আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের(আইসিসি) যে ৪ জন প্রতিনিধিকে লিবিয়া সরকার আটক করেছে তাদের মুক্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে. আটককৃতদের মধ্যে ১ জন হলেন হল্যান্ডে নিযুক্ত রুশ দূতাবাসের সাবেক রাষ্ট্রদূত আলেকসান্দার খাদাকোভ. উল্লেখ্য, লিবিয়ার জিনতান শহরের একটি কারগারে বন্দি থাকা সে দেশের সাবেক নেতা মুহাম্মর গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের সাথে সাক্ষাত করার পরই আইসিসি'র ওই ৪ প্রতিনিধিকে আটক করা হয়. গত ৭ জুন এ ঘটনা ঘটলেও এ সংবাদ গত শনিবার বিকেলে জানা যায়.

ইতিমধ্যে এ ঘটনার সাথে জড়িত থাকা কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা সম্ভব হয়েছে. আটক করা হয়েছে অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবি মেলিন্দা টেইলর ও তার দোভাষীকে. অন্যদিকে রুশ নাগরিক আলেকসান্দার খাদাকোভ ও তার স্প্যানিস সহকর্মী এস্তেবান পেরাল্তা লাসিয়ানা’কে আলাদা স্থানে আটকে রাখা হয়েছে. মূলত, অস্ট্রেলিয়ান ওই নারী আইনজীবিকে গুপ্তচরের কারণে এবং তার দোভাষীকে সহযোগী হিসেবে আটক করা হয়. তাছাড়া ওই আইনজীবির কাছে লিবিয়ার আদালতে বিচারাধীন মোস্ট ওয়ান্টেড আসামীর চিঠি পাওয়া গেছে. এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের লিবিয়ার প্রতিনিধি আহম্মেদ জেহানী. যার লেখা ওই চিঠি পাওয়া গেছে মূলত তিনি হচ্ছেন সাইফ আল-ইসলামের সবচেয়ে বিশ্বস্তভাজন ব্যক্তি যাকে তাঁর ডান হাত বলেই মনে করা হয় এবং তিনি হলেন মোহাম্মেদ ইসমাইল. জেবানী বলেন, অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবি ওই চিঠিটি সাইফ আল-ইসলামকে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন, যে বিষয়ে তাঁর কোন সম্পর্কই নেই এবং তদুপরি তিনি লিবিয়ার নিরাপত্তাকে হুমকির দিকে পরিচালিত করার চেষ্টা করেছেন.

এদিকে,  আইসিসি ত্রিপলীর কাছে আটকৃত ওই ৪ জন প্রতিনিধির নিরাপত্তার গ্যারান্টি ও তাঁদের দ্রুত মুক্তির দাবী জানিয়েছে. তাছাড়া ওই ৪ জন লিবিয়া সরকারের অনুমতি নিয়েই আনুষ্ঠানিক সফরে গিয়েছিলেন. লিবিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় অস্ট্রেলিয়ান আইনজীবিকে মুক্তি দেওয়ার জন্য লিবিয়ার সরকারের কাছে আহবান জানিয়েছে যাতে এ ঘটনার পূর্ণ তদন্ত করা সহজ হয়. বর্তমানে আইসিসি'র ৪ প্রতিনিধিকে জিনতান সামরিক ব্রিগেডিয়ারের তত্বাবধানে রাখা হয়েছে. সেখানের শীর্ষ কর্মকর্তা আলি আহমেদ আল আতিরি জানিয়েছেন, শুধুমাত্র জিজ্ঞাসাবাদের পরবর্তি পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করেই তাঁদের মুক্তি দেওয়া হবে. জিনতান বিগ্রেডিয়ার মূলত তাদেরই আটক করেছে যাদের সাথে নিহত লিবিয়ার নেতা গাদ্দাফি ও তার ছেলের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ কোন সম্পর্ক রয়েছে. পরে তা আদালতে বিচারকার্যে প্রমানস্বরুপ তুলে ধরা হয়. এই বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন রাশিয়ার স্ট্রাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আজাহার কুরতোভ. তিনি বলেছেন, ‘এই শক্তি বাহিনীর বিচারকার্যের ওপর নির্ভরশীলতা থাকার ইচ্ছা খুব কম. লিবিয়ার এই রাজনৈতিক অধিকর্তা সত্য ঢাকার যে চেষ্টা করছে তা কিছুতেই বাঁধ দেওয়ার অবকাশ নেই এবং তাঁরা একই ধরণের অপরাধ সংঘঠিত করতে চাচ্ছে, অর্থাত সাইফ আল-ইসলামকে হত্যা করা. বর্তমান ঘটনা যেকোন দিকে যে মোড় নিতে পারে তা এড়িয়ে যাওয়ার কোনই সম্ভাবনা নেই. তাই আটককৃতদের ভাগ্য নির্ভর করছে মূলত তাদের সফরকালীন কার্যক্রমের ওপরই. তাই, হয়তবা এখন শুধুমাত্র তাদের মুক্তি দেওয়ার বিষয়ই নয় বরং তাদের জীবন নিয়ে চিন্তার সময় এসেছে’.

 আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত সাইফ আল-ইসলামকে মানুষ হত্যার দায়ে দোষী দাবী করে তাঁকে আইসিসি'র কাছে তুলে দেওয়ার চেষ্টা করছে. অন্যদিকে ত্রিপলী মনে করছে, গাদ্দাফির ছেলে যিনি লিবিয়ার জনগনের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন তাঁর বিচার লিবিয়ার মাটিতেই হওয়া উচিত.