আজ ১২ জুন, রাশিয়া দিবস. সভা- সমাবেশ, কনসার্ট, ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আর দেশীয় খাবারের আয়োজনের মধ্য দিয়ে রুশিরা আজ পালন করছেন রাশিয়া দিবস.

অন্তত ১.৩ মিলিয়ন রুশি বিভিন্ন জনসমাগম এলাকাগুলোতে রাশিয়া উত্সবে মিলিত হবেন. এদের জন্য ১৫৫০ ধরণের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে. রাজধানী মস্কোতে ২০টির অধিক উত্সবমুখর অনুষ্ঠান পালিত হচ্ছে. তবে মূল অনুষ্ঠান হচ্ছে ‘তরুণ- রাশিয়া’ শীর্ষক কনসার্ট যা আজ বিকেলে রেড স্কোয়ারে অনুষ্ঠিত হবে. সেখানে রাশিয়ার সঙ্গীত ভুবনে জনপ্রিয় গায়ক ও লোকশিল্পীরা গান পরিবেশন করবেন. টানা পাঁচ ঘন্টা কনসার্টের পর ফায়ারওয়ার্কের মধ্য দিয়ে তা শেষ হবে.

এদিকে আজ দুপুরে রেড স্কোয়ারের পাশে স্বনামধৈন্য রন্ধনশিল্পী প্রতিনিধিরা মস্কোবাসীদের বিশাল আকৃতির একটি আপেল-পিঠা দিয়ে আপ্যায়ন করেছেন. পিঠাটি দৈর্ঘে ২ মিটার এবং প্রস্থে দেড় মিটার. পিঠাটিকে অনেকগুলো ভাগে ভাগ করা হয়েছে এবং আগ্রহী সবাইকে আপ্যায়ন করা হয়েছে. এছাড়া নগরীতে ঘুড়ে বেড়ানোর জন্য জনাকীর্ণ বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান এমনকি সড়কের পাশেই ভোর থেকে গান বাজানো হচ্ছে এবং তা চলবে বিকেল পর্যন্ত. অনেকেই জাতীয় খাবার প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেছে.

এ উত্সবমুখর অনুষ্ঠানগুলোতে পরিবারসহ সবাই ঘুড়ে বেড়ায়. শিশুদের জন্য নানা ধরণের ফেস্টিভ্যাল, প্রতিযোগিতা ও সার্কাসের আয়োজন করা হয়েছে. নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর রয়েছে নানা অনুষ্ঠান. যেমন মস্কোতে অনুষ্ঠানগুলোতে অনেকে পতাকা নিয়ে এসেছেন এবং নিজের পছন্দের বিখ্যাত ও নবীন গায়ক এবং কবির সাথে সাক্ষাতে মিলিত হয়েছেন. মস্কোর একটি পার্কে রাশিয়ার সংখ্যালঘিষ্ট জাতিগোষ্ঠী প্রতিনিধিদের উত্সব চলছে. গোটা দেশের বিভিন্ন এলাকার সৃজনশীল শিল্পীগোষ্ঠীর স্থানীয় ভাষায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করছেন. তাছাড়া সেখানে নিজস্ব হস্ত- শিল্পের নানা উপকরণ বিক্রি হচ্ছে এবং নিজস্ব মুখরোচক খাবার দিয়ে আগত দর্শনার্থীদের আপ্যায়ন করা হচ্ছে.

সর্বশেষ কয়েক বছর ধরে রাশিয়া দিবস যা এ সময়ের সবচেয়ে বহল পালিত একটি জাতীয় উত্সবে রুপ পেয়েছে. এমনটি মনে করছেন উত্সব নিয়ে তৈরী এমন একটি ওয়েবসাইট Calend.ru এর প্রধান সম্পাদক তাতিয়ানা প্রোকোফোয়েভা. তিনি বলেছেন, ‘রাশিয়া দিবস যা এ বছর ইতিমধ্যে ২য় দশকে অতিক্রম করেছে এবং নিশ্চিত করেই বলা যায়, এই উত্সব শুরু হওয়ার পর থেকে প্রতি বছরই এই উত্সবকে নিয়ে জনগনের মনমানসিকাতার পরিবর্তন হচ্ছে যা একই সাথে পরিবর্তন হচ্ছে এই উত্সব নিয়ে এবং নিজের দেশকে নিয়ে. আমার মতে, আজকের দিনে জনগন অনেক আগ্রহ নিয়ে এই উত্সবে অংশ নিচ্ছেন, বিশেষত এমন দিন যা দেশের সাথে সম্পৃক্ত. উত্সবে নিজ নিজ পরিবার ও শিশুরা অংশ নিয়ে থাকে’.

ঐত্যিহ অনুযায়ী রাশিয়া দিবসের এ দিনে দেশের পক্ষ থেকে ২০১১ সালে বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলায় বিশেষ অবদান রাখায় বিশেষ ব্যক্তিদের মাঝে রাষ্ট্রীয় পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়. ক্রেমলিনে এ পুরস্কার বিতরণ করেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন.

আজ ইউরো কাপ ফুটবল চ্যাম্পিয়ানশিপে রাশিয়া ও পোল্যান্ডের মধ্যকার খেলা অনুষ্ঠিত হবে. অনেক ফুটবল ভক্তরা এ ম্যাচ উপভোগ করবেন বড় পর্দায় যা খোলা আকাশের নীচে  পার্কে ও প্রদর্শনী উদ্যানে নির্মাণ করা হয়েছে. এছাড়া বার ও রেষ্টুরেন্টে বসেও অনেকে খেলা দেখবেন. ফুটবল প্রেমীরা জাতীয় দলের কাছে শুধুই বিজয় অপেক্ষা করছেন এবং এ বিজয় উত্সব আগামীকাল ভোর পর্যন্ত পালন করবেন. এদিকে রাশিয়া দিবস উপলক্ষ্যে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ব্যাপক পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে. পুরো রাশিয়ায় এ দিন নিরাপত্তার দায়িত্বে ৭০ হাজার পুলিশ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ৯ হাজার সামরিক সেনা মোতায়েন করা হয়েছে.