প্রিয় শ্রোতারা, শুরু করছি আমাদের সাপ্তাহিক অনুষ্ঠাণ – ‘রাশিয়ার আদ্যপান্ত’.

    এই অনুষ্ঠাণে আমরা আপনাদের দেওয়া প্রশ্নের উত্তর দিয়ে থাকি রাশিয়া সম্মন্ধে.

   সেইজন্যই ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, মরিশাসে আমাদের নিয়মিত শ্রোতাদের কাছে অনুরোধ, যাতে আপনারা ঘন ঘন প্রশ্ন পাঠান. লিখুন কি বৃত্তান্ত জানতে আপনারা সবচেয়ে বেশি উত্সুক! এই অনুষ্ঠাণে আমাদের শরিক হোন!

      আজকে আমরা উত্তর দেব নিম্নোক্ত সব প্রশ্নেরঃ

   রাশিয়ার সংসদের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে অল্পবয়সী সাংসদ কে? এই প্রশ্নটা পাঠিয়েছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য থেকে রতন কুমার পাল.

    রাশিয়ার কোন কোন রেকর্ড ‘গীনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে’ স্থান পেয়েছে – জানতে চেয়েছেন দিল্লী থেকে আমাদের নিয়মিত শ্রোতা দীপক কুমার, তার অনুরোধ, ৫টা সেরকম রেকর্ডের কথা জানানোর.

   রাশিয়ার বনে জঙ্গলে কোন কোন জীব জন্তু বাস করে – জানতে চেয়েছেন পাকিস্তানের খানেওয়াল শহর থেকে মজহার হুসেন চিশতি.

 

             অতএব এবার শুরু করছি প্রথম প্রশ্ন দিযে – রাশিয়ায় সংসদের নিম্নকক্ষে সবচেয়ে অল্পবয়সী সাংসদ কে? তার নাম পাভেল ফেদিয়ায়েভ. তার বয়স এখনো ৩০ বছর ছোঁয়নি. সে বিবাহিত, এক পুত্র ও এক কন্যার জনক. কুজবাস রাষ্ট্রীয় প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে খনিজ শিল্পসংস্থার অর্থনীতি ও ম্যানেজমেন্টে সে ডিগ্রীধারী. কুজবাসে সে প্রথমে অর্থনীতিবিদ হিসাবে কাজ করেছিল, পরবর্তীকালে ‘সিবিরস্কি দেলাভোই সয়ুজ’ নামক কর্পোরেট কোম্পানীর ভাইস-প্রেসিডেন্টের পদ অধিকার করেছিল.

     কুজবাস আমাদের দেশে সুবিদিত কয়লাখনি ও অন্যান্য ভারী শিল্প কারখানার দৌলতে. সংসদে পাভেল ফেদিয়ায়েভকে প্রাথমিক মনোনয়ন দেয় খনি শ্রমিকরা.

    সাংসদ, যে কুজবাসের শিল্পশ্রমিকদের প্রতিনিধি হয়ে সংসদ সদস্য হয়েছিল, তার দ্যুমার কৃষি কমিটির সদস্য হওয়া সাংবাদিকদের বিস্মিত করেছিল.

    এ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের দেওয়া প্রশ্নের উত্তরে পাভেল ফেদিয়ায়েভ বলেছে, যে সবদিক ভেবেচিন্তেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে. কুজবাসের সামনে আশু কর্তব্য খাদ্যদ্রব্যের দিক থেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে ওঠা. রাশিয়ার ঐ অঞ্চলে আবহাওয়ার দরুন কৃষিকার্য করা দুরূহ. শস্য ও শাকসব্জি কুলিয়ে গেলেও, দুধে কুলায় না, আশপাশের রাজ্য থেকে কিনতে হয়. ফেদিয়ায়েভ কুজবাসে পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয় দুধের ডেয়ারি স্থাপণ করতে বদ্ধপরিকর. তবে তার মুখ্য কর্তব্য বলে সে মনে করে কৃষকদের দালালদের হাত থেকে রেহাই দেওয়া, যারা কৃষিপণ্যের দাম কৃত্রিমভাবে কমিয়ে দেয়. সাংবাদিক সম্মেলনের শেষে ফেদিয়াকভ বলেছে, যে তার ঠাকুর্দা ও ঠাকুর্দার বাবা জমি চাষ করতো, সুতরাং কৃষিকার্যের সাথে সে ভালোই পরিচিত.

         ‘রাশিয়ার আদ্যপান্ত’ নামক সাপ্তাহিক অনুষ্ঠান শুনছেন আপনারা ‘রেডিও রাশিয়া’র বেতারতরঙ্গ থেকে. এবার আসি দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তরে, যে প্রশ্ন পাঠিয়েছে দিল্লী থেকে দীপক কুমার. সে ‘গীনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে’ নথিভুক্ত ৫টি রুশী রেকর্ড সম্মন্ধে জানানোর অনুরোধ করেছে.

   কেন শুধু পাঁচ? কারণ রাশিয়ার এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট সংখ্যক রেকর্ড. তবে এটাও সত্যি, যে অধিকাংশ রাশিয়াবাসীরাই এই সব রেকর্ড সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নয়. রুশী অনুবাদে প্রকাশিত হলেও ‘গীনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ড’ আমাদের দেশে জনপ্রিয় নয়.

    তবে প্রশ্ন যখন করা হয়েছে, তার উত্তর দিতেই হবে.

    রাশিয়ার সেন্ট-পিটার্সবার্গ নগরী বিশ্বে সবচেয়ে দীর্ঘতম ট্রামলাইন বসানোর রেকর্ড সৃষ্টি করেছে, ঐ নগরীতে ট্রাম লাইনের মোট দৈর্ঘ্য ৬৯০ কিলোমিটারেরও বেশি. সেখানে ২৪০০রও বেশি ট্রাম যাত্রী পরিবহন করে.

     আরও একটা রেকর্ডঃ ইয়াকুতিয়ার ওইমিয়াকন গঞ্জ দুনিয়ায় সবচেয়ে ঠান্ডা এলাকা বলে স্বীকৃত. সাইবেরিয়ার অন্তর্গত ঐ এলাকায় জানুয়ারী মাসে গড় তাপমাত্রা মাইনাস ৫০ ডিগ্রী পর্যন্ত নামে. মাঝেমাঝেই তাপমাত্রা মাইনাস ৭০ ডিগ্রী পর্যন্ত পৌঁছায়.

     মস্কোর জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘কমসোমলস্কায়া প্রাভদা’ও এক রেকর্ড সৃষ্টি করেছে. ১৯৯০ সালের মে মাসের একদিনে কাগজের সংস্করন কপির সংখ্যা ছিল ২ কোটি ২০ লক্ষ. এখনো পর্যন্ত পৃথিবীর কোনো দৈনিক সংবাদপত্র ঐ সংখ্যা ছুঁতে পারেনি.

   উপরোক্ত সবই রাশিয়ার জন্য সদর্থক রেকর্ড. তবে নেতিবাচক রেকর্ডও আছে.  যেমন রাগবি খেলার বিশ্বকাপে রাশিয়ার জাতীয় দল অষ্ট্রেলিয়ার কাছে ৪-১১০ পয়েন্টে হেরেছিল. তবে খেয়াল রাখবেন, যে রাশিয়ায় রাগবি তেমন একটা খেলে না. তাছাড়া এটা ছিল অন্যতম প্রথম দল যারা অষ্ট্রেলিয়ায় বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছিল.

   যথেষ্ট হয়েছে. দীপক কুমার যেমন অনুরোধ করেছিল, আমরা সেই অনুযায়ীই ৫টা রেকর্ড সম্পর্কে জানিয়েছি. প্রসঙ্গতঃ জানাই, যে আমাদের দেশে ‘রাশিয়ার বুক অব রেকর্ড’ নামক নিজস্ব রেকর্ডের বই আছে.

    আমাদের শ্রোতাদের প্রশ্নাবলীর উত্তর আপনারা শুনছেন রেডিও রাশিয়া থেকে. এবার আমরা পাকিস্তান থেকে পাঠানো মজহার হুসেন চিশতির প্রশ্নের উত্তর দেব – রাশিয়ার বনে জঙ্গলে কোন সব জীব জন্তু বাস করে?

     আমাদের দেশের ভূখন্ডের ৪৫ শতাংশেই অরণ্য. স্তেপ ও তুন্দ্রাও বিশাল এলাকা অধিকার করে. সেখানেও বন্য জীব জন্তু বসবাস করে.

    অধিকাংশ অঞ্চলেই দেখা যায় ভাল্লুক, নেকড়ে বাঘ, শিয়াল, বুনো শুয়োর, হরিন, খরগোশ প্রভৃতি. দূর প্রাচ্যে চীনের সাথে সীমান্তের কাছে বসবাস করে বাঘেরা, আর সাইবেরিয়ার একেবারে উত্তর সীমানায়, উত্তর বরফ সাগরে শ্বেত ভাল্লুকদের দেখা মেলে.

    আজ আমরা আপনাদের কাস্পিয়ান সাগরের উত্তর দিকে বসবাসকারী নেকড়ে বাঘেদের গল্প শোনাবো. আমাদের বিস্মিত করেছে মস্কোর ‘প্রকৃতি ও মানুষঃ একবিংশ শতাব্দী’ পত্রিকাতে প্রকাশিত একটা প্রবন্ধ. এবার সংক্ষেপে শুনুন সেই বৃত্তান্ত.

    কাস্পিয়ান সাগরের উপকূলবর্তী এলাকায় স্তেপে লোকেরা ভেড়া ও গরুপালন করে জীবিকা নির্বাহ করে. কিছু কিছু পশুপালক ঘোড়ার পিঠে আসীন থাকে, আর কেউ কেউ এমনকি গাড়িতে বসে পশুদের দেখভাল করে. ওরা সবাই নেকড়ে বাঘের বিরূদ্ধে অভিযোগ করে. আগে ঐ খয়েরী রঙের গুন্ডাদের মারা হতো হেলিকপ্টার থেকে গুলি করে. আজকাল ঐরকম শিকার নিষিদ্ধ. সাধারন শিকার কোনো ফল দেয় না, উপরন্তু অত্যন্ত বিপজ্জনক. নেকড়েরা অভাবনীয়ভাবে তাদের জখম করা শিকারীদের খুঁজে বের করে এবং নৃশংসভাবে প্রতিশোধ নেয়. তারা জখম করা শিকারীর সব গৃহপালিত পশু টুকরো টুকরো করে, যদিও অতখানি খাবারের ওদের প্রয়োজন নেই.

      ঐ অঞ্চলে প্রখ্যাত হয়েছেন ভেটারেন সিটিজেন রিনাত কুলনিয়াজভ. আস্ত্রাখান শহরে তার নিজস্ব ফ্ল্যাট থাকা সত্ত্বেও তিনি স্তেপে কুঁড়েঘরে থাকতে পছন্দ করেন. আর প্রখ্যাত হয়েছেন তিনি নেকড়েদের সাথে বন্ধুত্ব করে. নেকড়েরা রিনাতের পালিত পশুগুলোকে চোর, বুনো কুত্তা, অন্যান্য নেকড়ে বাঘের হাত থেকে রক্ষা করে, ধারে কাছেই থাকে, বাচ্চা বিয়োয়. তারা পশুর দল থেকে ২০ মিটার মতো দূরত্বে চলে ও অন্যান্য নেকড়েদের তাড়ায়. রিনাতের কুকুরগুলির সাথেও তাদের সদ্ভাব, তবে খুব আন্তরিক বলে বলা যায় না. তবে কুকুর ও নেকড়েদের মধ্যে বিদ্বেষ নেই. ৩০ বছরের মধ্যে রিনাতের পশুপালের উপর তার আদরের নেকড়দের হামলার কোনো ঘটনা ঘটেনি.

    আর মানুষ ও কুকুরদের সাথে নেকড়ে বাঘদের বন্ধুত্বের কারণ হচ্ছে – শীতকালে রিনাত ক্ষুধার্ত নেকড়ে বাঘগুলোকে অল্পবিস্তর খাওয়ায়. তাদের জন্য রিনাত মাছ ও মাংস খরচা করে. শিকারীদের হাত থেকে তাদের রক্ষা করে.

       মানুষের সাথে নেকড়ে বাঘের বন্ধুত্বের সম্ভাবনা নিয়ে বৈজ্ঞানিক পত্রপত্রিকায় বহু লেখালেখি হয়েছে. কিন্তু বাস্তবে নেকড়ে বাঘেদের মানুষের সেবা করতে, তার পশুপাল সুরক্ষা করতে বাধ্য করা যায়, এরকম উদাহরন আগে কখনো ছিল না. এটা সম্মন্ধে ভাবাই কঠিণ.

         আমাদের হাতে সময় আছে একটা গান শোনাবার. গানটির নাম -,গাইছেন--.

   ‘রাশিয়ার আদ্যপান্ত’ নামক অনুষ্ঠাণ এখানেই শেষ করছি. আপনাদের কাছ থেকে আমরা নতুন নতুন চিঠি ও প্রশ্নের অপেক্ষায় থাকবো. আমাদের ঠিকানাঃ রেডিও রাশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানে সম্প্রচারন বিভাগ, ২৫, প্যাতনিতস্কায়া স্ট্রীট, মস্কো, রাশিয়া-১১৫৩২৬. ইন্টারনেটে আমাদের ঠিকানাঃ লেটার্স এ আর ইউ ভি আর.আর ইউ. আমরা আপনাদের চিঠির অপেক্ষায় থাকবো.