রাশিয়ার ফুটবল দল এক কঠিন লড়াইয়ের খেলায় ইউরো – ২০১২র প্রথম গ্রুপের খেলায় চেখ ফুটবল দলকে ৪-১ গোলে হারিয়ে দিয়েছে. খেলার শুরু থেকেই আপাতঃ নিরুত্সাহ রুশ দলের খেলোয়াড়রা ঠিক করে উঠতেই যেন পারছিল না, চেখ খেলোয়াড়দের ক্রমাগত আক্রমণ কি করে ঠেকিয়ে রাখা সম্ভব, যারা প্রথম কয়েক মিনিটের মধ্যেই দুটি কর্ণার করতে পেরেছে ও রাশিয়ার গোলকীপার ভিয়াচেস্লাভ মালাফিয়েভকে সঙ্কটে ফেলার মতো বেশ কয়েকটি শট নিয়েছে রাশিয়ার গোল লক্ষ্য করে?

এক সময়ে মনে হচ্ছিল যে, চেখ দলের কোচ রাশিয়া দলের কোচ ডির্ক আডভোকাটের সমস্ত কৌশল বুঝে গিয়েছেন ও রাশিয়ার বোধহয় আর নিজেদের মত করে খেলার সুযোগই জুটবে না. তবে সুখের কথা, গতকাল রাশিয়া খেলেছে সুপ্ত ড্রাগনের মতো ও খেলা শেষে কেউ মনে করতেও বসে নি, কেন খেলার ১২ মিনিটের মাথায় চেখ দলের বলের উপরে নিয়ন্ত্রণ ছিল শতকরা ১০০ ভাগ. কারণ প্রথম দলবদ্ধ সুসংহত আক্রমণই রাশিয়াকে এনে দিয়েছিল এক প্রয়োজনীয় সাফল্য ও অ্যালান জাগোয়েভ দলকে ১-০ গোলে এগিয়ে দিয়েছিলেন.

প্রথম পর্বের বিরতির সময়ে খেলার স্কোর ছিল ২-১, তখনও সন্দেহ ছিল সব ঠিক হবে কি না. তবে দ্বিতীয়ার্ধের শেষে যখন অফসাইডে থেকে চেখ দলের খেলোয়াড় রাশিয়ার গোলে বল ঠেলেছিল ও রেফারি সেই গোল বাতিল করেছিলেন, তখন পোল্যান্ডের ভ্রশ্লাভের ষ্টেডিয়ামে খেলার ফল দেখাচ্ছিল ৪-১, যার প্রতিটি গোলই রাশিয়া দলের খেলোয়াড়দের সামগ্রিক উত্কর্ষের প্রমাণ. ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আয়োজক দেশের ফুটবল দলের খেলা দেশের ভিতরে সব সময়েই নানা ধরনের সমালোচনা ও ব্যঙ্গের মুখোমুখি হয়ে থাকে, যদিও দলের ক্যাপ্টেন আরশাভিন বিশ্ব বন্দিত ফুটবল খেলোয়াড়. তাই এই প্রথম জয় কিছুটা হলেও দেশের লোকের সমর্থন পেতে সাহায্য করেছে, মনে রাখতে হবে রাশিয়াতে বর্তমানে সমস্ত রকমের দলগত বিষয়ে একমাত্র সাফল্যই দেশের লোকদের সমালোচনার হাত থেকে রক্ষা পেয়ে থাকে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের টুইটার মাইক্রোব্লগে ফরোয়ার্ড পাভল্যুচেঙ্কোর চতুর্থ ও অনবদ্য গোলের ছবি যোগ করে লিখেছেন: “সসম্মানে উত্তীর্ণ”! চেখ দলের গোলকীপার ও বর্তমানের বিশ্বসেরা এক গোলকীপার পিটার চেখকে গতকাল যে মুখ নিয়ে মাঠ ছাড়তে দেখা গিয়েছিল, তা অনেকটা মনে করিয়ে দিচ্ছিল যে, “ফুটবল খেলাটা ১১ জনের, আমি একা কি বা করতে পারি”!