বেজিংয়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠক কাজাখস্থান, চিন, কিরগিজিয়া, রাশিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্তানের দেশ নেতাদের উপস্থিতিতে এক গুচ্ছ দলিল গ্রহণ করে বৃহস্পতিবারে শেষ হয়েছে, এই দলিল গুলিতে সংস্থার স্ট্র্যাটেজি ও তার প্রসারের প্রবণতা নিয়ে বলা হয়েছে. এই শীর্ষবৈঠকে নেওয়া একটি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাজিকিস্তানে ৮ই জুন থেকে এই সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সামরিক বাহিনী গুলির নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় দপ্তর গুলির সম্মিলিত ভাবে প্রশিক্ষণ “শান্তি মিশন – ২০১২” শুরু হয়েছে, যা চলবে আগামী ১৪ই জুন পর্যন্ত. এই প্রশিক্ষণের সময়ে পাহাড়ী এলাকায় সম্মিলিত ভাবে সন্ত্রাস প্রতিরোধের কাজকর্ম সংক্রান্ত প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা ও প্রস্তুতি ও তার বাস্তব প্রয়োগ করা হবে.

 বেজিং শীর্ষবৈঠকের অব্যবহিত পরেই এই প্রশিক্ষণ করা হচ্ছে, যেখানে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলি বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, বর্তমানের আঞ্চলিক ও সামগ্রিক ভাবে বিশ্বের জটিল অবস্থায় সংস্থার পক্ষ থেকে এই এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগের মাধ্যমে উপযুক্ত সমাধানের প্রয়োজন রয়েছে ও সেই ক্ষেত্রে বিশেষ বাহিনী ও সামরিক মন্ত্রণালয় গুলির সহায়তা প্রয়োজন.

 বিশেষজ্ঞরা লক্ষ্য করেছেন যে, এবারে প্রশিক্ষণে যোগ দিয়েছে ছয় দেশের মধ্যে পাঁচটি. “শান্তি মিশন – ২০১২” তে উজবেকিস্তান থেকে কোন বিশেষ কারণ উল্লেখ না করেই যোগদানে অসম্মতি জানানো হয়েছে, কিন্তু প্রধান কারণ হিসাবে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের মধ্যে প্রত্যক্ষ ভাবে বিবাদকে. দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক সীমান্তে মাইন পাতা রয়েছে ও দুই দেশের মধ্যে যাত্রী বিমান চলাচল বন্ধ রয়েছে.

 তারই মধ্যে সামরিক বিশ্লেষকদের কথামতো, সন্ত্রাসবাদী বিপদের বিরুদ্ধে লড়াই করা সম্ভব এক যোগে, এই ক্ষেত্রে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলির মধ্যে সম্মিলিত ভাবে সামরিক প্রশিক্ষণ আঞ্চলিক নিরাপত্তা রক্ষায় খুবই প্রয়োজনীয় অঙ্গ. দশ বছরেরও বেশী সময় ধরে উপস্থিত এই সংস্থার লক্ষ্য নিয়মিত ভাবেই নির্দিষ্ট করা হয়েছে. এক সময়ে সংস্থার সদস্য দেশ গুলি বোধহয়, আমেরিকা বিরোধী সামরিক জোট সৃষ্টি করা হচ্ছে, এই ধরনের অভিযোগের আশঙ্কায় বিশেষ করে সংস্থার প্রধান কাজ হিসাবে জোর দিয়েছিলেন অর্থনৈতিক প্রকল্প গুলির দিকে. রাশিয়ার নিরাপত্তা সমস্যা বিশেষজ্ঞ ও প্রাক্তন মেজর জেনারেল প্রফেসর আনাতোলি বলিয়াতকো মনে করেন যে, এটা বড় ভুল করা হয়েছে, তিনি তাই বলেছেন:

 “২০০০ সালের শুরুর দিকে একটা সময় ছিল, যখন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পরিবর্তন করতে গিয়ে, পরিস্থিতির ভুল বিশ্লেষণ করে, আশা নিয়ে যে, সব কিছুই ভাল আর শান্তিপূর্ণ হবে, এমন একটা অবস্থায় পৌঁছনো হয়েছিল যে, দেশ গুলি শুধু অর্থনৈতিক বিষয় নিয়েই কাজ করতে চেয়েছিল. কিন্তু জীবন দেখিয়ে দিয়েছে যে, এটা করা সম্ভব নয়. সন্ত্রাসবাদের সমস্যা, অন্যান্য নিরাপত্তা প্রশ্নে আশঙ্কা শুধু আলাদা করে একক দেশের মনোযোগই দাবী করে না, বরং সেই ধরনের জোটেরও করে, যেমন সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা”.

 এই প্রশিক্ষণের নেতৃত্ব যারা দিচ্ছেন, তাদের কাছ থেকে জানানো হয়েছে যে, “শান্তি মিশন – ২০১২” তিনটি অধ্যায়ে হবে. তা শুরু হয়েছে সামরিক- রাজনৈতিক পরামর্শ দিয়ে. তাতে যোগ দিয়েছেন সামরিক বাহিনীগুলির প্রধান দপ্তর গুলির প্রতিনিধিরা, তারা আলোচনা করছেন সঙ্কট পরিস্থিতিতে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সামরিক বাহিনী প্রয়োগের ক্ষেত্রে সামগ্রিক প্রশ্ন নিয়ে. দ্বিতীয় অধ্যায়ে সামরিক বাহিনীগুলির নেতৃত্ব সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশনের জন্য নির্দিষ্ট ভৌগলিক জায়গায় প্রস্তুতি নেবেন, তৃতীয় অধ্যায়ে সক্রিয় ভাবে প্রশিক্ষণ হবে, তাতে অংশ নেবে দুই হাজারেরও বেশী সেনা ও অফিসার. সম্মিলিত সন্ত্রাস বিরোধী অপারেশন চলার সময়ে যুদ্ধবিমান, ভারী সাঁজোয়া গাড়ী ও কামান ব্যবহার করা হবে তাজিকিস্তানের উত্তরে চৌরুখ- দাইরন সামরিক প্রশিক্ষণ ঘাঁটিতে, পাহাড়ী এলাকায়.

 বিগত বছর গুলির মতই, এই অপারেশন সন্ত্রাস বিরোধী লড়াইয়ের “পতাকা তলেই” করা হচ্ছে. যদিও, সামরিক বিশেষজ্ঞরা যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির সামরিক বাহিনী গুলির কাজের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও মসৃণ কাজের ধরন লক্ষ্য করার যোগ্য হওয়া দরকার, বিশেষত সেই ধরনের সঙ্কট মুহূর্তে, যখন এখানে মধ্য এশিয়াতে “আরব বসন্তের” ঘটনা পরম্পরার অনুরূপ কাজ কর্ম করার প্রচেষ্টা হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে. এছাড়াও অন্যান্য বিপদও রয়েছে, সরকারি দলিলে তাই সেগুলির তালিকা দীর্ঘ হয়েছে, আচমকা বেজিং শীর্ষবৈঠকে সন্ত্রাসবাদ, বিচ্ছিন্নতাবাদ ছাড়াও মাদক পাচার, সীমান্ত পার হয়ে আসা সংগঠিত অপরাধ ও বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় পরিস্থিতি ভারসাম্য নষ্ট করে দেওয়ার মতো সমস্যা গুলির কথা উল্লেখ করা হয় নি.