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজভ মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, বিরোধী পক্ষের কোনও প্রসারিত, প্রস্তুত ও কর্মক্ষম রাজনৈতিক কাঠামো নেই. বিরোধী পক্ষ কোনও রকমের গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল সৃষ্টি করতে চাইছে না. তারা যে কোন রকমের নির্বাচনী প্রচারের জন্য এখনও তৈরী নয়, বলে মনে করেছেন মিখাইল রেমিজভ.

 এখানে উল্লেখ করা দরকার যে, এই প্রতিবাদ প্রদর্শনের বিষয়ে শান্তিপূর্ণ আচরণ লঙ্ঘণ করার প্রচেষ্টা কয়েকবার করা হয়েছিল. যেমন, জাতি বিদ্বেষী আন্দোলনের প্রতিনিধিরা সমাবেশের অন্যান্য অংশ নেওয়া লোকদের সঙ্গে হাতাহাতি শুরু করেছিল. আকর তা স্বত্ত্বেও এই প্রদর্শন ছিল যথেষ্ট শান্ত, এই কথাই উল্লেখ করে ভিয়াচেস্লাভ নিকোনভ বলেছেন:

 “আমি মনে করি যে, জন সমাবেশের আয়োজনের ক্ষেত্রে গুরুতর আইন ভঙ্গের জন্য দায়িত্ব বেশী হওয়া সংক্রান্ত এই আইন এক রকম ভাবে এই বিষয়ে সাহায্যই করেছে. এটা তাদের সকলকেই সচেতন করে তুলেছে, যারা তৈরী ছিল আবারও পুলিশের সঙ্গে লড়াই করতে ও খোলাখুলি ভাবেই সেই সব আইন কানুন ভঙ্গ করতে, যা এখন রয়েছে ও যা, বলা যেতে পারে যে, সেই সমস্ত আইনের সঙ্গে আলাদা নয়, যা, যে কোনও উন্নত গণতান্ত্রিক দেশেই সমস্ত পক্ষের ব্যবহারকেই নিয়ন্ত্রণ করে”.

 বেশীর ভাগ পর্যবেক্ষকই এই বিষয়ে একমত হয়েছেন যে, সরকার প্রতিবাদ প্রদর্শনের ক্ষেত্রে নিজেদের আচরণের লক্ষ্য স্থির করেছে: বিরোধী পক্ষের সক্রিয়তা আটকানোর চেষ্টা না করা, যা আইনের অন্তর্গত ভাবেই করা হতে পারে. আর রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির তথ্য প্রচার মুখপাত্র দিমিত্রি পেশকভ ঘোষণা করেছেন যে, মস্কোতে “লক্ষাধিক লোকের মিছিল” খুবই উচ্চ মানে আয়োজন করা হয়েছিল. এই মূল্যায়ন এই সমাবেশের অংশগ্রহণকারী ও শৃঙ্খলা রক্ষা কর্মীরা উভয় পক্ষই ন্যায্য ভাবেই পেয়েছেন.