“আরব বসন্তের” ঘটনা, আফগান সমস্যার জটিলতা বৃদ্ধি, কোরিয়া উপদ্বীপ এলাকায় কঠিন পরিস্থিতি প্রাথমিক ক্ষেত্রে ইউরো- এশিয়া অঞ্চলের নিরাপত্তা সংক্রান্ত প্রশ্নকে সামনে এগিয়ে দিয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা, তার বর্তমানের অবস্থানে, যেখানে সামরিক জোট তৈরী করা বাদ দেওয়া হয়েছে, তখন ক্রমবর্ধমান আশঙ্কা গুলির প্রতি সফল ভাবে প্রতিক্রিয়া করতে পারে কি? রাশিয়া, চিন, কিরগিজিয়া, কাজাখস্থান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানকে একত্রিত করা এই সংস্থার বেজিং শীর্ষ বৈঠকের আগে এই ধরনের ও আরও অন্যান্য প্রশ্ন নিয়ে রেডিও কোম্পানী “রেডিও রাশিয়া” সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সাধারন সম্পাদক মুর্তাবেক ইমানালিয়েভের কাছে উপস্থিত হয়েছিল.

 বর্তমানের পরিবর্তনশীল বিশ্বে, যেখানে অর্থনৈতিক সঙ্কট ও নাগরিকদের অর্থনৈতিক স্বাচ্ছন্দ্যের খারাপ পরিস্থিতি তাদের বাধ্য করছে গণ সমাবেশ করতে, তখন সেই ধরনের সংস্থার ভূমিকা, যার মধ্যে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা পড়ে, তা অনেক বেড়েছে. অন্তত তাদের নির্দিষ্ট রকমের বিনিয়োগ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা রয়েছে, যা শুধুমাত্র এই জোটের সদস্য দেশ গুলিরই সমস্যা সমাধান করার ক্ষমতা রাখে না, বরং এই সমগ্র এলাকারই রাখে. আর এটা বিশেষ করে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা সম্বন্ধে বলা যেতে পারে, যেখানে এই এলাকার শান্তি ব্যাহত করছে আজ বহু বছর ধরেই আফগানিস্তান. আর তাই কাবুলের পক্ষ থেকে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার পর্যবেক্ষক দেশ হওয়ার জন্য আবেদন সহায়তা করবে ফলপ্রসূ ভাবে আফগান সমস্যা সমাধানের, এই রকম মনে করে সংস্থার সাধারন সম্পাদক মুর্তাবেক ইমানালিয়েভ বলেছেন:

 “আফগানিস্তানের পরিস্থিতি সত্যই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশগুলিকে উদ্বিগ্ন করে, ঠিক তেমন ভাবেই, যা অন্যান্য দেশ গুলির ক্ষেত্রেও বলা যেতে পারে. কারণ আফগানিস্তান, এটা শুধু আঞ্চলিক সমস্যা নয়. আর এই পরিস্থিতির সঙ্গে মোকাবিলা করা যেতে পারে, শুধু ঐক্যবদ্ধ ভাবেই শক্তি প্রয়োগ করে. তাই সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা নিজেদের লক্ষ্য হিসাবে রেখেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংগঠনের সঙ্গে সরাসরি সহায়তা করা  যাতে, আফগানিস্তানের মানুষদের, প্রশাসনকে সেই সব বিষয়ে সাহায্য করা সম্ভব হয়, যা বর্তমানে তাদের সামনে রয়েছে. দ্বিপাক্ষিক ভাবে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার দেশ গুলি আফগানিস্তানকে তাদের সামাজিক – অর্থনৈতিক সমস্যা, মানবিক সমস্যা, যা এই দেশে উদ্ভূত হয়েছে, তা সমাধান করার বিষয়ে বড় রকমের সহায়তা করে থাকে. এখন আমরা আফগানিস্তানের প্রশাসনের তরফ থেকে আবেদনে আমাদের সংস্থায় পর্যবেক্ষক হওয়ার মর্যাদা পাওয়া নিয়ে যে সমস্যা রয়েছে, তার সমাধান করছি. এই ধরনের মর্যাদা আফগানিস্তানকে আমাদের সংস্থার সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠ ভাবে সহযোগিতা করার সুযোগ করে দেবে”.

 কিন্তু আফগানিস্তান এটাই একমাত্র দেশ নয়, যারা সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার কাছে আসতে চেয়েছে. ইরানের তরফ থেকেও এবং আরও অন্যান্য কিছু দেশের তরফ থেকেও এই ধরনের আবেদন এসেছে. আর এতে কোনই আশ্চর্য হওয়ার মতো কিছু নেই, কারণ সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা – এটা একটা খোলামেলা সংস্থা, আর এর ফলে তার সদস্য সংখ্যাও বাড়তে পারে. যদিও সব সময়ে এই ধরনের আবেদন পত্র খুব দ্রুত বিচার করা সম্ভবপর হয়ে ওঠে না, অংশতঃ এটা ইরানের আবেদন সম্বন্ধে বলা যায়, এই কথা উল্লেখ করে মুর্তাবেক ইমানালিয়েভ বলেছেন:

 “ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের আবেদন পত্র, অন্যান্য দেশ গুলির থেকে দেওয়া আবেদনের মতই, আপাততঃ আমাদের স্থায়ী মনোযোগের মধ্যে রয়েছে. কিন্তু একটি “কিন্তু” রয়েছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার সনদে একটি ছত্র রয়েছে, সে অনুযায়ী এই সংস্থার সদস্য হতে পারে শুধু সেই দেশই, যাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রসঙ্ঘের কোনও নিষেধাজ্ঞা নেই. আর ইরানের বিরুদ্ধে তা আছে. কিন্তু এর মানে এই নয় যে, সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার আলোচ্যের তালিকা থেকে ইরানের আবেদন বাতিল করে দেওয়া হয়েছে”.

 একই ভাবে বর্তমানে সংস্থা বিশেষ করে সক্রিয় হয়েছে অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে, এই কথা উল্লেখ করেছেন মুর্তাবেক ইমানালিয়েভ, প্রসঙ্গতঃ এই বিষয়ে সংস্থা পর্যবেক্ষক দেশ গুলি ও আলোচনায় সহকর্মী দেশ গুলিকেও আহ্বান করেছে.