প্রধান হল অংশ নেওয়া – জেতা নয়! এই কথাগুলি ফরাসী ব্যারন পিয়ের দ্য কুবের্তেন, যিনি আধুনিক অলিম্পিকের পুনর্জন্মের ব্যবস্থা করেছিলেন, তিনি লন্ডনে ১৯০৮ সালের চতুর্থ অলিম্পিকের উদ্বোধনের সময়ে বলেছিলেন. তার পর থেকেই এই আহ্বান পরবর্তী সমস্ত অলিম্পিকের মূল বাণী হয়ে গিয়েছে.

তিরিশতম গ্রীষ্ম অল্ম্পিকের প্রাক্কালে, যা ২৭শে জুলাই থেকে ১২ই আগষ্ট অনুষ্ঠিত হতে চলেছে লন্ডনে, আমরা একটা অনতি বৃহত্ গবেষণা করেছি. “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া একান্ত সাক্ষাত্কারে জাতীয় অলিম্পিক কমিটি গুলির প্রতিনিধিরা নিজেদের দেশ গুলির অলিম্পিক আশা নিয়ে বলেছেন. অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কারোরই হতাশ্বাস হওয়া উচিত্ নয়, এই কথা উল্লেখ করেছেন “রেডিও রাশিয়াকে” দেওয়া সাক্ষাত্কারে ব্রিটিশ অলিম্পিক অ্যাশোসিয়েশনের জন সংযোগ দপ্তরের প্রধান মিরিয়াম উইলকিনস. ব্রিটিশ লোকদের এবারে মেডেল জয় করা সহজ হবে, কারণ তাঁরা নিজেদের বাড়ীতেই এবারে প্রতিযোগিতায় নামছেন, কিন্তু আবার অন্য দিক থেকে – তাদের সব আয়োজনের জন্য কম শক্তি ব্যয় করতে হবে না. লন্ডনে আসছেন বিশ্বের ২০৪টি দেশের প্রতিনিধিরা.

ব্রিটেনের জাতীয় দলের আসন্ন অলিম্পিক গেমস নিয়ে কি পরিকল্পনা? আপনি কি মনে করেন কতগুলি মেডেল জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে? তাদের মধ্যে কতগুলি সোনার মেডেল?

আমরা আমাদের সামনে লক্ষ্য রেখেছি যত বেশী সম্ভব মেডেল জেতার. এই কাজ সহজ নয়, কারণ ২০১২ সালে অলিম্পিকে ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক দেশ অংশ নেবে. কঠিন আরও এই কারণে হবে যে, বেজিং অলিম্পিকে ২০০৮ সালে আমরা জয় করেছিলাম পদক তালিকায় অনেক ওপরের দিকে জায়গা ১১টি ধরনের প্রতিযোগিতায় সব শুদ্ধ ৪৭টি মেডেল নিয়ে. এটা ১৯২৪ সালের পর থেকে আমাদের সবচেয়ে ভাল ফল হয়েছিল.

কোন ধরনের খেলায় এবারে আপনাদের দল অংশ নিচ্ছে?

আমরা ২৬ টি ধরনের খেলার সব কটিতেই অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করেছি, তার মধ্যে কয়েকটি ধরনের খেলায় আমরা প্রথমবার অংশ নিতে যাচ্ছি, যেমন হ্যান্ডবলে. আরও আমরা এবারে প্রথমবার মেয়েদের ফুটবলে, বাস্কেটবলে ও ভলিবলে অংশ নিতে যাচ্ছি.

জাতীয় দলে কজন থাকছেন?

গ্রেট ব্রিটেনের দলে ৫৫০ জন অ্যাথলেট থাকছেন. তার সঙ্গে অন্তত আরও ৪৫০ জন ট্রেনার, তাদের সহায়ক, অ্যাডমিনিস্ট্রেটর, নানা ধরনের ম্যানেজার ও ৩০০ স্বেচ্ছাসেবক যোগ করা হলে পাওয়া যাবে ১৩০০ জন লোক. গ্রেট ব্রিটেন – পাঁচটি দেশের মধ্যে একটি, যারা সমস্ত অলিম্পিক গেমসে অংশ নিয়েছে সেই ১৮৯৬ সাল থেকে আর তিনটে দেশের মধ্যে একটি, যারা সমস্ত শীত অলিম্পিকেই অংশ নিয়েছে. আমরা একটি খেলাও বাদ দিইনি. আমরা দুবার অলিম্পিকের আয়োজন করেছি – প্রথমে ১৯০৮ সালে, তারপরে ১৯৪৮ সালে. আমার মনে হয় আমরা একমাত্র দেশ, যেখানে অলিম্পিক হচ্ছে এই নিয়ে তৃতীয় বার.

কাদের আপনারা মনে করেছেন নিজেদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বলে?

আমাদের তিনটি প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ – রাশিয়া, চিন ও আমেরিকা. এছাড়া, পাঁচটি দেশ পদক তালিকায় সেই জায়গাটাই পেতে চাইছে, যা আমরাও পেতে চাই, আর সেটা হল চতুর্থ থেকে নবম স্থান অবধি. বলা যেতে পারে যে, এটা প্রাথমিক ভাবে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানী, ফ্রান্স ও জাপানের জন্য, যাদের জেতার জন্য সমান ধরনের সম্ভাবনাই রয়েছে.

ব্রিটেনের জাতীয় দলের কে বা কারা পদক জিততে চলেছেন বলে মনে করেন?

আমি মনে করি, অনেকেই সাইক্লিস্ট ক্রিস হোয়ের নাম শুনেছেন, বেজিং অলিম্পিক গেমসের প্রথম তিন বারের চ্যাম্পিয়নের নাম. তখন তিনি একেবারে কল্পনাতীত রকমের ভাল ফল দেখিয়েছিলেন. আমরা এই বছরেও তার ওপরে আশা রেখেছি. এই মুহূর্তে আমরা ২১ জন খেলোয়াড় বাছাই করেছি, যারা দলের হয়ে পাল তোলা নৌকার প্রতিযোগিতায়, বক্সিংয়ে, আর অ্যাথলেটিক্সে নামবেন. অ্যাথলেটদের মধ্যে অবশ্যই আছেন বিখ্যাত পাওলা রাডক্লিফ. এই মহিলা এর মধ্যেই চারবার অলিম্পিকে গ্রেট ব্রিটেনের হয়ে অংশ নিয়েছেন. আমরা আশা করছি জাতীয় দলে অ্যাথলেট জেসিকা এন্নিস কে দেখতে পাওয়ার, যিনি হেপ্টাথলনে আপনাদের দেশের অ্যাথলেট তাতিয়ানা চেরনোভার সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নামতে চলেছেন. তাতিয়ানা খুবই শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু জেসিকাও কিছু ফেলনা নন. হেপ্টাথলন খুবই দর্শনীয় হতে চলেছে, এতে সন্দেহ করার দরকার নেই. আমরা তারই সঙ্গে আশা করছি যে প্রাইজ পাওয়ার মতো জায়গা পাবেন রেবেক্কা এডলিংটন সাঁতারে, ক্যাথরিন গ্রীঞ্জার নৌ বাইচ প্রতিযোগিতায়.

লন্ডন কিভাবে অন্য দল গুলিকে স্বাগত জানাতে চলেছে?

আমরা তাদের জাপ্টে ধরে আদর করে স্বাগত জানানোর জন্যই তৈরী হচ্ছি. লন্ডনে দুশো ভাষায় কথা বলা হয়ে তাকে. আমাদের খেলার দর্শকরা দারুণ. আমি মনে করি যে, আমাদের দেশে আসা অতিথিদের কোন রকমের সমর্থনের অভাব হবে না, তা যেমন আমাদের দেশে আসা তাদের নিজেদের দেশের সমর্থক দের পক্ষ থেকে, তেমনই আমাদের এখানে থাকা লোকদের মধ্যেই তাদের দেশের সমর্থকদের কাছ থেকে.