সিরিয়াতে আবার গণহত্যা করা হয়েছে. বুধবারে হামা শহরের কাছে দুটি গ্রামে প্রায় ১০০ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে. প্রতি দ্বিতীয় নিহত ব্যক্তি হয় নারী অথবা শিশু, কয়েক জনকে কেটে ফেলা হয়েছে অথবা পুড়িয়ে মারা হয়েছে.

 সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানিয়েছে যে, সিরিয়ার সামরিক বাহিনী এই গ্রাম দুটির জনগনের সাহায্যের জন্য এসে যখন পৌঁছেছিল, তখন বহু নিরীহ মানুষকেই জঙ্গীরা খুন করে ফেলেছিল. সেনা বাহিনী এই সমস্ত সন্ত্রাসবাদীদের দুটি গ্রামের মধ্যে একটিতে তাদের লুকিয়ে থাকার জায়গায় আক্রমণ করেছিল ও যুদ্ধে সমস্ত জঙ্গীকে ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে.

 সিরিয়া বিরোধী জাতীয় সভা এই হত্যাকাণ্ডের জন্য রাষ্ট্রীয় সেনা বাহিনীকে দোষ দিয়েছে. বিরোধীরা একই সঙ্গে খবর দিয়েছে যে, তাঁদের খবর অনুযায়ী, বাশার আসাদের প্রশাসন পরিকল্পনা করেছে শান্তিপ্রিয় জনগনের উপরে নতুন করে হামলা করার. এই ক্ষেত্রে বোমা ভর্তি গাড়ী ব্যবহার করা হবে. এটা প্রশাসনের প্রয়োজন, বলেছে বিরোধী পক্ষের লোকরা, যাতে বিরোধী জঙ্গীদের উপরে দোষ চাপানো যায়.

 হামা এলাকায় হত্যাকাণ্ড – এটা গত দুই সপ্তাহের মধ্যে দ্বিতীয় গণহত্যা. ২৫- ২৬শে মে হোমস রাজ্যের এল- হুলা গ্রামে ১০০ জনেরও বেশী লোককে মেরে ফেলা হয়েছিল. তখন অনেককেই, বিশেষত নারী ও শিশুদের হয় মাথার পিছনে গুলি করে অথবা ছুরি, তরোয়াল দিয়ে কেটে ফেলে মারা হয়েছিল. তখন বিরোধী পক্ষ এই ট্র্যাজেডির জন্য দামাস্কাসকে দায়ী করেছিল, আর তারা জানিয়েছিল যে, এই হত্যাকাণ্ড, জঙ্গীদের কার্যকলাপ.

 এই পরিস্থিতিতে স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ন ও বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ সের্গেই দেমিদেঙ্কো মন্তব্য করে বলেছেন:

 “প্রচুর পরিমানে প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে. আর হুলার ক্ষেত্রে ও হামার ক্ষেত্রেও প্ররোচনা দেওয়া হচ্ছে, এই রকমের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যেতে পারে না. পরিস্থিতি খুবই জটিল. প্রবণতা সম্পূর্ণ ভাবেই স্পষ্ট আসাদকে এর পরেও চেষ্টা করে যাওয়া হবে ফেলে দেওয়ার, তার সঙ্গে দেশের ধর্ম নিরপেক্ষ প্রশাসনকেও ফেলে দেওয়ার চেষ্টা চলবে. পারস্য উপসাগরীয় এলাকার ঐস্লামিক ও রাজতন্ত্র গুলি এতেই থেমে যাবে না. তারা আসাদকে ধ্বংস করার চেষ্টা করবেই, কারণ এখন এটাই এই অঞ্চলে তাদের বাধা দিতে পারার মতো একমাত্র বাস্তব শক্তি. তাই ঝোঁক স্পষ্টই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. এই অঞ্চলের কিছু দেশের প্রশাসনের নিজেদের আরব বিশ্বের একমাত্র নেতৃত্ব হিসাবে দেখার ইচ্ছা অপরিসীম. সিরিয়াকে পিটিয়ে মারা হচ্ছে ও ধ্বংস করে দেওয়া হচ্ছে”.

 বিগত দুই সপ্তাহ আগে হুলা গ্রামে হয়ে যাওয়া ট্র্যাজিক ঘটনা সম্পর্কে নিজেদের ধারণা কয়েক দিনের মধ্যেই রাষ্ট্রসঙ্ঘের পর্যবেক্ষক মিশন জানাবে. সব দেখে শুনে মনে হয়েছে যে, গত কালের পরে তাদের আবার একটি নতুন হত্যাকাণ্ডের তদন্ত করতে হবে. এখানে বাদ দেওয়া যায় না যে, দুটি কাণ্ডকেই একসাথে যোগ করে পেশ করা হবে. সেখানে সত্য উদ্ধার করা হবে কি না, দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে কি না – এই সব প্রশ্ন গুলি আপাততঃ উত্তর ছাড়াই রয়েছে.