রুশী দাবার স্কুল বিশ্বে অন্যতম সেরা, পৃথিবীর বহু দেশের প্রতিনিধি রাশিয়া থেকে. দাবা খেলা তারা শিখেছিল সোভিয়েত বিষেষজ্ঞদের কাছ থেকে অথবা তাদের সিস্টেমে.

      এখন ২০ বছর বয়সী বা বেশি বয়সের এরকম দাবাখেলাড়ুকে খুঁজে পাওয়া মুশকিল, যে সোভিয়েত দাবা স্কুলের সাথে যুক্ত ছিল না. বিশ্বনাথন আনন্দ ও বরিস গেলফান্দ, যারা সদ্য বিশ্বদাবার শিরোপা পাওয়ার জন্য লড়াই করেছে, তারাও এর ব্যতিক্রম নয় – বলছেন গ্রান্ডমাষ্টার ভ্লাদিস্লাভ তকাচোভ.

           আমরা সবাই এই মহান দাবা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক. ইন্টারন্যাশনাল মাষ্টার থেকে শুরু করে গ্রান্ডমাশ্টার পর্যন্ত পৌঁছানোর দক্ষতা বহুবছর ব্যাপী বিশ্ব চাম্পিয়ন মিখাইল বতভিন্নিক সংকলন করেছিলেন. তিনি একবারেই বরাবরের জন্য ব্যাখ্যা করে দিয়েছিলেন, যে কিভাবে গেম খেলতে হয়, নিজের ভুল কিভাবে বিশ্লেষণ করতে হয়, এবং কিভাবে নিজস্ব খেলায় পরিপুর্ণতা অর্জন করা যায়. আমরা সবাই ঐ উপদেশ ব্যবহার করি. এটা ফিজিক্সে নিউটনের তত্ত্বের মতো.

        রাশিয়া বিশ্বকে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গ্র্যান্ডমাষ্টার উপহার দিয়েছে, যাদের মধ্যে বহু বিশ্ব চ্যাম্পিয়নও ছিল. ভ্লাদিস্লাভ তকাচোভ বলে চলেছেন, যে আমেরিকা, ইস্রায়েল, জার্মানী, ফ্রান্সের জাতীয় দাবাদলের তালিকা দেখলেই সেটা বোঝা যাবে.

       ঐ সব দেশের জাতীয় দাবা দলগুলির অর্ধেক থেকে একশোভাগ দাবাড়ুর জন্ম ও শিক্ষা সোভিয়েত ইউনিয়নে. আমরা বোধহয় পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি সেরা দাবাড়ুদের সরবরাহ করি. খানিকটা বিষন্ন লাগে এই কারণেই, যে ৯০-দশকের পরে সোভিয়েত দাবার স্কুল ধ্বংস হয়ে গেছে.

    ফিডের শ্লোগান – “আমরা সবাই – এক পরিবার”. যে কোনো টুর্ণামেন্টে রুশ ভাষা ইংরাজী ভাষার পরেই দ্বিতীয় ভাষা হিসাবে ব্যবহৃত হয়, আর কখনো কখনো মুখ্য ভাষা. তকাচোভ বলে চলেছেন দাবার কাফে, টুর্ণামেন্টের হলে রুশী ভাষা সর্বত্র ও সর্বদা শোনা যায়.

           এই সবকিছু শুরু হয়েছিল রবার্ট ফিশারকে দিয়ে, যিনি ব্যক্তিগতভাবে রুশ ভাষা শিখেছিলেন, দাবার উপরে সাপ্তাহিক ও মাসিক রুশী পত্রিকাগুলি পড়বার জন্যে. অতঃপর এটা মর্যাদাজনক. আনন্দ বা নাকামুরে হয়তো গড়গড় করে রুশী বলতে পারে না, কিন্তু দাবা সম্পর্কিত সব শব্দ রুশ ভাষায় চমত্কার জানে এবং দাবা সম্পর্কিত যে কোনো পত্রিকা রুশ ভাষায় অনায়াসে পড়তে পারে.

     মস্কোর ত্রেতিকোভ আর্ট গ্যালারিতে সম্প্রতি দাবার যে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ হয়ে গেল ভিশি আনন্দ ও বরিস গেলফান্দের মধ্যে, সেই ম্যাচ সম্ভবত বিশ্বে দাবার নতুন অনুরাগীদের সৃষ্টি করেছে. আর রাশিয়ার তরুন দাবাড়ুরা শুধু ফাইন্যাল ম্যাচের দিকেই লক্ষ্য রাখেনি, যেখানে আনন্দ চরম লড়াই লড়ে জিতেছে, দাবার বোর্ডেও নিজেদের ক্ষমতা পরখ করে দেখেছে. রাশিয়ার প্রখ্যাত দাবাড়ু গ্র্যান্ডমাষ্টাররা ওয়ার্কশপের এবং একই সময়ে অনেকের সাথে খেলার ম্যাচের আয়োজন করেছিলেন. ঐ রকম খ্যাতনামা দাবাড়ুদের কাছে পরাজয় বরন করাও লজ্জাস্কর নয়.