এল – হুলা গ্রামে শান্তিপ্রিয় শতাধিক সিরিয়ার নাগরিকের মারণযজ্ঞ সরকার বিরোধী গোষ্ঠীর লোকরা করেছে, কারণ সেই সব মানুষরা সিরিয়ার প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভ্যুত্থানে যোগ দিতে চায় নি. এই ধরনের প্রাথমিক রিপোর্ট দিয়েছে এক তদন্ত কমিশন, যাদের দামাস্কাসের তরফ থেকে নিয়োগ করা হয়েছিল গত সপ্তাহের এই ট্র্যাজেডির কারণ নির্ধারণের জন্য.

 সিরিয়া তদন্ত কমিশনের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাসিম জামাল সুলেইমান বিশদ করে বলেছেন যে, এই গণ হত্যার লক্ষ্য হয়েছিল, অংশতঃ সম্পূর্ণ পরিবারের লোক জনেরা, যারা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে বিরোধ করেছিল. তাছাড়া, জেনারেল এই মতকে মেনে নিতে চান নি, যেখানে বলা হয়েছে যে, কিছু মানুষের মৃত্যু হয়েছে কামানের গোলা ছোঁড়া হয়েছে বলে. তিনি ব্যাখ্যা করেছেন যে, এই বিষয়ে পরীক্ষা করে যে ফল পাওয়া গিয়েছে, তা এই ধরনের মতকে সমর্থন করার মতো নয়.

 সিরিয়ার প্রশাসনের ঘোষণা  - মিথ্যা, প্রত্যুত্তরে ঘোষণা করেছেন রাষ্ট্রসঙ্ঘে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্থায়ী প্রতিনিধি স্যুজান রাইস. তাঁর কথামতো, দামাস্কাসকে বিশ্বাস করার মতো কোন ভিত্তি নেই. রাষ্ট্রসঙ্ঘের মিশনের পক্ষ থেকে সিরিয়া সংক্রান্ত পর্যবেক্ষকদেরও কোন নিষ্পত্তি বিষয়ক মত দেওয়া হয় নি – যেমন নিজেদের পক্ষ থেকে তদন্ত করার মতও তাদের কাছে কোন ব্যবস্থা নেই.

 ফলে পশ্চিমের অবস্থান নির্ভর করছে স্থানীয় লোকদের মধ্যে থেকে নাম গোত্র হীন বিরোধীদের প্রতিনিধিদের জবানবন্দির উপরে. তারা নাকি বলেছে যে, সাধারন লোকদের উপরে গুলি চালিয়েছে শাবিহা নামের প্রশাসনের সমর্থক জঙ্গী গোষ্ঠীর লোকরা.

 “রেডিও রাশিয়ার” জন্য এই পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমীর প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষক ভ্লাদিমির সোতনিকভ, তিনি বলেছেন:

 “সিরিয়ার প্রশাসনের ঘোষণা যে, জঙ্গীরা সিরিয়ার গ্রামে ২৫ ও ২৬শে মে রক্তাক্ত মারণযজ্ঞ করেছিল, তা অর্থহীন নয়. পরিস্থিতি এই রকমের যে, সেনা বাহিনী ও প্রশাসনের পক্ষে মিথ্যা বলার অর্থ হয় না. খুবই সম্ভবতঃ, এই বারের গণ হত্যার সঙ্গে সত্যই জঙ্গীরা যুক্ত ছিল. আর আরও সম্ভবতঃ, সেই সব লোকরা, সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের সবচেয়ে চরমপন্থী লোক”.

 তা স্বত্ত্বেও, এল- হুলার ট্র্যাজেডি পশ্চিমের তরফ থেকে দামাস্কাসের উপরে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছে. দশটিরও বেশী দেশ থেকে সিরিয়ার রাষ্ট্রদূতদের বের করে দেওয়া হয়েছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ বৃহস্পতিবারে সিরিয়ার বিরুদ্ধে নতুন আরও নিষেধাজ্ঞা জারী করেছে. এই সব পদক্ষেপ ব্যাখ্যা করে কেন পশ্চিমের তরফ থেকে দামাস্কাসের এল- হুলা শহরের মারণযজ্ঞ নিয়ে প্রাথমিক তদন্তের ফলকে একেবারে চৌকাঠ থেকেই বিদায় করে দেওয়া হয়েছে. পশ্চিমের রাজনীতিবিদদের এখন মোটেও আগ্রহ নেই জানার যে, আসলে এই গ্রামে কি হয়েছিল – তার ওপরে যদি সত্য তাদের ধারণার সঙ্গে না মেলে, তাহলে তো আরও বেশী করেই.

 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন প্যানেত্তা শুক্রবারে আগের মতই আমেরিকার সেনা বাহিনীর সিরিয়াতে যুদ্ধে অংশ নেওয়ার বিষয় নিয়ে কোন নেতিবাচক কথা বলেন নি. কিন্তু তিনি অবশ্য কথা ঘুরিয়ে বলেছেন যে, এটা ঘটবে শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের তরফ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তবেই. যা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়: রাশিয়া ও চিন আগের মতই সিরিয়ার বিষয়ে সামরিক হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে.