বেজিংয়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠক কাজাখস্থান, চিন, কিরগিজিয়া, রাশিয়া, তাজিকিস্থান ও উজবেকিস্তানের দেশ নেতাদের উপস্থিতিতে এক গুচ্ছ দলিল গ্রহণ করে বৃহস্পতিবারে শেষ হয়েছে, এই দলিল গুলিতে সংস্থার স্ট্র্যাটেজি ও তার প্রসারের প্রবণতা নিয়ে বলা হয়েছে.

 এই শীর্ষবৈঠকে আঞ্চলিক ভাবে বহু দিনের জন্য শান্তি ও সমৃদ্ধি বর্ধনের ঘোষণা স্বাক্ষরিত হয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতারা মধ্য এশিয়াতে পারমানবিক অস্ত্র মুক্ত অঞ্চল সৃষ্টির জন্য মত প্রকাশ করেছেন. তাঁরা একই সঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, আঞ্চলিক বিষয়ে কোন রকমের বাইরের হস্তক্ষেপ হতে দেওয়া যেতে পারে না. এই দলিলে স্থির করা হয়েছে যে, এই এলাকায় নিরাপত্তা রক্ষার ব্যবস্থা ও সেই বিষয়ে পারস্পরিক যোগাযোগ কি ভাবে করা হবে, তা নির্দিষ্ট করবে শুধু এলাকার দেশ গুলিই. এই প্রসঙ্গে সমর্থন করা হয়েছে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলি কোন রকমের জোট বা সংগঠনে যোগ দেবে না, যা অন্য দেশের বিরুদ্ধে করা হয়েছে.

 এই শীর্ষ সম্মেলনের একটি প্রধান সাফল্য – সাংহাই সহযোগিতা সংস্থায় পর্যবেক্ষক দেশের সংক্যা বৃদ্ধি. বেজিংয়ে মঙ্গোলিয়া, পাকিস্তান, ভারত ও ইরানের সঙ্গে এবারে যুক্ত হয়েছে এই মর্যাদা সহকারে আরও আফগানিস্তান. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সব সময়েই আরও বেশী করে “সাংহাই ছয় দেশ” গুলির আফগানিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতার স্বপক্ষে প্রচেষ্টা করেছে, তিনি ঘোষণা করেছেন:

 “আমরা আশা করব যে, পর্যবেক্ষকের অবস্থান আফগানিস্তানের বন্ধুদের জন্য আরও বেশী করে আঞ্চলিক সহযোগিতার বিষয়ে অবদান রাখবে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – একটি খোলা সংগঠন, যারা বহুমাত্রিক কাঠামো ও রাষ্ট্র গুলির সঙ্গে সহযোগিতা আরও প্রসারিত করার উদ্দেশ্যেই তৈরী হয়েছে. আমরা সকলকেই স্বাগত জানাই, যারা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতার ইচ্ছা প্রকাশ করেছে”.

 এই শীর্ষবৈঠক তুরস্কের পক্ষ থেকে আলোচনার সহকর্মী দেশ হওয়ার আবেদন মেনে নিয়েছে. এই অবস্থান আগে বেলোরাশিয়া ও শ্রীলঙ্কা পেয়েছিল.

 সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাংগঠনিক কাঠামো একটি ভূ- রাজনৈতিক সংজ্ঞা বহন করে, এই রকম মনে করে রাজনীতিবিদ স্তানিস্লাভ তারাসভ বলেছেন:

 “এখানে একটি শক্তি কেন্দ্র তৈরী হচ্ছে. এটা বাস্তব কারণকে স্বীকার করা হচ্ছে- বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের একটি নতুন শক্তি কেন্দ্র তৈরী হচ্ছে. এই ক্ষেত্রে শক্তি কেন্দ্র, আসলে পূর্ব দিকেই সরে যাচ্ছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার প্রসার এরই একটি উদাহরণ”.

 সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠক আঞ্চলিক সঙ্কট সমাধানের জন্য সামগ্রিক নিয়মাবলী তৈরী করেছে. অংশতঃ, এই সংস্থা নিকট প্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকায় কাজ কর্মে সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছে ও এই অঞ্চলের জনগনের ও রাষ্ট্রের স্বাধীন নির্বাচনকে মর্যাদা দিতে আহ্বান করেছে.

 সিরিয়ার পরিস্থিতি সম্বন্ধে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির নেতৃত্ব এই দেশে বিদেশী সামরিক অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধে ঘোষণা করেছেন ও জোর করে ক্ষমতা হস্তান্তরের বিরুদ্ধে মত দিয়েছেন. তাঁরা রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের পক্ষ থেকে এই সঙ্কটের রাজনৈতিক ভাবে সমাধানের প্রচেষ্টাকে স্বাগত জানিয়েছেন ও দাবী করেছেন সিরিয়ার জমিতে যে কোন ধরনের হিংসা বন্ধ করার, তা যে পক্ষ থেকেই করা হোক না কেন.

 সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতারা ইরানের চারপাশে ঘটে যাওয়া পরিস্থিতি নিয়ে খুবই গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন, যে দেশ এই সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ. তাঁরা উল্লেখ করেছেন যে, শক্তি প্রয়োগ করে ইরানের সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করলে তার অকল্পনীয় পরিণতি হতে পারে. এটা আঞ্চলিক ও বিশ্ব নিরাপত্তার পক্ষে এক সরাসরি হুমকি. ইরানকে এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক সমাজের দায়িত্বশীল সদস্য বলে উল্লেখ করে শীর্ষবৈঠক তাকে শান্তি ও সমৃদ্ধি বর্ধনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে আহ্বান করেছে. এই প্রসঙ্গে ইরানের সঙ্গে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারী পক্ষ দের তাদের পারমানবিক সমস্যা নিয়ে নিয়ন্ত্রণের জন্য রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক আলোচনায় গতি বৃদ্ধি হওয়াকে উল্লেখ করা হয়েছে.

 রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের প্রস্তাব অনুযায়ী সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাধারন সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন দিমিত্রি মেজেন্তসেভ, তিনি প্রায় ছয় বছর ধরে সংস্থার বাণিজ্য সভার প্রধান ছিলেন.