রেডিও রাশিয়ার উদ্যোগে রাষ্ট্রদূতদের এক সাক্ষাত্কার অনুষ্ঠিত হয়ে গেল. গ্রীষ্মের ১ম দিনে এ আলোচনায় আরব বসন্তের পর ভবিষ্যত আরব বিশ্ব কেমন হবে তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে.

   রাশিয়ায় নিযুক্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও রাশিয়ার সহকারি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মিখাইল বাগদানোভ ওই আলোচনায় অংশ নিয়েছেন. মন্ত্রীর ভাষায়, আরব বসন্তের পর মধ্যপ্রাচ্যে পরিবর্তন ঘটলেও ওই অঞ্চলের সাথে রাশিয়ার পররাষ্ট্রনীতির কোন পরিবর্তন ঘটে নি. মিখাইল বাগদানোভের ভাষায়, মস্কো চাচ্ছে যে, সংঘাতে জড়িত পক্ষগুলোর মাঝে একটি সমঝোতা তৈরী করা. মিখাইল বাগদানোভ বলেছেন, “যদি মধ্যপ্রাচ্যে রাশিয়ার নতুন পররাষ্ট্রনীতি নিয়ে কথা বলা হয়, তাহলে বলতে হয় তাতে কিছুটা নতুনত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে. সঙ্গত কারণেই, আরব বসন্তে ঘটে যাওয়া ঘটনাবলী নিয়ে আমাদের সুনির্দিষ্ট কর্মপ্রনালী অপরিবর্তন রয়েছে. এ অঞ্চলের জনগনের কষ্ট, উন্নত জীবনের চেষ্টা, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও ন্যায্য অধিকার প্রভৃতি বিষয়বলী আমরা গভীর শ্রদ্ধার সাথে দেখি. একই সাথে আমরা চাচ্ছি যে, কোন প্রকার বিদেশী হস্তক্ষেপ ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোর অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সমাধান জাতীয় সংলাপের মাধ্যমেই শান্তিময় পরিবেশে হওয়া উচিত”.

    মিশর বেশ ইতিবাচক দৃষ্টিতে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখছে. রাশিয়ায় নিযুক্ত মিশরীয় রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ আল্লা এলদিন আলি শাভকি এলহাদিদি সে দেশের বিপ্লবকে মিশরের জনগনের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও বিশ্বাসের ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন.

 রাষ্ট্রদূত বলেছেন, “মিশরে এখন ব্যাপক পরিবর্তন ঘটছে. একটা সীমান্তের অতিক্রম ঘটেছে যা নতুন পটভূমির সূচনা করল. মিশরীয়রা বলে থাকেন, সর্বশেষ ফেরাউনের শাসনকাল এবং এ বিপ্লব তার বিরুদ্ধে সত্যিই একটি অলৌকিক ঘটনা”.

     যদিও দেশগুলোতে পরিবর্তনের এই পটভূমিতে বিদেশী রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ একটি বড় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে, যারা মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের ফায়দা লুটতে চাচ্ছেন.

এমনটি বলেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত সিরিয়ার রাষ্ট্রদূত রিয়াদ হাদ্দাদ.

“মধ্যপ্রাচ্য আজ বেদনাদায়ক আর কঠিন একটা সময় পার করছে. অত্যন্ত তাত্পর্যপূর্ণ পরিবর্তন ঘটছে. আর এ করণেই এখান থেকে সুযোগ নিতে যাচ্ছে বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলো. কারণ আমাদের অঞ্চল তেল এবং অন্যান্য ক্ষনিজ সম্পদে পরিপূর্ণ.  আমি বেশ কয়েকটি দেশের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষন করতে চাচ্ছি যারা আরব বিশ্বে নিজেদের লাভ খুঁজছে. বিদেশী রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ এ অঞ্চলে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে যা আমাদের অঞ্চলকে বেশ প্রভাবিত করছে”.

   আরব দেশগুলোতে সমর্থন জানানোকে রাশিয়ার জন্য কঠিন সময় বলে উল্লেখ করেছেন রাশিয়ায় নিযুক্ত মরোক্কোর রাষ্ট্রদূত আবদেলকাদের লেশেখেব. তিনি বলেছেন, “অতীতের দিনগুলো আমাদের সবার জানা আছে. আমাদের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ছিল. আমাদের উচিত হবে অবশ্যই এ ধারাবাহিকতা  রক্ষা করা. আমাদের দুটি দেশের জনগনের ঠিক একই চাওয়া. রাশিয়া হচ্ছে জনগনের বন্ধু, কোন শাসকের বন্ধু নয়. কারণ হচ্ছে, শাসক একদিন চলে যাবেন কিন্তু জনগন থেকে যাবে. আমি কোন নির্দিষ্ট শাসকের কথা বলছি না বরং সামগ্রিক অর্থে বলছি. আমি চাইছে, আরব বিশ্বের জনগনের সাথে রাশিয়ার সম্পর্ক বহাল থাকুক”.

     আরব বসন্ত নামের এ বিপ্লব যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অস্থির করে তুলেছে তা প্রথম তিউনেশিয়ায় শুরু হয়েছিল ২০১০ সালের ১৮ ডিসেম্বর. মিসরে ও তিউনেশিয়ায় বিপ্লবের পর লিবিয়ায় শুরু হয় গৃহযুদ্ধ এবং সাথে সাথে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশেও চলতে থাকে গনবিক্ষোভ. এ বিপ্লব ওই অঞ্চলের চারটি দেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে অপসারণ করেছে. মধ্যপ্রাচ্য  ও উত্তর আফ্রিকায় আরব বসন্তে প্রায় ৫৫ হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন এবং এ অঞ্চলে এখনও অস্থিরতা বহাল রয়েছে.