রাশিয়ার সরকারি সংস্থা “রসঅ্যাটম” নিজেদের জন্য এক পাইলট বিহীণ জেপেলিন তৈরী করতে দিয়েছে. ৫০ মিটার ব্যাসের এই জেপেলিন যা গঠনের দিক থেকে অনেকটাই উড়ন্ত চাকীর মতো দেখতে হবে, তা শুরু করা হতে চলেছে ২০১৩ সালে. এর সর্ব্বোচ্চ উড়ানের উচ্চতা – পাঁচ হাজার মিটার অবধি. এই জেপেলিন তৈরী করা হবে চারটি শক্তিশালী টার্বো- প্রপেলার ইঞ্জিন দিয়ে.

 বিশেষ ধরনের যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই জেপেলিন যিনি চালাবেন, তিনি ১০০ কিলোমিটার দূর থেকেই এটিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন. এর কাজের মধ্যে যা সমস্ত কাজ ধরা হয়েছে, তা অনেক প্রসারিত, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার “এয়ারোস্ট্যাটিক” কোম্পানীর কর্ণধার আলেকজান্ডার কিরিলিন বলেছেন:

 “এর প্রাথমিক কাজের মধ্যে থাকবে আবহাওয়া ও পরিবেশের পর্যবেক্ষণ ও সংরক্ষণের কাজ, টহলদারী করা. এটা প্রথম যে জেপেলিন তৈরী করা হবে, তার কাজ. এই যন্ত্র হবে মাঝারি আকৃতির, আর সম্ভাবনা রয়েছে যে, পরবর্তী কালের জেপেলিন গুলির কাজের মধ্যে থাকবে ভারী ও বিশাল আকৃতির মালপত্র বহন করে নিয়ে যাওয়া – পারমানবিক রিয়্যাক্টরের অংশ নিয়ে যাওয়া. এটা হবে তখন, যখন এই ধরনের জেপেলিন তৈরী করা হবে খুবই বড় ও বিশাল আকৃতির ও তা হবে বিশাল মাল বহনের ক্ষমতা সম্পন্ন”.

 আজকের দিনে বিশ্বে জেপেলিন নির্মাণ খুবই সাফল্যের সঙ্গে স্থিতিশীল ভাবেই উন্নতি করছে. তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে খুবই বহু প্রসারিত ভাবে: বনে কাঠ বহনের কাজ করার জন্য, জাহাজ থেকে মাল নামান ও ওঠানোর ব্যাপারে, বিদ্যুত পরিবহনের তার লাগানোর কাজে, খনিজ তেলের উত্পাদনের জন্য প্ল্যাটফর্মের অংশ ও যন্ত্রপাতি জোড়া লাগানোর কাজে, ভূতাত্ত্বিক অনুসন্ধানের কাজে. জেপেলিন যারা ব্যবহার করতে পারেন, তাদের মধ্যে যোগ হয়েছেন- নতুন খনিজ সম্পদের উত্স অনুসন্ধানের জন্য সাধারন ভাবে পৌঁছনো কঠিন প্রান্তিক উত্তরে ভূমিতে ও সমুদ্র তলে কাজ করতে যাওয়া বিশেষজ্ঞরা. এই যন্ত্রের প্রতি নিজেদের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন সেই ধরনের কোম্পানী, যেমন, “নোরিলস্ক নিকেল” (নিকেল উত্পাদক), “আলরোসা” (হীরা উত্পাদক) কোম্পানী. সামগ্রিক ভাবে এই দিকে কাজ করার জন্য যথেষ্ট ভাল সম্ভাবনা রয়েছে, এই কথাই উল্লেখ করে আলেকজান্ডার কিরিলিন বলেছেন:

 “রাশিয়াতে ২০২০ সাল পর্যন্ত জেপেলিন তৈরীর ব্যাপারে বিকাশের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে. নির্দিষ্ট পরিমানে কাজ করা হচ্ছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে, বিপর্যয় নিরসন মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকেও নির্দিষ্ট রকমের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে. তাই আগামী দুই তিন বছরে আশা করা যেতে পারে খুবই আগ্রহ জনক সমস্ত প্রকল্পের শুরু হওয়ার. আর রাশিয়া, সম্ভবতঃ, বিশ্বে নতুন প্রজন্মের জেপেলিন তৈরী বিষয়ে নেতৃস্থানীয় জায়গাও দখল করতে পারে”.

 সবচেয়ে সক্রিয়ভাবে জেপেলিন আজ তৈরী করা হচ্ছে জার্মানীতে, গ্রেট ব্রিটেনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ও রাশিয়াতে. জেপেলিন খুবই উচ্চ প্রযুক্তি প্রয়োগে যারা তৈরী করছে, তাদের মধ্যে রাশিয়ার “রসএয়ারোসিস্টেমস” কোম্পানী রয়েছে, যাদের কাছে আছে খুবই অত্যাধুনিক আচ্ছাদন তৈরী করার প্রযুক্তি. রাশিয়ার কোম্পানীর তরফ থেকে একটি শেষ প্রকল্প – দুই আসন বিশিষ্ট জেপেলিন, যা পাইলট প্রশিক্ষণের জন্য তৈরী করা হয়েছে, যারা শহরের এলাকা ও সড়ক পথ পর্যবেক্ষণের কাজ করবেন. বিশেষজ্ঞদের মতে, বেশী ওজন তুলতে সক্ষম জেপেলিন ব্যবহার করা পরিবহনের উন্নতি সম্বন্ধে ধারণা পরিবর্তনে সাহায্য করবে. কারণ মাল নিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে, যে কোন জায়গা থেকে, অন্য যে কোন জায়গাতেই, তাদের স্থানের চরিত্রের কথা না ভেবেই. শেষমেষ, জেপেলিন খুবই সম্ভাবনাময়, পর্যটনের ক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য.

 রসঅ্যাটম সংস্থার জন্য যারা বড় জেপেলিন তৈরী করছেন, সেই রুশ কোম্পানী “দোলগোপ্রুদনিনস্কোয়ে অটোম্যাটিক কনস্ট্রাকশন ব্যুরো”, এর মধ্যেই এই যন্ত্রের মডেল তৈরী করে ফেলেছে আর এখন তার উপরে প্রযুক্তি গত সমাধান ও নতুন ব্যবস্থা পরীক্ষা করে দেখছে.