দেশের প্রধানমন্ত্রীর উচিত্ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিত্ব করা. রাজনৈতিক “ব্যবস্থার ঊর্ধ্বে” থাকা নয়, বরং তার ভিতরেই থাকা – যার অর্থ হল দায়িত্ব নেওয়া. এই ভাবেই দিমিত্রি মেদভেদেভ নিজের পক্ষ থেকে দেশের বৃহত্তম দল ও লোকসভায় সর্বাধিক সদস্য আসন যুক্ত “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলে যোগদানের ও তার নেতৃত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বলেছেন. প্রশাসনের প্রধান সোমবারে ৪ঠা জুন রুশ টেলিভিশনের প্রথম চ্যানেলের “পোজনের” নামক সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠানের অতিথি হয়েছিলেন.

 সাংবাদিক ভ্লাদিমির পোজনের বিখ্যাত শুধু একজন সেরা সাক্ষাত্কার গ্রাহক বলেই বিখ্যাত নন (তাঁকে এই বছরে রুশ টেলিভিশন একাডেমী এই ভাবেই পুরস্কৃত করেছে). তিনি, অন্য সব বাদ দিলেও, টেলিভিশনে সেন্সরের বিষয়ে একজন সক্রিয় বিরোধী. নিজের অনুষ্ঠানে গত সপ্তাহে পোজনের স্বল্প কাল আগের “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের সম্মেলনের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন: তাঁকে অবাক করেছিল সেই ঐক্যমত, যা নিয়ে এই দলের সদস্যরা দলের প্রধানের পদে দিমিত্রি মেদভেদেভকে নির্বাচিত করেছিল. সাংবাদিক তখন প্রধানমন্ত্রীর প্রতি প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য রেখেছিলেন: স্টুডিওতে এসে এই অদ্ভুত ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে. আর তার পরেই ৪ঠা জুনের সন্ধ্যায় সরাসরি অনুষ্ঠানে দিমিত্রি মেদভেদেভের কাছে তিনি স্বীকার করেছেন, যে আশ্চর্য হয়েছেন: পোজনের আশা করেন নি যে, তাঁর নিমন্ত্রণে সাড়া দেওয়া হবে.

 সেই সব প্রশ্ন – তা ব্যক্তিগত ও রাজনৈতিক চরিত্রের হলেও – বেশ তীক্ষ্ণ ভাবেই রাখা হয়েছিল. সেখানে অবশ্যই বর্তমানের সাক্ষাত্কারের কারণ হওয়া “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া” দলের নেতা নির্বাচনের বিষয় নিয়ে কথা হয়েছে. নিজের পক্ষে মত দানের ব্যাপারে সকলের ঐক্য নিয়ে মেদভেদেভ ব্যাখ্যা করেছেন পুরনো পদ্ধতিতে দলের নেতার জন্য ভোট নেওয়া হয়েছে বলে. খুবই আসন্ন সময়ে তা হবে আরও গণতান্ত্রিক ভাবে. নিজের পক্ষ থেকে দেশের ক্ষমতাসীন দলের নেতা হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন:

 “কারণ এটাই দেখতে পাওয়া যাচ্ছে যে, আমি বিগত বছর গুলির মধ্যে রাশিয়াতে প্রথম দলীয় প্রধানমন্ত্রী. এটা একেবারেই সঠিক পরিস্থিতি. কারণ যখন তুমি সব সময়েই লড়াইয়ের উপরে থাকো, তখন দলের উন্নতি হয় না. প্রধানমন্ত্রীর উচিত্ নির্দিষ্ট রাজনৈতিক পথের প্রতিনিধিত্ব করা, আর তাঁর উচিত্ সেটা দলের ঊর্ধ্বে থেকে নয়, বরং দলের ভিতরে থেকেই করা. এর অর্থ হল যে, ঝুঁকি রয়েছে, কিন্তু একই সঙ্গে এটা একটা সত্ অবস্থান”.

 প্রধানমন্ত্রী সেই সমালোচনারও উত্তর দিয়েছেন, যা দেশের ক্ষমতাসীন দলের বিরুদ্ধে করা হয়েছে. তিনি স্বীকার করেছেন যে, “ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া”, যে রকম কিছু লোক বলে থাকেন, খুবই “গুরুতর ভাবে অসুখে” ভুগছে. তখন পোজনের মেদভেদেভকে তাঁরই ব্যক্তিগত ব্লগে করা উদ্ধৃতি পড়ে শুনিয়েছেন: “যদি বিরোধী পক্ষের সত্ লড়াইতে কোন রকম ভাবেই জয়ের সম্ভাবনা না থাকে, তাদের তখন অবনতি হয় ও তারা হয়ে দাঁড়ায় প্রান্তিক দল. কিন্তু যদি ক্ষমতাসীন দলের কোন সামান্যতম সম্ভাবনাও না থাকে হেরে যাওয়ার, তবে তারা স্রেফ ব্রোঞ্জের মূর্তিতে পরিণত হয় ও শেষ অবধি তাদেরও অবনতি হয়”. প্রধানমন্ত্রী স্বীকার করেছেন যে, তিনি আজও এই উক্তির প্রত্যেকটি শব্দের নীচে স্বাক্ষর করতে তৈরী. “ব্রোঞ্জ হয়ে যাওয়া”, অবশ্যই উঁকি দিচ্ছে. কিন্তু ঠিক সেই কারণেই দলের নেতৃত্ব দেওয়ার প্রসঙ্গ উঠেছে: তা বর্তমানে সংশোধনের প্রয়োজন বোধ করেছে, বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন দিমিত্রি মেদভেদেভ, তিনি বলেছেন:

 “দল শুধু কেন্দ্রীয় পরিষদের বা রাজনৈতিক উপদেষ্টা সভার শক্তিতে বলীয়ান নয়, বরং তার নীচের তলার কল কব্জাতেই বেশী শক্তিশালী, প্রাথমিক সমস্ত সংগঠনের মধ্যেই. এই তো আমাদের আসন্ন সময়ে দলের নিয়ন্ত্রণের পরিষদে ৮৫ হাজার নেতাকে বিভিন্ন সংগঠনের মধ্যেই বদলাতে হবে. তার মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের নেতারাও থাকবেন. বলতে পারি না যে, এটা সকলেরই ভাল লাগবে, কিন্তু এটা করা দরকার”.

 নতুন মন্ত্রীসভা নিয়েও কথা হয়েছিল. দিমিত্রি মেদভেদেভের কথা অনুযায়ী রাশিয়াতে “স্রেফ কার্যকরী” প্রধানমন্ত্রী হতে পারে না, যে রকম কিছু লোক বর্তমানের পরিস্থিতিকে ব্যাখ্যা করতে চাইছেন, সেই রকমের. প্রধানমন্ত্রী ব্যক্তিগত ভাবে নিজেই দায়িত্ব সহকারে দেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন. এই অনুষ্ঠানের প্রায় শেষে আর রাজনীতি নিয়ে কথা বলা হয় নি, বরং বলা হয়েছে ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে. নিজের প্রধান ইতিবাচক গুণ হিসাবে দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেছেন অধ্যবসায়ী হওয়া – কিন্তু উল্লেখ করেছেন যে, প্রায়ই তাঁর মধ্যে আসে খুবই বেশী কঠোর হওয়ার অভিমত. তিনি মানুষকে তাঁদের সেই সমস্ত খুঁত মাপ করে দিতে তৈরী আছেন, যা “চারপাশের লোক জনের জন্য ক্ষতিকর নয়”, - যেমন, “প্রচুর পরিমানে খাওয়া”. কিন্তু তিনি মিথ্যা ও বিশ্বাসঘাতকতা মাপ করে দিতে তৈরী নন.