১লা জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী লিওন প্যানেত্তা নয় দিন ব্যাপী এক এলাকা সফর শুরু করেছেন. তিনি সিঙ্গাপুরের শাংগ্রিলা আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এশিয়া সংক্রান্ত স্ট্র্যাটেজি উপস্থাপন করতে চলেছেন, আর তার পরে যাচ্ছেন ভিয়েতনাম ও ভারত. এই সূত্রে চিনের তরফ থেকে এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাদের আইন সঙ্গত স্বার্থের মর্যাদা দিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান করা হয়েছে ও নিজেদের বিমান বাহী জাহাজকে পরীক্ষার জন্য সমুদ্রে পাঠানো হয়েছে.

 গত বছরে শাংগ্রিলা আলোচনায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চিনের মধ্যে খুবই তীক্ষ্ণ কথার লড়াই হয়েছিল. ওয়াশিংটন বেজিংকে দোষ দিয়েছিল এই এলাকায় নিজেদের সামরিক পেশী প্রদর্শন করার জন্য ও সামরিক খাতে বহুল পরিমানে ব্যয় বরাদ্দ বাড়ানোর জন্য. তার উত্তরে শুনেছে – চিন সেই নিয়ম মেনেই খেলছে, যা তাদের বর্তমানের ভূ-রাজনৈতিক ভূমিকার উপযুক্ত হওয়া থেকে উদ্ভূত হয়েছে.

 এই বারে সিঙ্গাপুরে পেন্টাগনের প্রধান এশিয়াতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নতুন স্ট্র্যাটেজি উপস্থাপন করতে চেয়েছেন. তা আধ বছর আগে প্রথম বলা হয়েছিল ও তাতে এই এলাকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করে চিনের প্রভাবকে প্রসারিত না হতে দেওয়ার কথা রয়েছে. বৃহস্পতিবারে গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সরকারি মুখপাত্র লিউ ভেইমিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে চিনের স্বার্থ ও উদ্বেগের বিষয়ে মর্যাদা দিতে আহ্বান করেছেন ও এশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় গঠন মূলক ভূমিকা পালন করতে বলেছেন. এই প্রসঙ্গে বেজিং একাধিকবার ঘোষণা করেছে: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই এলাকায় ফিরে আসার লক্ষ্য সেখানে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রাখার সঙ্গে সমাপতিত হয় না. এই প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও সম্পর্ক ইনস্টিটিউটের আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই আরবাতভ বলেছেন:

 “আরও বেশী করেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র চিনের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বিষয়ে মনোযোগ দিচ্ছে. এর অর্থ এই নয় যে, তারা যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে. কিন্তু তারা মনে করে যে, সামরিক ভাবে চিনকে আটকে রাখা হলে তা অবশ্যই এমন কঠোর ভাবে করা দরকার, যাতে নিজেদের ক্রমবর্ধমান উচ্চাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য চিন শক্তি প্রয়োগ না করে, যা তাদের সুবিশাল অর্থনৈতিক স্বার্থের সঙ্গেই জড়িত. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্র্যাটেজিক শক্তি আরও বেশী করেই চিনকে আটকে রাখার জন্য বৃদ্ধ করা হচ্ছে. আজই তাদের বেশীর ভাগ স্ট্র্যাটেজিক পারমানবিক ডুবোজাহাজ আর অতলান্তিকে নেই, বরং রয়েছে প্রশান্ত মহাসাগরে, অর্থাত্ চিনের কথা মনে করে. একই ভাবে বলা যেতে পারে তাদের রকেট বিরোধী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে, যা চিনের রকেট আঘাত হানার বিরুদ্ধে তৈরী করা হয়েছে”.

 শাংগ্রিলা আলোচনায় সিঙ্গাপুরে আশা করা হয়েছে চিন ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে নতুন করে বিরোধ লাগবে. এটা গণ প্রজাতন্ত্রী চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের সরকারি মুখপাত্র ইয়ান ইউত্সজ্যুন বুঝতে দিয়েছেন.বৃহস্পতিবারে তিনি বেজিংয়ে বলেছেন যে, চিন শাংগ্রিলা আলোচনায় সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে, যা তারা মনে করে বিতর্কের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ.. তারই মধ্যে চিনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রকে চিনের প্রতিনিধি দলের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল ঝেন হাইত্সুআনের সঙ্গে লিওন প্যানেত্তার সম্ভাব্য সাক্ষাত্কারের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে.

 এখানে এটা স্পষ্ট যে, পরবর্তী কালে চিন তৈরী রয়েছে খুবই জোর দিয়ে কাজ করতে. একেবারেই আচমকা নয় যে, এখন খোলা সমুদ্রের পরীক্ষা মূলক যাত্রায় রয়েছে তাদের বিমান বাহী যুদ্ধ জাহাজ. এটাই জের দিয়ে প্রমাণ করে, বৃহস্পতিবারে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা মন্ত্রক তাদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছে যে, চিন খুবই গুরুত্ব দিয়ে নিজেদের বিমান বাহী নৌবহর বৃদ্ধি করছে. এই বিষয়ে তারা এখনও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারে না উপযুক্ত রকম ভাবে, কিন্তু তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা একেবারেই স্পষ্ট দেখতে পাওয়া যাচ্ছে. তার উপরে একই সঙ্গে চিন পরীক্ষা করছে, তাদের রকেট ব্যবস্থা, যা দিয়ে সামুদ্রিক লক্ষ্য ধ্বংস করা সম্ভব হয়, তারা পঞ্চম প্রজন্মের যুদ্ধ বিমান সৃষ্টি করছে ও খুবই সক্রিয়ভাবে নিজেদের ডুবোজাহাজ বাহিনীর আধুনিকীকরণ করছে.