চিন সফর ও বেজিংয়ে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠকে যোগদান করার আগে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন সরাসরি ভাবে বিশ্বের একটি প্রভাবশালী সংবাদপত্র “ঝেনমিন ঝিবাও” এর বহু কোটি পাঠকদের কাছে তাঁর বক্তব্য পেশ করেছেন. তিনি আমাদের দুই দেশের সহযোগিতা নিয়ে নিজের মূল্যায়ণ ও বর্তমানের বিশ্বে রুশ- চিন সম্পর্কের ভূমিকা নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন.

 রাশিয়া ও চিনের সম্পর্ক কোন রকমের ধরে নেওয়া বিশ্বাস থেকে মুক্ত ও প্রচলিত ধারণা থেকেও মুক্ত, আর তার মানে হল খুবই বিরল ভাবে স্থিতিশীল ও এটা এই মুহূর্তের কোন গঠনের আওতায় পড়ে না. বর্তমানের বিশ্বে এটা খুবই মূল্যবান, যেখানে রয়েছে খুবই দৃষ্টি কটু ভাবে স্থিতিশীলতার অভাব ও পারস্পরিক ভরসার অভাব. মঙ্গলবারে “ঝেনমিন ঝিবাও” সংবাদপত্রে প্রকাশিত প্রবন্ধে এই মতই প্রকাশ করেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. পুতিনের কথামতো, রুশ – চিন সম্পর্ক সম্যক কারণেই বলা হয়ে থাকে আধুনিক বিশ্বের নতুন ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগের উদাহরণ হিসাবে. মস্কো ও বেজিং খুবই সহজে ঐক্যমত নির্ধারণে সক্ষম, আন্তর্জাতিক বিতর্কের ক্ষেত্রে যৌথ কৌশল ও পরিকল্পনা তৈরী করতে পারে. তাদের অবস্থান তৈরী হয়ে থাকে দায়িত্বের নীতির উপরে ভিত্তি করে ও দুই পক্ষের স্বার্থের বিষয়ে কোন রকমের শর্ত নিরপেক্ষ ভাবেই.

 রাশিয়া ও চিনের স্ট্র্যাটেজিক সহযোগিতা এক কার্যকরী কারণ হয়েছে, যা আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতাকে মজবুত করে, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন. এই যুক্তির উপরে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতাকে মজবুত করা উচিত্, যে সংস্থার দশ বছর গত বছরে পালন করা হয়েছে.

 আজ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – দ্রুত বিকাশমান বহুমাত্রিক সংস্থা. অবশ্যই, তার বিশাল ক্ষমতার, এখনও শুধু অনেক বাকী রয়েছে সম্পূর্ণ ভাবে বাস্তবায়িত করা. কিন্তু পেরিয়ে আসা পথের দিকে তাকালে খুবই নির্দিষ্ট করে বলা সম্ভব হবে যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট ওজনের প্রভাব বিস্তার করতে পেরেছে, বিশ্বের মঞ্চে তার কন্ঠস্বর এখন অনেক স্পষ্ট করেই শোনা যাচ্ছে. এই সংস্থা এক সহযোগিতার রূপ দিতে পেরেছে, যা সম্পূর্ণভাবেই নির্ভর করেছে সমস্ত সদস্য দেশের সত্যিকারের সমানাধিকারের ভিত্তিতে, পারস্পরিক ভরসার ভিত্তিতে, সার্বভৌমত্বের মর্যাদা দিয়ে ও প্রত্যেক জাতির লোকদের নিজস্ব স্বাধীন নির্বাচনের ভিত্তিতে, তাদের সংস্কৃতি, মূল্যবোধ, ঐতিহ্য ও সম্মিলিত ভাবে বিকাশের লক্ষ্যের উপরেই ভিত্তি করে. এই ধরনের দর্শন, বাস্তবে, সবচেয়ে ভাল করেই বহু মেরু বিশিষ্ট বিশ্বের আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধারণাকে একমাত্র জীবনের পক্ষে উপযুক্ত ও ভিত্তি মূলক নীতিকে রূপায়ণ করতে সমর্থ হয়েছে.

 অনেক ক্ষেত্রেই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সদস্য দেশ গুলির শক্তি প্রয়োগের ফলে তাদের সহযোগিতা প্রসারিত ভাবে বিদেশের সহকর্মীদের সঙ্গে করার ফলেই এই অঞ্চলে সন্ত্রাসবাদীদের সক্রিয়তা খুবই লক্ষ্যণীয় ভাবেই কমানো সম্ভব হয়েছে. কিন্তু সেই সমস্ত হুমকি, যা আমরা আজ মুখোমুখি হচ্ছি, তা হয়ে উঠেছে আরও বহু মাত্রিক, এই কথাই উল্লেখ করেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি. আমাদের সকলের সামগ্রিক উদ্বেগের কারণ হয়েছে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা আফগানিস্তানের জনগনের জন্য অনেক উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে, তাদের এই বহু অত্যাচারিত দেশের পুনর্জন্মের জন্যই.

 কোন রকমের সন্দেহ নেই যে, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয়ভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাঠামোর মধ্যেই রাজনৈতিক ভাবে সহযোগিতাকে মজবুত করা হবে. সংস্থার পক্ষেই সম্ভব সবচেয়ে বড় যৌথ প্রকল্প গুলির রূপায়ণ করা. আমাদের স্পষ্ট দেখতে পাওয়া সুবিধার মধ্যে, কেনই বা করা যাবে না সকলের স্বার্থেই এর ব্যবহার, রাশিয়ার আধুনিক হয়ে ওঠার মধ্যে প্রযুক্তিগত ক্ষমতা, চিনের দ্রুত উন্নতিশীল অর্থনৈতিক ক্ষমতা, মধ্য এশিয়ার দেশ গুলির অত্যন্ত সমৃদ্ধ খনিজ সম্পদের ব্যবহার, এই প্রশ্নই করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন.

 উদাহরণ হিসাবে, রুশ – চিন প্রকল্প, যা জ্বালানী ক্ষেত্রে করা হয়েছে, তা খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভাবেই বিশ্বের জ্বালানী বাজারের গঠনকে পাল্টে দিয়েছে. চিনের জন্য - এটা ভরসা যোগ্যতার বৃদ্ধি, তাদের আভ্যন্তরীণ প্রয়োজনে জ্বালানী সরবরাহের জন্য নানা রকমের বিভিন্ন পথের সম্ভাবনা. রাশিয়ার জন্য – দ্রুত উন্নতিশীল এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় নতুন ধরনের রপ্তানীর পথ খুলে যাওয়া. এই সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়িত হওয়া ফলের মধ্য আলাদা করে উল্লেখ করা যেতে পারে রুশ – চিন খনিজ তেলের পাইপ লাইনের উদ্বোধন. রাশিয়ার সাহচর্যে তৈরী হয়েছে তিয়ানভান পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের প্রথম দফার রিয়্যাক্টর, যা চাপ পরীক্ষার ফলাফলে স্বীকার করা হয়েছে চিনের সবচেয়ে নিরাপদ প্রকল্প বলে. গত বছরে রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় গণ প্রজাতন্ত্রী চিনে প্রথম পরীক্ষা মূলক রিয়্যাক্টর চালু করা হয়েছে দ্রুত গতিশীল নিউট্রনের উপরে ভিত্তি করে. এই ভাবেই, চিন বিশ্বের চতুর্থ দেশ হয়েছে, যারা রাশিয়া, জাপান ও ফ্রান্সের পরে এই ধরনের প্রযুক্তির অধিকারী.

 রাশিয়া ও চিনের সহকর্মী হওয়া কারও বিরুদ্ধে লক্ষ্য করে নয়, বরং তা লক্ষ্য করা হয়েছে সৃষ্টির কাজে, ন্যায়কে মজবুত করা ও আন্তর্জাতিক জীবনে গণতান্ত্রিক প্রারম্ভের উদ্দেশ্য নিয়ে. পুরনো চিনা প্রবাদে রয়েছে: “সম্মিলিত আকাঙ্ক্ষা – সম্মিলিত শক্তি”. আমরা একত্রে কাজ করার জন্য তৈরী আমাদের দেশ ও তার মানুষদের জন্যই. আর এটা অবশ্যই নিয়ে আসবে উপযুক্ত রকমের ফল, এই কথাই বিশ্বাস করেন রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি.

 বেজিংয়ে রাশিয়ার প্রধানের সফর হচ্ছে ৫ ও ৬ই জুন.

 রাশিয়ার রাষ্ট্রপতির সহকারীর কথামতো, এই সমস্ত আলোচনার সময়ে দেশের নেতাদের জন্য পরিকল্পনা করা হয়েছে অনেক প্রসারিত সব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে “ঘড়ি মিলিয়ে নেওয়া”, তার মধ্যে রাষ্ট্রসঙ্ঘ, বড় কুড়ি অর্থনৈতিক ভাবে সমৃদ্ধ দেশের শীর্ষবৈঠক, এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ বৈঠক, ব্রিকস গোষ্ঠী, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষবৈঠক ইত্যাদি, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকার পরিস্থিতি নিয়ে মতামত বিনিময় ও নিকট প্রাচ্য এবং ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়েও মতামত বিনিময়.