দেশের মুখ্য এলাকা গুলিতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের ১৬টি মানবাধিকার সংস্থা ও অন্যান্য বেসরকারি সংস্থার আগমন নিয়ে সিরিয়ার সরকার রাষ্ট্রসঙ্ঘের সঙ্গে সমঝোতায় এসেছে. সিরিয়ার জনগনকে সাহায্য করার জন্য রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও আরব লীগের বিশেষ প্রতিনিধি কোফি আন্নানের শান্তি পরিকল্পনার কাঠামোর মধ্যেই এই কাজ করা হচ্ছে. তারই সঙ্গে মঙ্গলবারে রাশিয়া সাবধান করে দিয়েছে: এই ক্ষেত্রে প্রচেষ্টা নষ্ট করে দেওয়া হতে পারে.

 এর আগে বিরোধী পক্ষের সশস্ত্র পক্ষ “সিরিয়ার স্বাধীন বাহিনী” তাদের দেওয়া চরম শর্ত বাস্তবায়িত করেছে, যা তারা রাষ্ট্রপতি বাশার আসাদকে দিয়েছিল. তারা ঘোষণা করেছে যে, তারা অস্ত্র হাতে সিরিয়ার লোকদের প্রশাসনের কাছ থেকে রক্ষা করবে. মস্কো এই বিষয়কে বিরোধী পক্ষের তরফ থেকে বাস্তবে কোফি আন্নানের পরিকল্পনা রূপায়নের বিষয়ে ও সিরিয়াতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশন এবং আন্তর্জাতিক সমাজের পক্ষ থেকে বিরোধ থেকে রাজনৈতিক প্রক্রিয়াতে যাওয়ার বিষয়ে সহায়তাকে ব্যর্থ করার প্রচেষ্টা মনে করেছে.

 সিরিয়ার বিরোধী পক্ষ এই পদক্ষেপ ঠিক তখনই নিয়েছে, যখন দেশে কয়েক দিন হওয়া রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশনের সম্পূর্ণ ভাবে পর্যবেক্ষণ মিশন চালু হতে পেরেছে. অন্য কথায় বললে, তাদের দল, রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ৩০০ জন নিরস্ত্র সামরিক কর্মী সম্পন্ন হতে পেরেছে. তারই সঙ্গে দেশের এলাকার গুলির তালিকাও প্রসারিত করা হয়েছে, যেখানে তারা দেশের প্রশাসনের শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী ও বিরোধী দলের কার্যকলাপ লক্ষ্য করতে সক্ষম হয়েছে.

 সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের কোফি আন্নানের পরিকল্পনা রূপায়িত হতে না দেওয়ার চেষ্টা আগে থেকেই অনুমেয় ছিল, ঘোষণা করেছেন রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ, তিনি বলেছেন:

 “সিরিয়ার সশস্ত্র বিরোধী পক্ষ আচমকাই এটা করে নি. তারা শান্তি চুক্তি করতেই চায় না. তাদের লক্ষ্য অন্য – বাশার আসাদের প্রশাসনের পতন. তারা শুধু সাময়িক ভাবে রাষ্ট্রসঙ্ঘের শান্তিরক্ষক বাহিনীর উপস্থিতি মেনে নিয়েছিল, আসলে তারা পিছন থেকে কাজ চালিয়েই যাচ্ছিল. গত দুই সপ্তাহে যত গুলি এই দেশে সন্ত্রাসবাদী কাণ্ড হয়েছে তা সেই সশস্ত্র বিরোধী পক্ষের ক্রিয়াকলাপ”.

 প্রতিদিন সিরিয়াতে অগ্নি সম্বরণ করতে না চাওয়া জঙ্গীদের আক্রমণের ফলে মারা যাচ্ছে দেশের সেনা বাহিনীতে কর্মরত ২০ – ৩০ জন সেনা ও অফিসার. এই বিষয়ে মনোযোগ আকর্ষণ করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস দোলগভ বলেছেন:

 “এটা কোফি আন্নানের পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেওয়ার সরাসরি চেষ্টা. এই ধরনের সশস্ত্র লোকরা কিসের অপেক্ষা করছে, যাদের মধ্যে সেই আল- কায়দার মতো জঙ্গী দলের লোকরাও রয়েছে? তারা বাইরের দেশ থেকে সাহায্যের আশা করেছে, এটা স্পষ্ট. এই সাহায্য করা চলছেই, এটাও দেখাই যাচ্ছে. এই বিষয়ে খোলাখুলি ভাবেই পারস্য উপসাগরের দেশ গুলি ও এমনকি পশ্চিমের দেশ গুলির প্রতিনিধিরা বলছে. তারা আহ্বান করেছে এই সশস্ত্র জঙ্গীদেরই অস্ত্র দিতে ও সহায়তা করতে – “সিরিয়ার স্বাধীন সেনা বাহিনীকেই””.

 স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে সিরিয়ার প্রশাসনকে শক্তি প্রয়োগ করে অপসারণ করার চেষ্টা হচ্ছে. এই কারণেই সেই দেশের পরিস্থিতি নিয়ে এত বেশী উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছে.