সিরিয়ার হুলা শহরে ১০০ জনেরও অধিক নিরীহ মানুষ হত্যার ঘটনা যা পশ্চিমা ও দামাস্কাসের মধ্য গভীর ফাটল সৃষ্টি করেছে. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে এ প্রশ্নের আলোচনায় পুনরায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে বিভক্ত করে দিয়েছে.

    সিরিয়া সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে অংশ নিতে অস্বীকার করায় হুলা শহরের বেসামরিক মানুষদের হত্যা করেছে অস্ত্রধারীরা. এ ঘটনার তদন্তের ফলাফলে এমন সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে দামাস্কাসের তদন্তকারী দল. তবে, জাতিসংঘে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি সিউজান রাইস এ ফলাফলকে সম্পূর্ণ মিথ্যা বলে দাবী করেছেন.

    এ ধরণের মন্তব্য যে করা হবে তা অনেকটা পূর্বেই জানা ছিল. আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্র ইএমএএমও এর বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ অবশ্য এমনটিই বললেন. তার ভাষায়, কে এই ঘটনার জন্য দায়ী তা জানতে এমন কি জাতিসংঘের তদন্তের জন্যও অপেক্ষা করা হয় নি. অন্তত ২০টি পশ্চিমা দেশ ও জাপান সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তাদের দেশ থেকে বহিষ্কার  করেছে.

     ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশের রাজধানী থেকে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কার করা যা সত্যিই নজিরবিহীন ঘটনা. ওই সব পশ্চিমা দেশের দেওয়া আন্তর্জাতিক আইন সিরিয়া মেনে নিচ্ছে না. তারাও সিরিয়ার বিপক্ষে যুদ্ধ ঘোষণা করে নি এবং সিরিয়াও তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে নি’.

    যদিও সিরিয়ার সংকট নিজেদের মত করে সমাধান করার জন্য পশ্চিমাদের এটিও প্রথম চেষ্টা নয়. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে উপেক্ষা করে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার বিপক্ষে সামরিক হস্তক্ষেপ করার ঘোষণা দিয়েছে.

    সত্যি বলতে কি, ঠিক ১ দিন পরই মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লিওন পানেত্তা কিছুটা বিনয় সহকারে এই বিবৃতি দিয়েছেন. তবে তিনি সিরিয়ায় মার্কিন সামরিক অভিযান শুরু করার বিষয়টি একেবারে এড়িয়ে যান নি. তবে জাতিসংঘ নিরাপত্তার রেজুলেশন অনুযায়ী তা হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন. তবে এক্ষেত্রে পানেত্তা ভাল করেই জানেন যে, সিরিয়ার অভ্যন্তরে বিদেশী হস্তক্ষেপ হোক তাতে রাশিয়া ও চীন ভোট দিবে না. এমনটি বলেছেন প্রাচ্যতত্ত্ব ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির ইসায়েভ. তিনি বলেছেন,

‘এখানে সত্যের চেয়ে বাহাদুরি বেশী দেখা যাচ্ছে. জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে উপেক্ষা করে কার্যক্রম পরিচালনা করার অর্থ কি?. তাহলে বলা যেতে পারে যুগোস্লোভিয়া অথবা ইরাকের কথা. তবে বাস্তবিক অর্থে, সেই দিন শেষ হয়ে গেছে. নির্বাচনের ঠিক পূর্বে আবারও একটি যুদ্ধে জড়িত হওয়া বারাক ওবামার কোনই প্রয়োজন নেই’.

    সিরিয়ায় সামরিক চিত্র উপেক্ষা করে জাতিসংঘ ও আরব লিগের বিশেষ দূত কফি আনানের প্রস্তাব বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করতে হবে. সিরিয়ার সংকট সমাধানের জন্য এটাই একমাত্র উপায় বলে মস্কো তাই মনে করছে. এমনটি বলেছেন রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রনালয়ের কূটনৈতিক একাডেমীর প্রাচ্য গবেষণা সেন্টারের পরিচালক আন্দ্রেই ভালোদিন. তিনি বলেছেন,

'সামরিক চিত্রপটের কথা যদি বলা হয় তাহলে তা হবে সত্যিই ধংসাত্মক শুধুমাত্র পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর জন্যই নয় বরং তুরস্কের জন্য সমান বিপদ হবে. তাছাড়া একইভাবে তা পারস্য উপসাগরীয় তেল সমৃদ্ধ দেশগুলো ও পশ্চিমাদের জন্য বিপদের উত্স হবে. আমি মনে করি, মস্কো এই সব প্রতিকূল বিষয়বলী নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে'.

   একই সাথে মস্কো পূনরায় জানাল যে, রাশিয়া বাশার আসাদ এবং তার বিপক্ষের কাউকেই সমর্থন করছে না. প্যারিসে ফ্রান্সের রাষ্ট্রপতি ফ্রাঁন্সোয়া ওলান্দের সাথে বৈঠকের পর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা বলেছেন রুশ রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন. পুতিন পুনরায় উভয় পক্ষকে সংঘাতের পথ পরিহার করে আলোচনার টেবিলে বসার আহবান জানিয়েছেন.