সিরিয়ার পরিস্থিতি এখন পুরোপুরি গৃহযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে. শান্তি প্রতিষ্ঠায় কফি আনানের পরিকল্পনার বাস্তবায়ন হচ্ছে না. তবে একই সাথে মস্কো সিরিয়া সংক্রান্ত জাতিসংঘের পরিকল্পনাকে ভেস্তে না দিয়ে তার যথার্থ রুপ দিতে আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তা তুলে ধরতে চাচ্ছে.

চলতি সপ্তাহের শেষের দিকে সিরিয়ার হামা শহরের উপকন্ঠের ২টি গ্রামে গত বুধবার বেসামরিক লোকজনদের হত্যা করার ঘটনার বিবরন অবশেষে জানা গেছে. সেখানে শিশু ও মহিলাসহ প্রায় ১০০ জনকে হত্যা করা হয়েছে. কাউকে গুলি করে অথবা আগুনে পুড়িয়ে মারা হয়. সেই সাথে সিরিয়ায় নিযুক্ত জাতিসংঘ পর্যবেক্ষক দল চলমান যুদ্ধ সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা করতে পারছেন না. সিরিয়ার সরকার এ ঘটনার জন্য অস্ত্রধারীদের দায়ী করেছে এবং অন্যদিকে বিরোধী দল সিরিয়ান জাতীয় পরিষদ পাল্টা সরকারকে দোষারোপ করছে.

রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয় জানিয়েছে, সিরিয়ার এ যুদ্ধ কফি আনানের পরিকল্পনাকে নষ্ট করার জন্য করা হচ্ছে. স্ট্রেটেজিক ও এ্যানালাইজ সেন্টারের বিশেষজ্ঞ সেরগেই দেমিদেনকো বলেছেন, ‘একদম পরিষ্কার যে, বাশার আসাদকে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে. এই ধরণের ঘটনা এমনিতেই ঘটতে পারে না. আমার মতে, এমন গণহ্ত্যা কার জন্য সবচেয়ে অপেক্ষাকৃত কমই কামনার, এবং তা বাশার আসাদেরই’.

একই মতামত জানিয়েছেন প্রাচ্যতত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমীর সোতনিকোভ. তিনি জানিয়েছেন, ‘এই গণহ্ত্যা সরকারি সেনাদের দ্বারা ঘটে নি. পরিস্থিতিকে জটিল করতে কয়েকটি বিরোধী দলের এই প্রচেষ্টা. তাঁদের আল-কায়দার মত জঙ্গি সংগঠনের সাথে যোগাযোগ রয়েছে. বাশার আসাদকে হঠানোর জন্য বিদেশী হস্তক্ষেপ প্রতিষ্ঠা করাই হল এর প্রধান উদ্দেশ্য’.

হামায় ওই রক্তক্ষয়ী নাটকীয় ঘটনার পরই সিরিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনার আহবান জানিয়েছেন আরব লিগের জেনারেল সেক্রেটারি নাবিল আল-আরাবি. এই বিবৃতির পরিপেক্ষিতে এক উত্তরে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ বলেছেন, ‘সিরিয়ার সংকটে জড়িত থাকা বিদেশী সমর্থনপুষ্ট সিরিয়ান জাতীয় পরিষদ বাশার আসাদের সাথে আলোচনার টেবিলে বসতে চাইছে না. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ সিরিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনার অনুমতি না দেওয়া পর্যন্ত তাঁরা সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যাবে. সিরিয়ায় সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি মিলবে না, আমি আপনাদের এই গ্যারান্টি দিচ্ছি’.

সিরিয়ার সংকট নিয়ে সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মাঝে আলোচনার পরিবেশ তৈরী করার জন্য মস্কো অতি শীঘ্রই সিরিয়া বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজনের আহবান জানিয়েছে. এই সংকটে উভয় পক্ষকে প্রভাবিত করা দেশগুলোই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করতে পারে. মস্কোর মতে এমন দেশগুলো হলঃ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো, কাতার, সৌদি আরব, ইরান ও সিরিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলো যেমনঃ লেবানন, জর্দান, ইরাক ও তুরস্ক.

সিরিয়ার সংকটে বিভিন্ন পক্ষকে প্রভাবিত করছে এ ধরণের দেশগুলোকে অবশ্যই সম্মেলনে অংশগ্রহন করা উচিত এবং ইরান হচ্ছে এমনই একটি দেশ. রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ শনিবার এক বিবৃতিতে এ কথাই বলেছেন. বিভিন্ন দেশ ছাড়াও বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সংস্থাও এ সম্মেলনে অংশ নিতে পারে, যেমনঃ আরব লিগ, ইসলামিক সহযোগিতা সংস্থা, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ.

রাশিয়া এ ধরণের আলোচনা শুরু করতে মস্কোতে, জেনেভায় অথবা যে অন্য কোন স্থানে বসতে রাজি আছে. তবে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, মূল কথায় ঐক্যমতে পৌঁছানো. রাজনৈতিক ধারা অবলম্বন করে দামাস্কাসকে অবহিতকরণ ও বিভিন্ন পর্যায়ের বিরোধীদলগুলোকে যুদ্ধ বন্ধ রাখা নিশ্চিতকরণ করতে হবে এবং এর বাস্তবায়নের জন্য উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা সৃষ্টি করার করতে হবে.