আঞ্চলিক নিরাপত্তা বজায় রাখা – বেজিংয়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকের প্রধান আলোচ্য বিষয়. এই সমস্যা ৬ই জুন রাশিয়া, চিন ও চারটি মধ্য এশিয়ার দেশের প্রধানরা তাঁদের নিজস্ব অধিবেশনে আলাদা করে আলোচনা করেছেন. বৃহস্পতিবারে এই আলোচনায় যোগ দিতে চলেছেন পর্যবেক্ষক দেশ গুলির নেতারা – মঙ্গোলিয়া, ভারত, পাকিস্তান ও ইরানের থেকে. এই শীর্ষ বৈঠকের অতিথি দেশ হিসাবে নিমন্ত্রণ করা হয়েছে তুর্কমেনিয়া ও আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতিদের. বেশ কয়েকটি দ্বিপাক্ষিক সাক্ষাত্কারের পরিকল্পনা রয়েছে. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন পরিকল্পনা করেছেন আফগানিস্তান ও ইরানের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করার.

 সাংহাই ছয় দেশীয় সংগঠনের নেতারা ঠিক করেছেন এই সংস্থার বিকাশের নবীকরণের পরে স্ট্র্যাটেজি নিয়ে সহমত হওয়ার. তা তিন বছর আগে তৈরী করা হয়েছিল ও প্রয়োজন হয়েছিল নতুন ধরনের নিরাপত্তা সংক্রান্ত আশঙ্কা উপস্থিত হওয়াতে খুবই গুরুত্ব দিয়ে পরীক্ষা করার. নতুন দলিল বিপর্যয় পরিস্থিতিতে প্রতিক্রিয়া করার সম্ভাবনা বৃদ্ধি করেছে. অংশতঃ, আইন সঙ্গত ভিত্তি তৈরী করেছে অর্থ বিনিয়োগ, অর্থনৈতিক ও মানবিক সহায়তা করার, যাতে সদস্য দেশ গুলির নাগরিকদের বিপর্যয় পীড়িত এলাকা থেকে ত্রাণ ও উদ্ধার করা সম্ভব হয়, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার তরফ থেকে মিশন পাঠানো সম্ভব হয়, অকুস্থলে পরিস্থিতির সঙ্গে পরিচিত হওয়ার জন্য. নতুন স্ট্র্যাটেজি অনেক গুলি বাধা দূর করে, যা আগে গোপন তথ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে ও বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতি ও মাধ্যম আদান প্রদানের ক্ষেত্রে ছিল.

 যে সমস্ত দলিল সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতারা আজ গ্রহণ করছেন, - তার মধ্যে সন্ত্রাসের মোকাবিলা করার জন্য সহায়তা, বিচ্ছিন্নতাবাদ ও চরমপন্থার মোকাবিলায় সহযোগিতা রয়েছে. এই দলিল গুলি, জানতে পারা গিয়েছে যে, সন্ত্রাসবাদের জন্য অর্থ প্রদানের সমস্ত চ্যানেল গুলি একত্রিত ভাবে বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে সম্ভাবনাকে প্রসারিত করবে.

 আশা করা হয়েছে যে, আফগানিস্তানকে পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা দেওয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এখানে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ও পূর্ব এশিয়াতে স্ট্র্যাটেজিক সমস্যা কেন্দ্রের বিশেষজ্ঞ ও রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইউরি মরোজভ এই ঘটনাকে এই এলাকার জন্য বিশেষ সংজ্ঞাবহ বলে উল্লেখ করে বলেছেন:

 “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ২০১৪ সালে আফগানিস্তান থেকে চলে যাওয়া মধ্য এশিয়াতে যুযুধান ঐস্লামিক জঙ্গী ও যোদ্ধাদের অনিয়ন্ত্রিত কাজ কর্মে পরিণত হতে পারে, যা সামগ্রিক ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার স্বার্থে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে. যদি আফগানিস্তান এই সংস্থার পর্যবেক্ষক হিসাবে থাকে, তবে কাবুলের উপরে সহজ হবে চাপ সৃষ্টি করা, যাতে তারা পরিস্থিতি স্থিতিশীল করে. শেষমেষ, যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনা বাহিনী ও ন্যাটো জোটের শান্তিরক্ষক বাহিনীর সেনারা আফগানিস্তান ছেড়ে চলে যাবে, কেউ এক জনকে এই দেশের ভেঙে যাওয়া পরিকাঠামো পুনর্গঠন করতে হবে. এটা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পক্ষে উপযুক্ত কাজ, যা তাদের স্বার্থের পক্ষে ভাল ও রাশিয়ার পক্ষেও অংশতঃ ভাল. কারণ আফগানিস্তানের এলাকায় ৪৩টি শিল্প কারখানা নতুন করে তৈরী করতে হবে, যা সোভিয়েত দেশের পক্ষ থেকে তৈরী করে দেওয়া হয়েছিল”.

 রাজনীতিবিদ ও প্রাচ্য বিশারদ স্তানিস্লাভ তারাসভ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার বর্তমান শীর্ষ বৈঠককে নাম দিয়েছেন বিরল ও ব্যাখ্যা করে বলেছেন তা কেন:

 “এই শীর্ষবৈঠক বিরল এই কারণেই যে, আফগানিস্তান ছাড়াও এখানে তুরস্ক আলোচনায় সহকর্মী দেশের মর্যাদা পেতে চলেছে. আর ইরান এখনই পর্যবেক্ষক দেশের মর্যাদা পেয়েছে. এখানে এক চরম আগ্রহের প্রশ্ন ওঠে এখানে কি সাপে নেউলে এক করার চেষ্টা হচ্ছে না. কারণ সিরিয়ার দিকে রাশিয়া, চিন ও ইরানের অবস্থান খুবই ব্যতিক্রমী ভাবে তুরস্কের অবস্থানের থেকে আলাদা, যার পিছনে পশ্চিমের ছায়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে”.

 সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকে বেজিং শহরে এই সংস্থার স্থায়ী সদস্য হিসাবে ইরান, ভারত ও পাকিস্তানকে নেওয়া নিয়ে একটা রহস্য রয়েই গিয়েছে. ইচ্ছা বহু দিন আগেই বলা হয়ে গিয়েছে, এই প্রশ্ন নিয়ে আজ প্রথম বছর বিতর্ক হচ্ছে না. মস্কো মনে করে যে, এই ধরনের প্রশ্নকে দীর্ঘকাল খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া উল্টো ফল দিতে পারে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার নেতাদের সাক্ষাত্কার, আশা করা হয়েছে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে.