রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় কর্পোরেশন ‘রসঅ্যাটম’ পৃথিবীতে সবচেয়ে সঠিক ঘড়ি বানানোর প্রতিযোগিতা ঘোষণা করেছে. তাত্ত্বিকগত ভাবে ঐ ঘড়ি সেকেন্ডের জন্যেও বিশ্বের গোটা অস্তিত্ত্বের ইতিহাসের প্রেক্ষাপটে লেট করবে না.

      খুব সম্ভবতঃ, জাতীয় নিউক্লিয়ার গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরাই এই কাজে যোগ দেবেন. ঐ প্রকল্প বাস্তবায়িত করার জন্য অপরিহার্য যন্ত্রপাতি ও বিশেষজ্ঞ ইনস্টিটিউটের আছে. এটা রাশিয়ায় দুটো গবেষণামুলক কেন্দ্রের একটি. ঐ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল ২০০৯ সালে, যার কর্তব্য – শুধু পড়াশুনো সফল ভাবে করানো নয়, ঐ বিশ্ববিদ্যালয়েই গবেষণা করা সব তত্ত্বের সমন্বয় ঘটানো.

      জাতীয় গবেষণা বিশ্ববিদ্যালয় ‘রসঅ্যাটম’ কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে আছে বর্তমানে. অন্যদিকে রসঅ্যাটম দেশের ইউরোপীয় অংশে ৪০% এরও বেশি বিদ্যুত উত্পাদন করে, ও বিশ্বে পারমানবিক প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রথমস্থান অধিকার করে.

     এই মুহুর্তে পৃথিবীতে নিউক্লিয়ার ঘড়ি সবচেয়ে সঠিক বলে ধরা হয়. ইলেকট্রনগুলি অ্যাটমের চারপাশে ঘোরে, কিন্তু নিয়মিত কক্ষপথ বদল করে. সময় নির্দ্ধারন করার জন্য, যেমন সেকেন্ড নির্দ্ধারন করার জন্য ঐ কক্ষপথ বদলের দিকে লক্ষ্য রাখতে হয়.

    অ্যাটমের তুলনায় নিউক্লিয়াসের সুবিধা আছে. অ্যাটম ঘড়ির ক্ষমতা সীমাবদ্ধ, কারণ বাইরের কিছু কিছু ফ্যাক্টর কাছ করতে পারে সেখানে. নিউক্লিয়ার গড় মাপে হবে তুলনামুলকভাবে ছোটো এবং কোনো বাইরের ফ্যাক্টর তার উপর প্রভাব ফেলতে পারে না. আশা করা হচ্ছে, যে ঐ ঘড়ি তৈরি করা হবে তেজস্ক্রিয় তোরিয়া-২২৯ দিয়ে. 

     নতুন ঘড়ি বানানোর মুল সমস্যাটা হচ্ছে এই, যে বিশেষজ্ঞরা এখনো বুঝতে পারছেন না, যে কখন ইয়োন এক স্তর থেকে অন্য স্তরে পৌঁছায়. যে মুহুর্তে পদার্থবিদ-পরমানুবিদরা ঐ স্তরবদলের সময় নির্দ্ধারন করতে সক্ষম হবে, তত্ক্ষণাত নতুন ঘড়ি বানানো যাবে.

     বিশ্বের অন্যান্য বিভিন্নদেশেও, যেমন আমেরিকায়, ফিনল্যান্ডে, জার্মানীতে ঐ রকম ঘড়ি বানানোর চেষ্টা চলছে. রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, যে তারা বিদেশীদের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে. তারা বিশেষ করে উল্লেখ করছে, যে নিউক্লিয়ার ঘড়ি জ্ঞানের অনেকক্ষেত্রে সুবিধাবহ হবে. যেমন, সঠিক সময় নির্দ্ধারণ স্যাটেলাইট নেভিগেশনের জন্য উপযুক্ত. সময় যত সঠিক হবে, ততই স্যাটেলাইট থেকে দেওয়া তরঙ্গের মাধ্যমে তার ঠিকানা জানা যাবে. এর মানে হচ্ছে, রাশিয়ার নতুন নেভিগেশন সিস্টেম ‘গ্লোনাসে’র উত্কর্ষতা কয়েকগুণ বাড়বে.