রাশিয়ার ইঞ্জিনিয়ারের আবিষ্কার ইউরো কমিশনের কাছ থেকে সাত লক্ষ ইউরোর বেশী অনুদান জিতে নিয়েছে. ইউরোপীয় লোকরা “বেল্লা” নামের এক রোমান্টিক নামকরণ করা এই বিরল বিমানটি তার গুণমানের জন্যই মূল্যায়ন করেছেন. ইউরো কমিশনের বিশেষজ্ঞ সভা আরও এই ধরনের অনেকগুলি প্রকল্পের মধ্যে বেছে নিয়েছেন, যেগুলি সারা বিশ্বের বিভিন্ন বিজ্ঞানীরা “বিমান ও মহাকাশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি” নিয়ে প্রস্তাব করেছিলেন.

 এই বিমানটি এই কারণে আলাদা যে, এর জন্য আলাদা করে কোন বিমান বন্দরের প্রয়োজন হবে না. এটা একটা উভচর বিমান: সেটা একই সঙ্গে এরোপ্লেন, হেলিকপ্টার, ডিরিঝাবল ও হোভারক্র্যাফ্টের সমন্বয়ে তৈরী. এটি আজ থেকে ২০ বছর আগে সাইবেরিয়ার শহর ত্যুমেন এর এক নির্মাতা আলেকজান্ডার ফিলিমোনভ তৈরী করেছিলেন. প্রথম এটি পরীক্ষা করা হয়েছিল ১৯৯০ সালে. তখন এই বিমান তৈরী করার দরকার পড়েছিল ইয়ামবুর্গ গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্রে বড় মাপের মাল পরিবহন করে নিয়ে যাওয়ার জন্য, যা সেই সাইবেরিয়াতেই ছিল.

 নির্মাতার কথামতো, এই যন্ত্রের সম্ভাবনা খুবই বিরল ধরনের. উড়তে ও নামতে পারে এই বিমান যে কোন রকমের কম বেশী সমতলে. এটা এমনকি বরফ ঢাকা অথবা বরফের উপরেও হতে পারে, এমনকি তা জলাশয়ও হতে পারে. এই ধরনের উড়ানের প্রথমটিতে প্রথম “বেল্লা” বরফ ঢাকা মাঠ থেকেই উড়েছিল. আবহাওয়া পরিস্থিতিও এর জন্য কোনও বাধা নয়.

 বিমান বন্দর ছাড়াই যে বিমান উড়তে ও নামতে পারে, তা বড় আকারের অংশ জোড়া লাগিয়ে নির্মাণের জন্য ২০০ – ৩০০ টন ওজন নিয়ে যাওয়ার কাজে লাগানো যেতে পারে, যা শুধু বিমানের গঠনের উপরেই নির্ভর করে. তাছাড়া এই বিমান ব্যবহার করা যেতে পারে দাবানল নেভানোর জন্য, প্রাকৃতিক ও প্রযুক্তিগত বিপর্যয়ের ত্রাণে, কোন জায়গা পাহারা দেওয়ার জন্যও.

 এই ধরনের বিমান প্রত্যন্ত উত্তরের পরিস্থিতি অনুযায়ী খুবই উপযুক্ত, সাইবেরিয়া ও রাশিয়ার সুদূর প্রাচ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে বলে মনে করেছেন বিমান নির্মাতারা. প্রথমতঃ, এই সব এলাকায় খুবই দামী বিমান বন্দর রাখা. দ্বিতীয়তঃ, সেখানে অনেক স্বাভাবিক ভাবেই সমান ও প্রাকৃতিক নামা ওঠার মতো জায়গা রয়েছে, তা যেমন গরম কালে, তেমনই শীত কালেও, সেগুলি হ্রদ, নদী, ডোবা, মাঠ. নিজের সমস্ত রকমের গুণ থাকা স্বত্ত্বেও “বেল্লা” আরও একটি বিশেষত্ব রাখে – সবচেয়ে কম জ্বালানী খরচ করে. তা তুলনামূলক ভাবে সবচেয়ে হাল্কা সোভিয়েত পরিবহন বিমান আন- ২ এর চেয়ে বেশ কিছু ভাগ কম, যদিও মাল নিয়ে ওড়ার পরিমানে তুলনার যোগ্য.

 আজকের দিনে নির্মাতারা একটি পরীক্ষা মূলক নমুনা তৈরী করেছেন, যা দুজন মানুষকে নিয়ে উড়তে পারে. কিন্তু এখনই তৈরী হয়ে রয়েছে পাঁচ জন নিয়ে ওড়ার মতো বিমানের ড্রয়িং. বাইরে থেকে দেখলে “বেল্লা” অনেকটা উড়ন্ত চাকীর মতো দেখতে অথবা খুবই বেশী রকমের মোটা হয়ে যাওয়া বর্তমানের বিমান. এই যন্ত্র তৈরী করা হয়েছে উড়ন্ত ডানা নামের কাঠামোর উপরে ভিত্তি করে, যার পিছনে লেজের অংশ অনেক খানি বড় ও পাইলট ও যাত্রীদের কেবিন সামনের দিকে.

 ইউরো কমিশনের থেকে অনুদান, যা দেওয়া হয়েছে “বেল্লা” বিমান বিশেষজ্ঞ মহলে মূল্যায়ন করার জন্য ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের মান অনুযায়ী পরীক্ষা করার জন্য. এবারে এই বিমানের আবিষ্কারক আশা করেছেন যে, এই ধরনের কয়েকটি পরীক্ষার উপযুক্ত বিমান বানানো সম্ভব হবে.