রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সেই আইন স্বাক্ষর করেছেন, যা মিটিংয়ের সময়ে আইন ভঙ্গ করলে শাস্তি কঠোর করবে ও তা করার জন্য প্রশ্ন গুলিকে নিয়ন্ত্রণ করবে. পুতিন ঘোষণা করেছেন যে, রাশিয়ার আইনে মিটিংয়ের সময়ে আইন ভঙ্গ করার জন্য শাস্তি একই রকমের ইউরোপের আইন গুলির চেয়ে বেশী কঠোর নয়. তিনি আরও যোগ করেছেন যে, এই নতুন আইনে সংশোধনী করা যেতে পারে. রাশিয়ার সংসদের নিম্ন কক্ষ ৫ই জুন দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার পাঠের পরে এই আইন গ্রহণ করেছে. দেশের রাজ্য সভা এই আইন সমর্থন করেছে ৬ই জুন, তার পরে আইনের দলিল রাষ্ট্রপতির কাছে স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হয়েছিল. এই আইনের ফলে মিটিংয়ের সময়ে আইন ভঙ্গ করা হলে তার জন্য জরিমানার পরিমান দশ গুণেরও বেশী বাড়িয়ে দিয়েছে, আর আইন ভঙ্গ কারী লোকদের বাধ্যতা মূলক ভাবে সামাজিক কাজ কর্ম করতে হবে. এই দলিলে মিছিল করার সময়ে মুখোশ পরা যাবে না ও শাস্তির ব্যবস্থা করা হয়েছে যদি বাস্তবে জনগনের গণ সমাবেশের নামে কোন রকমের অস্বীকৃত গণ মিটিং করার চেষ্টা করা হয় ও যদি এর ফলে সামাজিক শৃঙ্খলা ব্যাহত হয়. বিরোধী পক্ষ এই নতুন আইন নিয়ে খুশী নয়. একই সময়ে বেশীর ভাগ বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক নেতারা বিশ্বাস করেন: প্রশাসনিক শাস্তি এবারে আইন ভঙ্গকারীদের জন্য স্রেফ ইউরোপীয় মানে "তুলে" আনা হয়েছে.

 মিটিংয়ের সময়ে আগে থেকে ঠিক করা পথের বাইরে অন্য দিকে গেলে, আবার তার ওপরে – পুলিশের উপরে পাথর বা বোতল ছুঁড়লে - এবার থেকে তা হবে খুবই দামী "আনন্দ". ক্ষেপা লোকদের এখন থেকে জরিমানা করা হবে ১০ থেকে ৩ লক্ষ রুবল (৩০০ থেকে ১০ হাজার ডলারের সমান), আর আয়োজন যারা করেছিল, তাদের জন্য জরিমানা হতে পারে ৬ লক্ষ রুবল অবধি (২০ হাজার ডলারের সমান অর্থ). এছাড়া, নতুন আইনে মুখোশ পরেও কোন মিটিংয়ে আসা চলবে না.

 মনে করিয়ে দিই যে, মিটিং ও মিছিল নিয়ে নতুন করে আইন সংশোধনের প্রয়োজন উদয় হয়েছিল কিছু বিরোধ অনুষ্ঠানের পরে, যা রাশিয়াতে এপ্রিল- মে মাসে রাশিয়ার বড় শহর গুলিতে হয়েছিল. উদাহরণ স্বরূপ – ৬ই মে মস্কো শহরে ভীড়ের মধ্যে থেকে শৃঙ্খলা রক্ষা কর্মীদের উপরে ছোঁড়া হয়েছিল পাথর ও মলোতভ ককটেল. এই মিটিংয়ের আয়োজকরা পরে এই সব গুণ্ডাদের থেকে নিজেদের আলাদা করে নিয়েছিলেন, তারা বলেছিলেন, কিছু গোলমেলে জোটের লোকরাই নাকি এই অপকর্ম করেছে.

 এই সব ঘটনা হওয়ার পরে সরকার ও বিশেষজ্ঞরা সমাবেশ সংক্রান্ত আইনের অসম্পূর্ণ অবস্থা নিয়ে চিন্তা শুরু করেছিলেন. রাশিয়ার আইন দেখা দিয়েছিল অনেক বেশী লিবারেল, যদি তা একই রকমের নিয়ম ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে তুলনা করে দেখা হয়. রাশিয়াতে এখনও যে রকমের শাস্তি মিটিংয়ে শৃঙ্খলা ভঙ্গের জন্য দেওয়া হচ্ছিল – তা ৫০০ থেকে ২০০০ রুবল জরিমানা (১৫ থেকে ৬৫ ডলারের সমান). তাই দরকার পড়েছিল নতুন নিয়ম তৈরী করার, এই কথা উল্লেখ করে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে রাজনীতিবিদ পাভেল দানিলিন বলেছেন:

 “এই আইন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের আইনের সবচেয়ে ভাল জিনিস গুলিই নিয়েছে. তাতে খুবই উপযুক্ত ভাবে মিটিং আয়োজকদের অধিকার, দায়িত্বশীল লোকদের অধিকার, যারা এই মিটিং করার অনুমতি দিয়ে থাকে ও সেই সব শক্তি, যারা সেখানে আইন কানুন রক্ষা করে তাদের সকলের অধিকার ব্যাখ্যা করা হয়েছে. আর এটা ঠিকই যে, তা অনেক আইন ভঙ্গকারীদের, গুণ্ডাদের ও প্ররোচনা দেওয়ার লোকদের বাধা দিতে সক্ষম হবে”.

 এই নতুন করে সংশোধিত আইন বিরোধীদের কোন রকমের আনন্দের কারণ হয় নি. বিরোধী পক্ষের লোকরা, যারা গত নির্বাচনে দেশের পার্লামেন্টে আসন পেয়েছেন, তারা এই আইন গ্রহণ সংসদে চেষ্টা করেছিলেন বন্ধ করতে – কিন্তু সফল হন নি. আর সেই সব ব্যবস্থার বাইরের বিরোধীরা এই আইনের বিপক্ষে মিছিল ও সমাবেশ আয়োজন করছে. তা হতে চলেছে ১২ই জুন.

 আসলে, মিটিংয়ের অংশগ্রহণকারীদের জন্য, যারা কোন রকমের প্ররোচনায় ভীড়ে যেতে চান না, তাদের জন্য নতুন আইন কোন রকমের জটিলতাই সৃষ্টি করে না, এই রকম দৃঢ় বিশ্বাস নিয়ে ফলিত রাজনীতি বিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ওলগা ক্রীশ্তানোভস্কায়া বলেছেন:

 “এই আইনের লক্ষ্য স্পষ্ট – পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হওয়া থেকে আটকানো, জন সমাবেশের সময়ে প্ররোচনা দাতাদের বেআইনি কাজ করায় বাধা দান করা. এটা সম্ভব হবে কি না – তা সময়ই দেখিয়ে দেবে”.

 একই সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির মানবাধিকার রক্ষা সভা এই আইনে রাশিয়ার সংবিধানের সঙ্গে গরমিল খুঁজে পেয়েছে. বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিরাও এই বিষয়ে বলে থাকেন. তাই বাদ দেওয়া যাচ্ছে না যে, এই আইন রাশিয়ার সাংবিধানিক আদালতে বিচারের জন্য আবেদন করা হতে পারে.