সিরিয়াতে ইয়েমেনের মত করে ঘটনা পরম্পরা সাজানো যাবে না, যেখানে রাষ্ট্রপতি নিজেই স্বেচ্ছায় ক্ষমতা থেকে সরে গিয়েছিলেন, এই রকমই মনে করেন রাশিয়ার বিশেষজ্ঞরা.

 ইয়েমেনে “আরব বসন্ত” পরিণত হয়েছিল বেশ কিছু মাস ধরে রক্তক্ষয়ী সময়ে. শুধু গত বছরের হেমন্তেই তা স্তিমিত হয়ে এসেছিল, যখন দেশের নেতা আলি আবদাল্লা সালেখি পারস্য উপসাগরের দেশ গুলির প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনা নিজে মেনে নিয়েছিলেন. তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর করেছিলেন দেশের উপ রাষ্ট্রপতির হাতে, যিনি দায়িত্ব নির্বাহী পদ গ্রহণ করেছিলেন, আর তিন মাস বাদে – হয়েছিলেন সত্যিকারের রাষ্ট্রপতি. কিন্তু জাতীয় শান্তি এই পথে পাওয়া সম্ভব হয় নি, দেশে গৃহযুদ্ধ চলছে. যে কোন ভাবেই, এর সঙ্গে সিরিয়ার কোন সমান্তরাল ঘটনা পরম্পরা খোঁজার দরকার নেই, এই কথা বলে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ভিতালি নাউমকিন যোগ করেছেন:

 “ইয়েমেন – এক খুবই বংশ ও প্রজাতির বিষয়ে শক্তিশালী দেশ, তা নানা রকমের বিভাজন রেখা পূর্ণ, যা সেই গুলির সঙ্গে মোটেও মেলে না, যেগুলি আমরা সিরিয়াতে দেখতে পাই. সিরিয়ার চেয়ে সেখানে সমাজে অনেক কম আধুনিকীকরণ করা হয়েছে. তারা আঞ্চলিক বিষয়ে কম যুক্ত ও আঞ্চলিক এবং বিশ্বের বড় রাজনৈতিক খেলোয়াড়দের জন্য খুব একটা আগ্রহের সৃষ্টি করে না. তাই, আমার মনে হয়েছে যে, ইয়েমেনের মতো ঘটনা পরম্পরা সিরিয়াতে চলতে পারে না, যদিও আমেরিকার লোকরা অনেক বেশীই এখন এই রকম ঘটনা ঘটাতে চাইছে”.

 বিশেষজ্ঞের মতে, তাঁর জন্য খুবই আশ্চর্যের হয়েছে সেই ঘোষণা যে, আসাদ আইনের সঙ্গে সঙ্গতি হারিয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

 “আপাততঃ দেশের এক বিশাল সংখ্যক নাগরিক সিরিয়াতে আসাদকে ও তার প্রশাসনকে সমর্থন করে. সমস্ত শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীই খুবই শক্ত হাতে আসাদের পক্ষে লড়াই করছে. কোন রকমের বাহিনী ছেড়ে গণ হারে চলে যাওয়ার ঘটনা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে না. সেনা বাহিনীর একটি দলও বিরোধী পক্ষের দলে চলে যায় নি. যদি সামরিক অনুপ্রবেশ না করা হয়, তবে আসাদের নিজেকে রক্ষা করার সম্ভাবনা অনেক খানি বেশী”.

 রাষ্ট্রসঙ্ঘের মূল মঞ্চের নেপথ্যে বর্তমানে কোফি আন্নানের সেই ধারণা যে, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ, সৌদি আরব, কাতার, তুরস্ক ও ইরানকে নিয়ে আলাদা করে “যোগাযোগের গোষ্ঠী” তৈরী করা দরকার, এই রকমের একটা কথাবার্তাকে বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন শেষ অবধি ভাল করে না ভেবেই বলে ফেলা হয়ে গিয়েছে, তাই তিনি বলেছেন:

 “বোঝা যাচ্ছে না: এখানে কোথায় বিরোধের পক্ষের লোকরা? সিরিয়ার প্রশাসন ও তাদের বিরোধী পক্ষের লোকরা এখানে কোথায়, এই ধারণাতে দুটি দুর্বল জায়গা রয়েছে: সিরিয়ার লোকদের প্রতিনিধিত্ব ও “কোফি আন্নানের পরিকল্পনার” প্রতি আগ্রহ এবং আলোচনার বিষয়ে কোন রকমের উত্সাহ নিয়ে”.

 “যোগাযোগের গোষ্ঠী” কাঠামো বালকান বিরোধের সময়ে কাজে লেগেছিল, এই কথা মনে করিয়ে দিয়েছেন পূর্ণক্ষমতাপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার আকসেনিওনক, তিনি বলেছেন:

 “আমি নিজেই বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা সম্বন্ধে গোষ্ঠীতে ছিলাম, বহু আলোচনায় অংশ নিয়েছিলাম, সারায়েভো, ব্রাসেলস, প্যারিস ও লন্ডনে. সিরিয়ার সম্বন্ধে এই ধরনের কথা বলা এখনও খুবই তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে”.

 “গোষ্ঠী” সৃষ্টির কাজ তাই খুঁড়িয়ে চলছে: তাতে তেহরান ঢুকতে চায় নি, তারা ঘোষণা করেছে যে, তাদের কাছ থেকে পশ্চিম এর বদলে পারমানবিক ক্ষেত্রে ছাড় চাইছে. ফলে "যোগাযোগের গোষ্ঠী" নিয়ে আলোচনা বর্তমানে রাষ্ট্রসঙ্ঘের সভা ঘর ছেড়ে জায়গা নিয়েছে অলিন্দে.