রাশিয়ার পার্লামেন্টের উচ্চ কক্ষ- জাতীয় সভা দেশের পার্লামেন্টের নিম্ন কক্ষে গ্রহণের অব্যবহিত পরেই সমাবেশ ও অন্যান্য জন সমষ্টি নিয়ে অনুষ্ঠানে আইন ভঙ্গ করার জন্য জরিমানা ও শাস্তি কঠোর করা নিয়ে নতুন আইন সমর্থন করেছে. এখন থেকে সাধারন ব্যক্তির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশী জরিমানা হবে- তিন লক্ষ রুবল (১০ হাজার ডলারের সমান) ও দায়িত্ব পূর্ণ পদে আসীন ব্যক্তির জন্য – ৬ লক্ষ রুবল (২০ হাজার রুবল), আইন সম্মত গোষ্ঠীর জন্য জরিমানা সর্ব্বোচ্চ ১০ লক্ষ রুবল (৩০ হাজার ডলারের বেশী). এই দলিল আইনে পরিণত হওয়ার জন্য এখন প্রয়োজন শুধু রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের স্বাক্ষর.

 মিটিং সংক্রান্ত নতুন আইনের প্রকল্প সমাজে ও দেশের পার্লামেন্ট সদস্যদের মধ্যে এক প্রবল বিতর্কের ঝড় তুলেছে. এর সামান্য আগেই মানবাধিকার সংক্রান্ত রাষ্ট্রপতির সবার সভাপতি মিখাইল ফিদোতভ দেশের লোকসভা ও রাজ্য সভার দুই প্রধানের উদ্দেশ্যেই আহ্বান জানিয়েছেন যেন তাঁর মতে এই ভুল দলিল গৃহীত না হয়. তা স্বত্ত্বেও, এই আইন দেশের পার্লামেন্টের দুই কক্ষই সমর্থন করেছে ও মিখাইল ফিদোতভ ঠিক করেছেন তিনি নিজে রাষ্ট্রপতির কাছে আপীল করবেন. এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন:

 “এই ভুল হবে মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘণ করার উত্স ও তা সমাজের মধ্যে বিরোধের বৃদ্ধি করবে. আমরা মনে করি যে, এই আইন, অন্য সব কিছু বাদ দিলেও রুশ প্রজাতন্ত্রের সংবিধান বিরোধী, আর তারই সঙ্গে অন্যান্য রুশ আইনের পরিপন্থী. অংশতঃ, দেশের শ্রম সংক্রান্ত আইন, সামাজিক আইন, ফৌজদারী আইন ও ইত্যাদি”.

 রাশিয়াতে নানা রকমের মিছিল, সমাবেশের জন্য খুবই নির্দিষ্ট করে কাজের ধারা তৈরী করা রয়েছে, কিন্তু এখনও অবধি আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে জরিমানা ছিল খুবই প্রতীকী ধরনের. এই আইনের ধারণা এই বিষয়েই করা হয়েছে, যাতে মিটিং করা যায় সভ্য ভাবে ও দেশের জনগনের নিরাপত্তা বজায় রেখে, এই ভাবে ব্যাখ্যা করে পার্লামেন্টের সবচেয়ে বেশী সংখ্যক সদস্যের দল ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার পার্লামেন্ট প্রধান আন্দ্রেই ভরোবিয়েভ ব্যাখ্যা করে বলেছেন:

 “গণতন্ত্র – এটা শুধু অধিকার ও সম্ভাবনাই নয়, বরং নিজের কাজের জন্য দায়িত্ব শীল হওয়াও বটে. তাই খোলাখুলি বিতর্ক ও আলোচনার পরে, আর তার উপরে রাষ্ট্রপতির কাছেও আলোচনার পরে আমরা এই আইনের খসড়া প্রস্তাব করেছি, যা গণতান্ত্রিক চরিত্রের, আর বর্তমানের বিশ্বের অভিজ্ঞতার সঙ্গেও মেলে”.

 সমালোচনার প্রতিক্রিয়া হিসাবে এই দলিলের স্রষ্টারা চেষ্টা করেছিলেন বিরোধীদের সমস্ত মন্তব্য বিচার করে দেখতে ও সমস্ত রকমের ভাসাভাসা সংজ্ঞা দূর করার. সমাবেশ ও মিটিং সংক্রান্ত নতুন আইনে এই ক্ষেত্রে প্রত্যেক রকমের আইন ভঙ্গের কথা আলাদা করে লেখা হয়েছে ও বলা হয়েছে কিসের জন্য কে দায়ী সাব্যস্ত হবে.

 কিন্তু পার্লামেন্টের বিরোধী পক্ষের সদস্যরা সব স্বত্ত্বেও অসন্তুষ্ট রয়ে গিয়েছেন. ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার কাছ থেকে এই আইনের সম্বন্ধে বিচার পরবর্তী কালের জন্য মুলতবি রাখার দাবী প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পরে ন্যায় বাদী রাশিয়া ও কমিউনিস্ট পার্টি একই সঙ্গে ৪১১টি সংশোধনের প্রস্তাব করেছিল. প্রত্যেকটি বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা আলাদা করে পাঠ করেছেন, ব্যাখ্যা দিয়ে যে, কেন তাঁরা এই সংশোধন চাইছেন. এর উত্তরে ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার প্রতিনিধি ব্যাখ্যা করেছেন, কেন তা প্রত্যাখ্যান করা হচ্ছে. এই ভাবেই বেশ কয়েক শো সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়েছিল.

 ফলে এই আলোচনা চলেছে ১১ ঘন্টা ও তা শেষ হয়েছে প্রায় মধ্য রাত্রে. ঐক্যবদ্ধ রাশিয়ার পক্ষে সম্ভব হয়েছে দ্বিতীয় ও তৃতীয় বার পাঠের পরে এই আইন গ্রহণ করার. বিরোধী পক্ষ নিজেদের মতেই রয়ে গিয়েছেন, এই প্রসঙ্গে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রতিনিধি আনাতোলি লোকত বলেছেন:

 “আপনাদের স্মরণ কালের মধ্যে এটা সবচেয়ে খারাপ আইন গ্রহণ করা হয়েছে. কিন্তু ভগবান আপনাদের বিচার করবেন. লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দল এর স্বপক্ষে ভোট দেবে না. কারণ আমরা এখনই স্বাভাবিক ভাবে মিটিং করতে পারি না. আমাদের এখনই তা বন্ধ করতে বলা হয়ে থাকে. এর পরে কি হবে, তা আমরা শুধু ধারণাই করতে পারি. আর, দুঃখের হল যে, আমাদের ভবিষ্যদ্বাণী সাধারণত মিলেই যায়”.

 ন্যায় বাদী রাশিয়া দলের পক্ষ থেকে এই আইনের স্বপক্ষে ভোট দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই বাতিল করা হয়েছিল, যা তাদের লোকসভা সদস্যদের গোষ্ঠীর নেতা সের্গেই মিরোনভ নামকরণ করেছেন জন বিরোধী বলে, তিনি বলেছেন:

 “আইন প্রণেতা যারা আজ এর স্বপক্ষে, তাদের লজ্জা হওয়া উচিত্. এই ধরনের প্রহসনে ন্যায় বাদী দল অংশ গ্রহণ করার সম্ভাবনা দেখতে পায় না. আর তৃতীয় বার আলোচনার পরে ভোট দানের সময়ে আমাদের সদস্যরা প্রতিবাদ প্রদর্শন করেই সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেছেন”.

0 সুতরাং, এই সমাজের পক্ষ থেকে মত বিরোধের মধ্যে নেওয়া আইন রুশ সংসদের দুই কক্ষের পক্ষ থেকেই গৃহীত হয়ে গিয়েছে. এবারে এই দলিলের নীচে স্বাক্ষর করার কথা রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিনের. নিজের পক্ষ থেকে ভেটো দানের ক্ষমতা দেশের নেতা ব্যবহার করবেন কি না, আপাততঃ তা জানা নেই. কিন্তু তাঁর তথ্য প্রচার সচিব দিমিত্রি পেশকভও ইতিমধ্যেই ঘোষণা করেছেন যে, রাষ্ট্রপতি মিটিং সংক্রান্ত আইনের বিরুদ্ধে নীতিগত ভাবে তখনই প্রতিবাদ করবেন, যদি তা ইউরোপে বাস্তবে যা মানা হয়, তার বিরুদ্ধে যায়.