রসঅ্যাটম সংস্থার বিদেশের প্রকল্প গুলি আফ্রিকা ও দক্ষিণ এশিয়ার দিকেও যোগ হতে চলেছে. জানা গিয়েছে যে, রাশিয়া ও নাইজিরিয়া দেশের প্রশাসনের মধ্যে রাশিয়ার প্রকল্প অনুযায়ী এই আফ্রিকার দেশটিতে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার বিষয়ে সমঝোতা হয়েছে. একই সঙ্গে বাংলাদেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী করার জন্য দুটি স্মারক পত্র স্বাক্ষরিত হয়েছে.

 এখন অবধি আফ্রিকায় পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদন খুবই কম হয়েছে. তারই মধ্যে আফ্রিকার দেশ গুলির মধ্যে বহু দেশই নিজেদের পারমানবিক জ্বালানী শক্তি ও কেন্দ্র তৈরীর কথা ভেবেছে. বিশ্ব পারমানবিক সংগঠনের তথ্য অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ পারমানবিক শক্তির প্রতি আগ্রহ প্রদর্শন করেছে টিউনিশিয়া, মরোক্কো, আলজিরিয়া, ঘানা, সেনেগাল, কেনিয়া, উগান্ডা, নামিবিয়া. নাইজিরিয়া প্রচুর খনিজ তেলের অধিকারী, তা স্বত্ত্বেও তারা চায় নিজেদের দেশে পারমানবিক রিয়্যাক্টর ব্লক তৈরী করতে. পারমানবিক শক্তি বিকাশের পথে দাঁড়ানো রাষ্ট্র যে রাশিয়ার প্রকল্পের প্রতি নিজেদের আগ্রহ দেখিয়ে থাকে, তা একেবারেই হঠাত্ করে নয়, এই কথাই বিশেষ করে উল্লেখ করে বৈজ্ঞানিক গবেষণা কেন্দ্র কুরচাতভ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ইউরি সেমচেনকভ বলেছেন:

 “রাশিয়ার রিয়্যাক্টর খুবই ভাল বলে যেমন রাশিয়াতে তেমনই দেশের বাইরেও প্রমাণিত হয়েছে. সেই গুলি কাজ করছে ইউরোপে, দুটি ব্লক চিনে কাজ করছে, ভারতে প্রথম ব্লক কাজ করতে শুরু করছে, ইরানে চালু করা হয়েছে. তাই রাশিয়ার ব্লক প্রতিযোগিতায় সক্ষম ও নিরাপদ. সেই সমস্ত দেশ, যারা পারমানবিক বিদ্যুত শক্তি ব্যবহার করতে চায়, তারা পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র সরবরাহ করার উপযুক্ত দেশ খোঁজে. আর তারা যদি রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ব্যবহার করতে চায়, তবে এটা আমাদের জন্যই সুখের বিষয়. আমাদের বিদ্যুত কেন্দ্রের উত্পাদিত বিদ্যুতের জন্য প্রতি কিলো ওয়াট – ঘন্টা হিসাবে খরচ তুলনা মূলক ভাবে কম”.

 খুবই গুরুতর সমস্যা, যা আজ উন্নয়নশীল দেশ গুলির পারমানবিক বিদ্যুত উত্পাদনের ক্ষেত্রে রয়েছে, তা হল প্রয়োজনীয় কর্মীদের তৈরী করা, এটাই সম্ভবতঃ সর্বত্র প্রথম প্রশ্ন, তাই বিশেষজ্ঞ যোগ করেছেন:

 “এই যেমন ভিয়েতনাম, সেখানেও রুশ পারমানবিক কেন্দ্র তৈরী করা হবে. সেখানে তৈরী করা হচ্ছে বিশেষ রকমের গবেষণা কেন্দ্র, যা বিশেষজ্ঞ তৈরী করার জন্য খোলা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ, ভিয়েতনামের পারমানবিক ইনস্টিটিউটের সঙ্গে কুরচাতভ ইনস্টিটিউট কর্মী তৈরী করার বিষয়ে চুক্তি স্বাক্ষর করেছে”.

 কিন্তু সমস্ত বিশেষজ্ঞই রাশিয়ার পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র নাইজিরিয়া বা বাংলাদেশের মতো দেশে তৈরী হওয়ার বিষয়ে অতিরিক্ত আশাবাদী নন. এই প্রসঙ্গে খুবই সাবধানী ভাবে আশা পোষণ করে রাশিয়ার পারমানবিক পদার্থ বিজ্ঞানী বুলাত নিগমাতুলিন বলেছেন:

 “আমরা খুবই ভাল ধরনের ঋণের শর্ত দিয়ে থাকি. কিন্তু যখন বলা হয়ে থাকে যে, পারমানবিক জ্বালানী শক্তি অন্যান্য দেশেও চালু করতে হবে, তখন বোঝা দরকার, এটা বাজার অর্থনীতিতে কি ধরনের মূল্য দিয়ে করা হয়ে থাকে. পারমানবিক জ্বালানী শক্তি- এটা ব্যবসায়িক প্রকল্প. আমরা ব্যবসায়িক লাভের ব্যাপারেও ভাবতে বাধ্য. সেই সব দেশ, যারা নিজেদের দেশে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র দেখতে চায়, তাদের জন্য এটা এক ধরনের পুনর্জন্ম, এর মানে হল উচ্চ প্রযুক্তি. তারা আশা করে যে, তাদের দেশে এর ফলে প্রযুক্তি ও জ্বালানী ক্ষেত্রে উন্নতি হবে”.

 “আর যখন আমরা এই কেন্দ্র চালানোর জন্য এঞ্জিনিয়ার তৈরী করে দিই, তখন আমরা আসলে তৈরী করি সেরা কর্মী, এটা খুবই ভাল”, - এই কথা বলেছেন নিগমাতুলিন.

 কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু ঝুঁকি বিশেষজ্ঞের কথামতো, তাও থেকে যায়. পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র – এটা পারমানবিক ভাবেই বিপজ্জনক কেন্দ্র, আর নাইজিরিয়া দেশে পরিস্থিতি বোধহয় বলা যেতে পারে না যে, খুবই ভাল রকমের স্থিতিশীল. তাই এই দেশের প্রশাসনের কাছ থেকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ রকমের গ্যারান্টির প্রয়োজন হবে.

 বোঝাই যাচ্ছে যে, সমস্ত প্রকল্পই খুব ভাল করে বিচার করে দেখা হয়ে থাকে, কোন রকমের বাস্তব প্রকল্প নির্মাণের আগে. আর নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্ন ও অর্থনৈতিক লাভ সব সময়েই ছিল আর এখনও একটি প্রাথমিক শর্ত হয়েই রয়েছে.