রাশিয়ার পর্বতারোহী ও বেস জাম্পার, প্যারাশ্যুট জাম্পিংয়ে দুবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ভালেরি রোজভ নতুন বিশ্ব রেকর্ড করেছেন. এই চরম ঝুঁকি পূর্ণ খেলার বিশারদ ভারতীয় হিমালয় পর্বতমালার উত্তরাখণ্ড রাজ্যের গাড়োয়াল হিমালয়ের শিবলিঙ্গ পর্বত চূড়ার সাড়ে ছয় হাজার মিটার উচ্চতা থেকে ঝাঁপ দিয়েছেন.

 ভারতের এক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যময় ও খুবই বিখ্যাত এই চূড়া শিবলিঙ্গ, যার গঙ্গোত্রী হিমবাহ থেকেই পবিত্র গঙ্গা নদীর শুরু হয়েছে, আর এর নাম শিবের প্রতীক. এই পর্বতে আরোহণের কোন সহজ পথ নেই. তার পাহাড়ের খাড়া দেওয়াল ও বরফের দুর্গ – খুব অভিজ্ঞ পর্বতারোহীদের জন্যও বাধা. তাই শিবলিঙ্গ পর্বতে আরোহণের বিষয়কেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ ক্রীড়া সাফল্য বলে মনে করা হয়ে থাকে.

 এই পর্বতের ৬৫৪৩ মিটার উচ্চতায় চড়ার জন্য ভালেরি রোজভ ও তাঁর সঙ্গীদের প্রয়োজন হয়েছিল ছয় দিন, আর তার ঝাঁপ দিয়ে নেমে আসার জন্য সময় লেগেছিল মাত্র দেড় মিনিট. তিনি চার কিলোমিটারেরও বেশী দূরত্ব প্রায় ঘন্টায় ২০০ কিলোমিটার গতিতে নেমে এসে সাফল্যের সঙ্গে প্রায় ২২০০ মিটার সমুদ্র পৃষ্ঠের থেকে বেশী উচ্চতায় হিমবাহে অবতরণ করেছিলেন.

 বেস জাম্পিংয়ে অংশ গ্রহণ করা সবচেয়ে কঠিন ও সবচেয়ে বিপজ্জনক ঝুঁকি নেওয়ার মতো কাজ, এই কথা উল্লেখ করেছেন প্যারাশ্যুট জাম্পিংয়ে আন্তর্জাতিক মানের আরও এক খেলোয়াড় আন্দ্রেই ভোলকভ, তিনি বলেছেন:

 “এটা স্কাই ডাইভিং – অর্থাত্ কোন হেলিকপ্টার বা বিমান থেকে ঝাঁপ দিয়ে প্যারাশ্যুট নিয়ে পড়ার চেয়ে আলাদা, কারণ এখানে কোনও বাড়তি প্যারাশ্যুট থাকে না. এই লাফ সাধারণতঃ দেওয়া হয়ে থাকে কোন স্থির জায়গা থেকে. এই খান থেকেই নাম করণ করা হয়েছে বেস – বাড়ী, অ্যান্টেনা, খোলা জায়গা ও জমি থেকে লাফ দেওয়া. এই ধরনের খেলা অনেক কম দিন আগেই শুরু হয়েছে, মাত্র ২৫ -৩০ বছর আগে. ভালেরি রোজভ – বিশ্বমানের বেস জাম্পার”.

 ঝাঁপ দেওয়ার জন্য বেস জাম্পার খেলোয়াড়রা এক বিশেষ ধরনের পোষাক ব্যবহার করেন, তার নাম উইংস্যুট (ডানা ওয়ালা কস্টিউম). ভালেরি রোজভ হিমালয়ে এর এক নতুন মডেল পরীক্ষা করে দেখেছেন. তার আসল গুণ হল – আরও দ্রুত গতিতে ঝাঁপ দিতে পারা. এই রকমের পোষাকে সংশোধন করার দরকার ছিল অনেক উঁচু থেকে লাফ দেওয়ার জন্যই: কম ঘনত্বের বায়ু মণ্ডলে নীচে পড়তে থাকা বস্তু খুবই দ্রুত পড়তে থাকে আর ফলে উচ্চতা দ্রুত হারাতে থাকে, তাই প্রধান সমস্যা – লাফের টেকনিক্যাল প্যারামিটার নিজের সম্ভাবনার সঙ্গে সঠিক ভাবে বেছে নিতে পারা, এই কথাই উল্লেখ করে বেস জাম্পার মার্গারিতা শাতালিনা বলেছেন:

 “বিশেষ ধরনের কস্টিউম ঝাঁপের দূরত্ত্ব বাড়াতে সাহায্য করে. যদি সাধারন লাফের ক্ষেত্রে পড়া হয় প্রায় সরাসরি নীচের দিকে, তবে এই ধরনের কস্টিউম ব্যবহার করার ফলে লাফের দূরত্ত্ব বাড়ানো সম্ভব হয়. একই সঙ্গে লাফের সময়ে ভারসাম্য রাখাও কঠিন হয়. কিন্তু যেহেতু ভালেরি রোজভ খুবই অভিজ্ঞ খেলোয়াড়, তাই তার অন্য কোনও সমস্যা হয় নি”.

 ৪৭ বছরের ভালেরি রোজভ হিমালয় পর্বতে এই লাফ দেওয়ার জন্য তিন বছর ধরে তৈরী হয়েছেন. আর তিনি নিজে যে রকম উল্লেখ করেছেন যে, খুবই খুশী হয়েছেন, সমস্ত রকমের জটিলতা থাকা স্বত্ত্বেও, সব কিছুই ভালভাবে শেষ হয়েছে.