৬ই জুন রাশিয়ায় প্রধান জাতীয় কবি আলেক্সান্দর পুশকিনের জন্মদিন উপলক্ষ্যে পুশকিন দিবস পালন করা হয়. রাশিয়ার সাথে আরও একগাদা দেশে রুশভাষার মুখ্য সূত্রধরের জন্মদিন পালন করা হয়ে থাকে.

     উনবিংশ শতাব্দীতেই ঐতিহ্য গড়ে উঠেছিল – কবির জন্মদিন, ৬ই জুনে জনগণ মস্কোয় তাঁর স্মৃতিমূর্তির সামনে সমবেত হতো, কবিতা পাঠ করতো, পুষ্পস্তবক স্মৃতিস্তম্ভের পাদতলে রাখতো. জনগণ রুশ ভাষার প্রথম সত্যিকারের সাহিত্যিকের ব্রোঞ্জমূর্তির সামনে যেন সংহতি বোধ করে. যবে রাশিয়ায় এই ঐতিহ্য শুরু হয়, তখন রাশিয়ায় শুধুমাত্র মস্কোয় পুশকিনের স্মৃতিমূর্তি স্থাপিত ছিল. অতঃপর কবির ২১৩-তম জন্মদিনে শুধু রাশিয়ায় নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে সবসুদ্ধ প্রায় ২০০ স্মৃতিমূর্তি আছে.

    ফুল নিয়ে ও কবিতা আবৃত্তি করার জন্য বহুদেশেই পুশকিনের স্মৃতিমূর্তির কাছে আজ অনেকেই যাবে. যেমন, ব্রাসেলসে সাহিত্যিক সন্ধ্যার আয়োজন করা হবে এই উপলক্ষ্যে. সোফিয়ায় রুশ সাহিত্য অনুরাগীদের বল নাচের অনুষ্ঠান হবে, আর নয়া দিল্লা পুশকিনের জন্মদিনের প্রতি উত্সর্গ করছে “গোটা জীবন – একটা অসাধারন মুহুর্ত” নামক অনুষ্ঠান. আর গ্রেট বৃটেনে প্রথাগতভাবে আয়োজিত হবে কবিতা প্রতিযোগিতা, যেখানে পুশকিনের লেখা বিখ্যাত উপন্যাস ‘ইভগেনি ওনেগিন’ থেকে কাব্যিক ভাষায় আধুনিক কবিরা পড়বে “ভালোবাসা যে কোনো বয়সেই মানানসই”.

     পুশকিনের জীবন ও তার রচিত সাহিত্য সম্পর্কে বিদেশে আরও বেশি করে জানতে সাহায্য করে রুশী সংস্কৃতি কেন্দ্র ও রাষ্ট্রদূতাবাসের কর্মীরা. আজ নিউ-ইয়র্কে চলতি বইমেলায় পুশকিন দিবস ঘোষণা করা হয়েছে, যেখানে রাশিয়া মাননীয় অতিথির ভূমিকায়. বিশেষতঃ সেখানে পুশকিনের মাতৃভাষায় ও ইংরাজী অনুবাদে তার রচনা শোনা যায়. পুশকিনকে বিভিন্ন বিদেশী ভাষায় অনুবাদ করা হচ্ছে দেড়শো বছর ধরে, তবুও ‘রেডিও রাশিয়া’কে দেওয়া সাক্ষাত্কারে ফরাসী ভাষাতত্ত্ববিদ ও অনুবাদক জর্জ নিভার মতে পুশকিনের সাবলীলতা এখনো অনুবাদ করা অত্যন্ত শক্ত.

          যখন পুশকিন রচিত গীতিকাব্যের কথা ওঠে, যেখানে কোনো রূপক নেই, যেখানে তার সেরা কবিতাগুলোর মতো সব কিছু স্বচ্ছ – সেই সব কবিতাগুলো অনুবাদ করাই সবচেয়ে দুরূহ – বলছেন জর্জ নিভা. সবচেযে কঠিন হচ্ছে পুশকিনের অল্প কথায় বর্ণনা. এরকম অল্প কথায় বলা, এটা রুশী সাহিত্যিক চরিত্র নয়, যদি লেভ তলস্তোয় বা ফেওদর দস্তয়েভস্কির সাথে তুলনা করা হয়. এই ক্ষেত্রেই পুশকিন বোধহয় সর্বাপেক্ষা প্রতিভাশীল, সবচেয়ে বেশি ইউরোপীয় কবি.

   অনুবাদ করা শক্ত হলেও পুশকিনের রচনা পৃথিবীর বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হতেই থাকবে. রুশীদের জন্য হদয়ঙ্গম এই কারণ ব্যাখ্যা করেছেন বৃটেনের পুশকিন তত্ত্ববিদ জুলিয়ান লোউএনফিল্ডঃ বিনা কারণে পুশকিনকে ‘রুশী কবিতার সূর্য’ বলে অভিহিত করা হয় না – “তার মধ্যে এত উজ্জ্বল, দয়াময়, স্বচ্ছ শক্তি ও বিশ্বাস”.