নিউইয়র্কে সিরিয়া নিয়ে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয়েছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নান ঘোষণা করেছেন যে, তাঁর শান্তি পরিকল্পনা সম্পূর্ণভাবে পালন করা হচ্ছে না. রাশিয়ার কূটনীতিবিদেরা প্রস্তাব করেছেন যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলনের আয়োজন করা হোক.

 সিরিয়ার হামা প্রদেশের মাজরাত আল- কুবৈর গ্রামে বুধবারে নিহত মানুষের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন দিয়ে এই দিনের বৈঠক শুরু হয়েছিল. সেখানে ঠিক কি হয়েছিল, তা আপাততঃ বোঝা যায় নি. সরকারি ভাবে দামাস্কাসের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল যে, জঙ্গীদের হাতে বহু নিরীহ মানুষের মৃত্যু হয়েছে. সিরিয়ার টেলিভিশন এই ঘটনার সাক্ষীদের উদ্ধৃতি দিয়েছে, যারা বলেছে যে, চরমপন্থীরা নারী ও শিশু হত্যা করে নৃশংস ভাবে হত্যা করেছে. বিরোধী পক্ষ আগের মতই, সব কিছুর জন্যই সরকারি পক্ষকে অভিযুক্ত করেছে.

 কি করে সিরিয়াতে রক্তক্ষয় থামানো যায় – এটাই এখন প্রধান প্রশ্ন. অশান্ত বিরোধী পক্ষ ও তাদের আরব দুনিয়ার অভিভাবকরা আগের মতই “লিবিয়ার ঘটনা পরম্পরার” পুনরাবৃত্তি চাইছে. তার উত্তরে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রী সের্গেই লাভরভ ঘোষণা করেছেন:

 “সিরিয়ার বিবাদে, এমনকি বিদেশে থাকা বিরোধীরা শুদ্ধ – তথাকথিত সিরিয়ার জাতীয় সভা, চায় না যে, বাশার আসাদের সঙ্গে আলোচনায় বসা হোক. তারা ততদিন পর্যন্ত সশস্ত্র যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়, যতদিন না রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদ বাইরে থেকে সামরিক হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে সামরিক অনুপ্রবেশের ম্যান্ডেট দেওয়া হবে না. এটা আমি আপনাদের গ্যারান্টি দিচ্ছি”.

 রাষ্ট্রসঙ্ঘে রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালি চুরকিন নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে বক্তৃতা দিয়েছেন ও আহ্বান করেছেন যত দ্রুত সম্ভব সিরিয়া নিয়ে আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন করতে.

 ভিতালি চুরকিন ঘোষণা করেছেন: “এটা কোফি আন্নানের প্রস্তাবিত যোগাযোগ দলের প্রস্তাবের সঙ্গে খুবই সুরে মেলে. কিন্তু সেই ধরনের দলের কাজ শুরু হওয়া দরকার একটা কিছু নির্দিষ্ট অনুষ্ঠান থেকে. আর এটা হতে পারতো সম্মেলন, সেই সমস্ত দেশের অংশগ্রহণের মাধ্যমে, যারা শুধু প্রশাসনের উপরেই নয়, এমনকি সমস্ত রকমের বিরোধী পক্ষের উপরেও প্রভাব বিস্তার করতে পারে”.

 চিন রাশিয়ার অবস্থানকে সমর্থন করেছে. রাষ্ট্রসঙ্ঘে চিনের স্থায়ী প্রতিনিধি লি বাওদুন ঘোষণা করেছেন সিরিয়ার আভ্যন্তরীণ বিষয়ে বাইরের থেকে হস্তক্ষেপ করতে দেওয়া যেতে পারে না ও জোর করে বর্তমানের প্রশাসনের পতন হতে দেওয়া যেতে পারে না. এরই মধ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র “লিবিয়ার ঘটনা পরম্পরার” বদলে “ইয়েমেনের মতন ঘটনা পরম্পরা” প্রস্তাব করেছে, - অর্থাত্ কোন মধ্য পন্থী রাজনীতিবিদের হাতে ক্ষমতা তুলে দিয়ে আসাদ যেন সরে যান. সমস্যা হল, সিরিয়াতে কোনও মধ্য পন্থী রাজনীতিবিদ এখন নেই. অর্থাত্ এখন এটা হবে বিরোধী দের হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়া. তুরস্কে হিলারি ক্লিন্টন যেই ঘোষণা করেছেন যে, বাশার আসাদের মতো রাষ্ট্রপতির প্রয়োজন নেই, ঠিক তখনই একেবারেই আচমকা নয় যে, সিরিয়ার জাতীয় সভা জঙ্গীদের আহ্বান করেছে যুদ্ধের বেগ বৃদ্ধি করতে.

 অন্য অবস্থান – সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির, যাদের বেজিং শীর্ষবৈঠক শেষ হয়েছে বিগত সময়ে. রাশিয়া, চিন, কাজাখস্থান, কিরগিজিয়া, তাজিকিস্থান, উজবেকিস্তান “সিরিয়ার নৌকা উল্টে দেওয়ার” বিরুদ্ধে, ইয়েমেন বা লিবিয়ার চিত্র নাট্য এই দেশকে গৃহযুদ্ধের হাত থেকে রক্ষা করতে পারবে না. এখানে সেই পথেরই খোঁজ করা দরকার, যা সিরিয়া ও সিরিয়ার লোকদের উপযুক্ত মনে হবে. এই মতের পক্ষেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা মত দিয়েছে.