বিশ্বের ২৩টি দেশের ইসলামিক চিন্তাবিদরা রাশিয়ার ইতিহাসে প্রথমবারের মত ‘প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে ইসলামিক মতবাদ’ শীর্ষক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন. কুয়েতের আন্তর্জাতিক ‘আল-ভাসাতিয়া’ সেন্টারের রাশিয়ার শাখা এ সম্মেলনের আয়োজন করেছে.

    আমাদের রেডিও রাশিয়ার সংবাদদাতার সাথে কথা বলেছেন ওই সেন্টারের পরিচালক কুয়েত সরকারের ইসলাম ও ওয়াকফভ বিষয়ক সহকারী মন্ত্রী আদেল ফালহা. মহান আল্লাহ রব্বুল আলামিনের কাছে লাখ কুটি শুকরিয়া!. আমাদের রুশ ভাইদের অনুরোধে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি শহর রাশিয়ার রাজধানীতে আমরা এই সম্মেলন আয়োজন করেছি. একদিকে এটি হচ্ছে আমাদের সহযোগিতার ফলাফল. সম্মেলনে বিশ্বের স্বনামধন্য ইসলামিক চিন্তাবিদরা অংশ নিবেন, যাদের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ইসলামিক বিজ্ঞানী পরিষদের জেনারেল সেক্রেটারি ডক্টর আমি আল-কারাদাগি ও   সহকারী পরিচালক ডক্টর আবদুল্লাহ বিন বাইসহ আরো অনেকে. তাদের প্রস্তাবনাগুলো মূলত মুসলিম তরুণদের ওপর নির্ভর করে করা হবে যারা আজ আতংকবাদের মত ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে. আমাদের লক্ষ্য হচ্ছে, তরুণদের এই ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের রক্ষা করা. অন্যদিকে রুশ জাতির প্রতি এক বার্তা প্রেরণ করা হবে এবং বলা হবে সত্যিকার অর্থে ইসলাম কি.  ইসলাম হচ্ছে শান্তির ধর্ম, অথবা ডক্টর আবদুল্লাহ বিন বাইয়া যেমন বলেছেন, ইসলাম হল সমাজের মঙ্গলজনক কাজের অনুভূতি যেখানে মানুষ ভালবাসার মধ্যে জীবনযাপন করে.  সর্বশক্তিমান সৃষ্টিকর্তা মহানবী হজরত মুহাম্মদ(সঃ) সম্পর্কে বলেছেন, আমি আপনাকে শান্তির বাহক হিসেবে সবার জন্য পাঠিয়েছি. অর্থাত, শুধুমাত্র মুসলমানদের জন্যই নয় বরং সব মানুষের জন্য. এ কারণেই সম্মেলনে অংশগ্রহণকারীরা সবার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করেছেন.

    রাশিয়ার মুফতি পরিষদের সভাপতি শেখ রাভিউল গাইনুদ্দিন নিজের দেওয়া বক্তব্যে ডক্টর আদেল আল-ফালাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন. উল্লেখ্য, রাশিয়ার মুফতি পরিষদ শুধুমাত্র আল-ভাসাতিয়া’র রাশিয়ার শাখার উদ্যোক্তা নয় বরং সেন্টারটি প্রতিষ্ঠার শুরু থেকেই সব কাজের দায়িত্বভার নিয়েছে.

   রাশিয়ার মুফতি পরিষদ যে কৌশল বাছাই করেছে তা সঠিক ছিল এবং কাজের মাধ্যমে তার প্রমাণ রেখেছে. সম্মেলনের মূল বিষয় সম্পর্কে বলতে গিয়ে তিনি জানান, বহুমাত্রার আজকের বিশ্বকে যে কোন প্রকারের আতংকবাদের হাত থেকে রক্ষা করা দরকার. এছাড়া অন্যান্য যেমন- সামাজিক, সামরিক, আধ্যাত্বিক ও যে কোন ধরনের সহিংসতা থেকে রক্ষা করা. এ কারণেই রুশ মুসলমানরা আমাদের দেশের রাষ্ট্রপ্রধানের কার্যক্রমকে সমর্থন জানাচ্ছেন যা রুশ নাগরিকদের নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক ও সামাজিক ইনস্টিটিউটসমূহ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে.

    রাশিয়ার উত্তর ককেশাস প্রজাতন্ত্রগুলোর মুসলমান আধ্যাত্মিক কেন্দ্রের পরিচালক  সুলতান হাজি মিরজায়েভ বলেন, রাশিয়ার অভিজ্ঞতার আলোকে আতংকবাদী ও অস্ত্রধারী গ্রুপের বিরুদ্ধে সংগ্রাম সম্মেলনের ওপর অংশগ্রহণকারীদের কাছে তেমন একটা ধারণা নেই. ইসলাম বিশ্বের প্রতিনিধিরা নিজেদের অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন. আমাদের সংবাদদাতার সাথে আলোচনায় তিউনেশিয়ার ধর্মপ্রচারক ও আল-মুহাম্মেদি মসজিদের ইমাম ওমার মাবগারি বলেছেন, সবধরণের প্রতিহিংসা তা বিস্ফোরণের মাধ্যমে প্রকাশ পায়. আরব বিশ্বের ও এর বাইরে আজ ইসলামের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে. বিস্ফোরণ অনেকটা হঠাত করে ঘটছে, তবে কোন বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা এখানে নেই. কোন যুক্তি ছাড়াই তা হচ্ছে এবং এর কোন সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু নেই. আমরা এই বিস্ফোরণ পর্যবেক্ষণ করেছি. যেমন, সৌদি আরবের কথা যদি বলা হয়, যেখানে আজ সবচেয়ে বেশী সমস্যা. তবে আমাদের কাছে ইতিবাচক উদাহরণ রয়েছে. মনে করছি, ইহুদিদের সাথে মহানবী হজরত মুহাম্মদ(সঃ) কিভাবে কথা বলেছেন. ঠিক ওই সময় যে সহভাব ছিল তা নিয়েই এ সম্মেলনে আলোচিত হচ্ছে. ইহুদিদের সব অধিকার দেওয়া হয়েছিল এবং তাদের জন্য ছিল মিশ্র বিয়ে প্রথা. ইসলামিক দেশগুলোতে বর্তমানে এ ধরণের নানা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে . আমরা মস্কোতে মিলিত হয়েছি যাতে ইসলামের কিছু কার্যপ্রনালী নিয়ে আলোচনা করা হোক এবং এর ফলাফল যুব সমাজের কাজে পৌঁছে দেয়া.  কোরানের প্রায় ২৫০টির অধিক তাফসির গ্রন্থ রয়েছে. কিভাবে নামাজ পড়তে হবে তা সঠিকভাবে জানা যায় ঐ সব গ্রন্থ থেকে. নিকাবা সম্পর্কেও রয়েছে নানা ব্যাখ্যা. নিকাব হচ্ছে সত্যিকার অর্থে এক ধরণের ঐতিহ্য. সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশে এ প্রথা প্রচলিত আছে. এটি মুসলমানদের জন্য আবশ্যকও নয়. তাফসির থেকে ইসলামিক অর্থনীতি সহ বিভিন্ন প্রশ্নের ব্যাখ্যা পাওয়া যায়. তাই, আমরা মস্কোতে এ সম্মেলনে মিলিত হয়েছি যাতে নিজের মতামত জানাতে পারি এবং একটি আদর্শ পন্থা নির্বাচন করা যা ইসলামের আলোকে রচিত হবে.

      মস্কোতে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়. তার মধ্যে বিভিন্ন ফতোয়া, আতকংবাদ ও ধর্মীয় স্লোগান প্রভৃতি বিষয়কে একত্রিত করা হয়েছে. রাশিয়ার আল-বাসিতিয়া সেন্টারের আরেক পরিচালক আলি পালোসিন আমাদের সংবাদদাতাকে জানান,  চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যে নথিপত্র গৃহিত হয়েছে তা ফতোয়ার সাথে সমতুল্য, যা সর্বদা কিছু আলাদা প্রশ্নের উত্তর হয়ে থাকে এবং হয়তবা সাময়িক বৈশিষ্ট ধারণ করে. আমরা চুড়ান্ত এই নথিপত্র ঘোষণা আকারে নিয়ে এসেছি. ইসলামের ইতিহাসে যার সংখ্যা কয়েকটি. এগুলো হচ্ছে- মক্কা, আমান ও কায়রো ঘোষণা এবং এখন যুক্ত হয়েছে জিহাদ, তাকফির ও খালিফাত সম্বলিত মস্কো ঘোষণা. আনুষ্ঠানিকভাবে তাই বলা হয়ে থাকে.

    সমাজবিজ্ঞানীদের মতে, শুধুমাত্র এই শব্দগুলোর ভূল অর্থ জানার কারণেই বিশ্বের মুসলমানরা আতংকবাদী হয়ে উঠছেন এবং মুসলমানরা সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ছেন. মূলত আজকের মুসলিম বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে  চলতে থাকে বিভিন্ন সংঘর্ষের পিছনে এটিই হচ্ছে অন্যতম একটি কারণ.  আশা করা যাচ্ছে, মস্কোর ঘোষণা এর সমাধানে কার্যকরী ভূমিকা রাখবে.