রাইফেল আগের মতই প্রধান আগ্নেয় অস্ত্র হয়ে রয়েছে. এই অস্ত্রের নতুন এক রকমের ধরণ– এ কে– ১২ কয়েক দিন আগে নির্মাতারা মস্কো উপকণ্ঠের সোলনেচনোগোরস্ক শহরে দেখিয়েছেন.

 ইঝেভস্ক মেশিন তৈরী কনসার্নের নির্মাতারা এবারে স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রের প্রভূত উন্নতি সাধন করেছেন, সেই অস্ত্রকে আধুনিক যুদ্ধের পরিস্থিতির উপযুক্ত করে তুলেছেন, আবার তার মধ্যেই এই কালাশনিকভ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের বিরল ক্ষমতাকে সংরক্ষণ করতেও সমর্থ হয়েছেন, এই কথাই বিশেষ করে উল্লেখ করে জাতীয় প্রতিরক্ষা জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন:

 “এই অস্ত্রে নতুন ধরনের তৈরী করা ও প্রযুক্তি গত সমাধান নেওয়া হয়েছে. তা হবে আরও কাজের উপযোগী ও তা দিয়ে আধুনিক আগ্নেয়াস্ত্রের প্রধান দুটি প্রয়োজন – গুলি বিদ্ধ করার দূরত্বের বৃদ্ধি ও একই জায়গায় অনেক গুলি বুলেট একত্রে লাগার মতো পরিস্থিতি তৈরী করার বিষয়ে খুবই উচ্চ পর্যায়ের ক্ষমতা যোগ করা হয়েছে. নতুন স্বয়ংক্রিয় যন্ত্র রুশ প্রজাতন্ত্রের সমস্ত সামরিক বাহিনীর বিভাগেই দেখতে পাওয়া যাবে ও বিশেষ বাহিনীর কাছেও এই অস্ত্র থাকবে”.

 নতুন আগ্নেয়াস্ত্র, প্রথমতঃ, একেবারেই আলাদা রকমের মডিউল দিয়ে গঠন করা হয়েছে, যার ফলে প্রায় ২০ রকমের নাগরিক ও সামরিক ধরনের আগ্নেয়াস্ত্রের ধরণ তৈরী করা সম্ভব হবে, আর গুলির ব্যাস হবে ৫, ৪৫ থেকে ৭, ৬২ মিলিমিটার. এ কে – ১২ চালানো যাবে এক হাতেই, তাতে আলাদা রকমের যন্ত্রপাতি লাগানো সম্ভব হবে – দূরে দেখার জন্য টেলিস্কোপের মতো লক্ষ্য করার নল, দূরত্ব মাপার যন্ত্র, গ্রেনেড ছোঁড়ার যন্ত্র ইত্যাদি. অন্য সব নতুন বিষয়ের মধ্যে থাকছে – পরিবর্তন যোগ্য বন্দুকের নল, যা তিন ধরনের গুলি চালানোর উপযুক্ত আর নতুন রকমের ধাক্কা দিয়ে চালু করার যান্ত্রিক ব্যবস্থা.

 ইগর করোতচেঙ্কো জানিয়েছেন যে, এ কে -১২ তৈরী করার সময়ে প্রযুক্তি গত ভাবে নতুন ধরনের ধাতু তার উপরে আবরণের প্রযুক্তি তৈরী করা হয়েছে, আর তার পরে ১০টিরও বেশী প্রযুক্তি সংক্রান্ত সমাধান ভবিষ্যতে এর মধ্যে যোগ করা হবে ও তা পেটেণ্ট করে ফেলা হবে, যা দিয়ে নানা ধরনের কালাশনিকভ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরী করা যাবে. এই প্রসঙ্গে সামরিক পর্যবেক্ষক ভিক্তর বারানেত্স বলেছেন:

 “আমাদের স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র গুলি সব সময়েই বিশ্বে নানা রকমের প্রধান পুরস্কার জয় করেছে. আর কালাশনিকভ রাইফেল বহু দিন ধরেই এক ঐতিহ্যে পরিণত হয়েছে. এর আগের নানা ধরনের কালাশনিকভ রাইফেল – এ কে ৭৪- তৈরী করা হয়েছিল পাঁচ কোটি. তা কিনেছিল বিশ্বের পঞ্চাশটিরও বেশী দেশ. সেই ধরনেরই ভবিষ্যত অপেক্ষা করে রয়েছে এ কে – ১২ র জন্য”.

 নতুন স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের কারখানায় পরীক্ষা আশা করা হয়েছে যে ২০১২ সালের মধ্যেই শেষ হবে আর ২০১৩ সালে তা পরীক্ষা করবে জাতীয় পরিষদ. তারপরে এ কে – ১২ রাশিয়ার সামরিক বাহিনীতে গৃহীত হবে ও তার নিয়মিত ভাবে উত্পাদন শুরু করা হবে.