ইউরোএশিয়া থেকে বেরিং প্রণালীর ঠান্ডা জল অতিক্রম করে বিশ্বের ১২টা দেশের সাঁতারুরা আগামী ৩০শে জুলাই রুশী প্রণালী দেঝনেভ থেকে আলাস্কায় প্রিন্স চার্লস প্রনালীতে মোট ৮৬ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করার পরিকল্পনা করেছে.

   ঐ সাঁতারে অংশ নেবে রাশিয়া, আমেরিকা, গ্রেট বৃটেন, চীন, ইতালি, এস্তোনিয়া, সুইডেন, আয়ার্ল্যান্ড, পোল্যান্ড, ফিনল্যান্ড, আর্জেন্টিনা ও চিলি থেকে বিশ্ববিখ্যাত সাঁতারুরা. দলটির অর্ধেকের বেশিই রুশবাসী, উত্তরে মুরমানস্ক থেকে শুরু করে দূরপ্রাচ্যের বাসিন্দা পর্যন্ত.

   ২৪ ঘন্টাব্যাপী সাঁতার চলবে রিলে রেসে. ব্যাখ্যা করে বলছেন সংগঠক ও অন্যতম অংশগ্রহণকারী আলেক্সান্দর ব্রীলিন.

       আমরা এরকম সিদ্ধান্ত নিয়েছি. সাঁতারুরা ২০ থেকে ৩০ মিনিট সাঁতার কাটবে. তারপরে তাদের ‘এ্যাকাডেমিক শোকালস্কি’ নামক জাহাজে চড়ানো হবে, যেখানে শারিরীকভাবে তাদের পর্যবেক্ষণ করা হবে ও বৈজ্ঞানিক গবেষণা করা হবে. আর সেইসময়ে অন্য সাঁতারু ৩০ মিনিট পর্যন্ত তার নির্দিষ্ট দূরত্ব অতিক্রম করবে. এইভাবে আমরা সারারাত দূরত্ব অতিক্রম করবো.

         আলেক্সান্দর ব্রীলিন বলে চলেছেন – ঐ সময় উত্তর মেরুতে রাতেও সুর্য জ্বলবে. সাঁতারুরা কোনো রকম হাইড্রোড্রেস ছাড়াই শুধু জাঙ্গিয়া ও রবারের টুপি পরে সাঁতার কাটবে. ঐ সাঁতারের সব অংশগ্রহণকারীরা একাধিকবার বিশ্ব ও ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে. বেরিং প্রণালীকে চ্যালেঞ্জ জানানোর জন্য তারা ১০ বছর ধরে প্রস্তুতি নিয়েছে. সাঁতারুরা জাপান সাগর, পীত সাগর ও অখোত্স্কি সাগরে প্রশিক্ষণ নিয়েছে. আরও বৈকাল হৃদ, ভোলগা নদী, এনিসেই ও আমুর নদীতেও শরীরচর্চা করেছে.

     বেরিং প্রণালী উত্তর বরফ মহাসাগর আর প্রশান্ত মহাসাগরের সীমান্তে অবস্থিত. ওখানে সুমেরুর ঠান্ডা জল ও আমেরিকার উষ্ণ জল মেলে. বাতাসের গতি সবসময়েই সেকেন্ড প্রতি ২০ মিটারের বেশি. রাশিয়ার উপকূলে জলের তাপমাত্রা প্লাস ২ থেকে ৬ সেন্টিগ্রেড, আমেরিকার উপকূলে ৮ সেন্টিগ্রেডের কাছাকাছি.

    এর আগে বেরিং প্রণালীর নিত্য পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে কেউ তাকে পার হওয়ার ঝুঁকি নেয়নি. একমাত্র আমেরিকার নারী সাঁতারু লিন কক্স ১৯৮৭ সালে চেষ্টা করেছিল. তবে সে মাত্র ৪ কিমি ২০০ মিটার অতিক্রম করতে সমর্থ হয়েছিল জলে ২ ঘন্টা ৬ মিনিট থেকে. তার পরেই কক্স জগদ্বিখ্যাত হয়ে যায়. এবারে সাঁতারুদের ২০ গুন বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে হবে.

   ঐ সাঁতারের রিলে রেস আয়োজিত হচ্ছে রুশী ভৌগলিক সমাজের তত্ত্বাবধানে. ঐ সমাজের নাম অর্থোডক্স গীর্জার সংকেতমুলক নামে – “সুর্যের সাথে সাক্ষাত করো”. বহুবছর আগে রুশী অভিযাত্রীরা, যারা রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল জয় করতে যেতো, তারাও ঐ উক্তি করতো. এই সাঁতার কাটা উত্সর্গীকৃত ভিটাস বেরিং, আলেক্সেই চিরিকভ ও সিমিওন দেঝনেভের প্রতি, যারা ৩৬৪ বছর আগে প্রথম বেরিং প্রণালী আবিস্কার করেন.